জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ্য কর:

A = T G = C T = A | M   ——→ | U C A | N   ——→ | Biomolecule

  1. ক)

    স্প্লাইসিং কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বাধ্যতামূলক অন্তঃপরজীবী বলতে কী বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'M' প্রক্রিয়াটি বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'M' ও 'N' প্রক্রিয়ার মধ্যে তুলনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাক-mRNA (pre-mRNA) থেকে ইন্ট্রনসমূহ (অকার্যকর অংশ) কেটে বাদ দিয়ে এক্সনসমূহকে (কার্যকর অংশ) পরস্পর যুক্ত করে কার্যকরী পরিপক্ব mRNA তৈরির প্রক্রিয়াকে স্প্লাইসিং (Splicing) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব পরজীবী তাদের জীবনচক্র সম্পন্ন ও বংশবৃদ্ধির জন্য পোষকদেহের অভ্যন্তরে একান্তভাবে নির্ভরশীল এবং সজীব পোষককোষ ছাড়া স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে বা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে না, তাদের বাধ্যতামূলক অন্তঃপরজীবী বলে। যেমন— ভাইরাস। ভাইরাস সজীব পোষকদেহের অভ্যন্তরে সজীব বৈশিষ্ট্য (যেমন: বংশবৃদ্ধি) প্রদর্শন করে, কিন্তু পোষকদেহের বাইরে জড় বস্তুর মতো নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে DNA থেকে mRNA তৈরি হওয়া অর্থাৎ 'M' প্রক্রিয়াটি হলো ট্রান্সক্রিপশন (Transcription)।

    ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াটি প্রধানত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়:
    ১. প্রারম্ভিক পর্যায় (Initiation): RNA পলিমারেজ এনজাইম DNA অণুর প্রমোটর অঞ্চলে যুক্ত হয়ে DNA-এর ডাবল হেলিক্সের হাইড্রোজেন বন্ধন ভেঙে নির্দিষ্ট অংশ খুলে দেয়। এতে টেমপ্লেট বা ছাঁচ হিসেবে ব্যবহৃত ৩'→৫' DNA সূত্র উন্মুক্ত হয়।
    ২. দীর্ঘকরণ পর্যায় (Elongation): RNA পলিমারেজ DNA টেমপ্লেট অনুযায়ী সম্পূরক রাইবোনিউক্লিওটাইড ট্রাইফসফেট (ATP, UTP, GTP, CTP) যুক্ত করে ৫'→৩' অভিমুখে একটি একক সূত্রক RNA চেইন বর্ধিত করে (এখানে অ্যাডেনিনের বিপরীতে ইউরাসিল যুক্ত হয়)।
    ৩. সমাপ্তিকরণ পর্যায় (Termination): RNA পলিমারেজ DNA-এর সমাপ্তি সংকেত (টার্মিনেটর ক্রম)-এ পৌঁছালে নবগঠিত mRNA শিকল মুক্ত হয়ে যায় এবং RNA পলিমারেজ DNA সূত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে প্রাক-mRNA প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পরিপক্ব mRNA-তে পরিণত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'M' প্রক্রিয়াটি হলো ট্রান্সক্রিপশন (DNA থেকে mRNA তৈরি) এবং 'N' প্রক্রিয়াটি হলো ট্রান্সলেশন (mRNA থেকে প্রোটিন বা জৈব অণু সংশ্লেষণ)। নিম্নে প্রক্রিয়া দুটির মধ্যে তুলনা করা হলো:

    ১. সংজ্ঞা ও প্রকৃতি: DNA-এর নির্দেশ অনুযায়ী পরিপূরক ক্ষারক বিন্যাসবিশিষ্ট mRNA তৈরির প্রক্রিয়াকে ট্রান্সক্রিপশন বলে। অন্যদিকে, mRNA-তে থাকা জেনেটিক কোড অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট অ্যামাইনো এসিড শৃঙ্খল যুক্ত করে পলিপেপটাইড বা প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়াকে ট্রান্সলেশন বলে।
    ২. সংঘটনস্থল: ইউক্যারিওটিক কোষে ট্রান্সক্রিপশন নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে ঘটে। পক্ষান্তরে, ট্রান্সলেশন কোষের সাইটোপ্লাজমে রাইবোজোমের ওপর সংঘটিত হয়।
    ৩. মূল ছাঁচ বা টেমপ্লেট: ট্রান্সক্রিপশনে DNA-এর একটি সূত্রক (অ্যান্টিসেন্স স্ট্র্যান্ড) টেমপ্লেট বা ছাঁচ হিসেবে কাজ করে। ট্রান্সলেশনে mRNA অণুটি ছাঁচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
    ৪. মূল উৎসেচক ও উপাদান: ট্রান্সক্রিপশনের প্রধান এনজাইম হলো RNA পলিমারেজ এবং কাঁচামাল হিসেবে রাইবোনিউক্লিওটাইড ব্যবহৃত হয়। ট্রান্সলেশনের ক্ষেত্রে রাইবোজোম, tRNA, পেপটাইডিল ট্রান্সফারেজ এবং অ্যামাইনো এসিড অপরিহার্য।
    ৫. উৎপন্ন বস্তু: ট্রান্সক্রিপশনের চূড়ান্ত উৎপাদ হলো বিভিন্ন প্রকার RNA (প্রধানত mRNA)। অন্যদিকে, ট্রান্সলেশনের চূড়ান্ত উৎপাদ হলো পলিপেপটাইড বা প্রোটিন অণু।

    সুতরাং, ট্রান্সক্রিপশন ও ট্রান্সলেশন উভয়ই সেন্ট্রাল ডগমার দুটি অপরিহার্য ধাপ, যেখানে ট্রান্সক্রিপশনে তথ্য স্থানান্তরিত হয় DNA থেকে RNA-তে এবং ট্রান্সলেশনে সেই তথ্য প্রকাশিত হয় কার্যকর প্রোটিন হিসেবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন