সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. হাসান দীর্ঘদিন পর তার গ্রামে গিয়ে দেখলেন গ্রামের চেহারা আগের মতো নেই। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, টেলিভিশন এবং লোকজনের হাতে হাত মোবাইল যা গ্রামীণ জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে।
- ক)(1)
জ্ঞাতি সম্পর্ক কী?
- খ)(2)
বংশগতির প্রভাব বুঝিয়ে বল।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মি. হাসানের গ্রামের পরিবর্তনে সমাজজীবনে প্রভাববিস্তারকারী কোন উপাদানের ভূমিকা রয়েছে? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত উপাদানটি সামাজিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি। বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রক্তের সম্পর্ক, বিবাহবন্ধন অথবা দত্তক গ্রহণের মাধ্যমে সমাজে মানুষের মধ্যে যে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তাকে জ্ঞাতি সম্পর্ক (Kinship) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পিতামাতার মাধ্যমে তাদের শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্যসমূহ জিন বা ক্রোমোজোমের মাধ্যমে সন্তানে সঞ্চারিত হওয়াকে বংশগতি বলে। সমাজবিজ্ঞানে ব্যক্তির দৈহিক গঠন, গায়ের রং, বুদ্ধিমত্তা, স্বভাব-চরিত্র ইত্যাদির বিকাশে বংশগতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের মৌলিক জৈবিক সক্ষমতা নির্ধারণে বংশগতি নিয়ামক হিসেবে কাজ করে, যা পরবর্তীতে পরিবেশ ও সামাজিকীকরণের মাধ্যমে পূর্ণতা পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মি. হাসানের গ্রামের পরিবর্তনে সমাজজীবনে প্রভাববিস্তারকারী প্রযুক্তিগত বা বৈজ্ঞানিক উপাদানের ভূমিকা রয়েছে।
বিজ্ঞানের আবিষ্কার এবং তার ব্যবহারিক প্রয়োগকে প্রযুক্তি বলা হয়। প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও বিস্তার সমাজজীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেয়। যোগাযোগ, বিনোদন ও তথ্যের অবাধ প্রবাহ মানুষের জীবনযাপনকে সহজ করার পাশাপাশি চিন্তাচেতনারও রূপান্তর ঘটায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. হাসানের গ্রামে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, টেলিভিশন এবং মানুষের হাতে মোবাইল এসেছে। এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলেই গ্রামীণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধে পরিবর্তন ঘটেছে এবং তাদের জীবনযাত্রার ধরন বদলে গেছে। সুতরাং, এই পরিবর্তনে প্রযুক্তিগত উপাদানই মূল ভূমিকা পালন করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রযুক্তিগত উপাদানটি নিঃসন্দেহে সামাজিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।
সামাজিক উন্নয়ন বলতে সমাজের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, কুসংস্কারমুক্তি এবং ইতিবাচক মূল্যবোধের প্রসারকে বোঝায়। প্রযুক্তি মানুষের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। যেমন—বিদ্যুৎ পৌঁছানোর ফলে গ্রামীণ এলাকায় ক্ষুদ্র কুটির শিল্প ও ব্যবসাবাণিজ্যের প্রসার ঘটে, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুযোগ বৃদ্ধি পায় এবং চিকিৎসাব্যবস্থা উন্নত হয়।
তাছাড়া, টেলিভিশন ও মোবাইল ফোনের মতো যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ দেশ-বিদেশের নতুন নতুন তথ্য, জ্ঞান ও আধুনিক ধ্যানধারণার সাথে পরিচিত হতে পারে। এর ফলে সংকীর্ণতা ও কুসংস্কার দূর হয়ে মানুষের মানসিকতায় আধুনিকতা ও বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরি হয়। সুতরাং, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কেবল অবকাঠামোগত পরিবর্তনই আনে না, বরং সামাজিক কাঠামোর সামগ্রিক ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটিয়ে সমাজের সার্বিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও