উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১

উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন

মি. মফিজ তার প্রতিষ্ঠানে পণ্যের মান নির্ধারণে ভোক্তাদের প্রত্যাশার বিষয়টি বিবেচনা করেন এবং উৎপাদন কাজে মানের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও কর্মীদের সংশ্লিষ্টতাকে গুরুত্ব দেন। এজন্য তিনি উৎপাদন ক্ষেত্রে প্রথমেই পণ্যের মান স্থির করেন এবং পূর্বনির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করেন আবার প্রয়োজনে সংশোধনমূলক ব্যবস্থাও নেন। ফলে উৎপাদিত পণ্য সবসময় মানসম্মত হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়।

  1. ক)

    মূল্যায়ন ব্যয় কী?

    (1)
  2. খ)

    মান সনদ কেন প্রয়োজন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মি. মফিজ পণ্যের মান নির্ধারণে কোন নীতি অনুসরণ করেছেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “মি. মফিজের গৃহীত পদক্ষেপ ক্রেতার সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে অত্যন্ত কার্যকর”– তুমি কি একমত? পদক্ষেপটি উল্লেখ করে তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উৎপাদিত পণ্য বা সেবা নির্দিষ্ট মানসম্পন্ন হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা, পরিমাপ ও মূল্যায়ন করার জন্য যে ব্যয় হয়, তাকে মূল্যায়ন ব্যয় বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের জন্য মান সনদ প্রয়োজন।

    মান সনদ হলো কোনো স্বীকৃত ও অনুমোদিত সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিপত্র, যা প্রমাণ করে পণ্যটি নির্দিষ্ট মান ও মানদণ্ড বজায় রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে (যেমন— BSTI বা ISO সনদ)। এটি পণ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায় এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পণ্যের সুনাম প্রতিষ্ঠা করে। তাছাড়া বৈদেশিক বাজারে রপ্তানি এবং সরকারি নিয়মকানুন মেনে চলার ক্ষেত্রেও মান সনদ অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মি. মফিজ পণ্যের মান নির্ধারণে সামগ্রিক মান ব্যবস্থাপনা (Total Quality Management - TQM) এর নীতি অনুসরণ করেছেন।

    TQM বা সামগ্রিক মান ব্যবস্থাপনা হলো এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা দর্শন, যেখানে ক্রেতার সন্তুষ্টি অর্জনকে কেন্দ্রবিন্দু ধরে প্রতিষ্ঠানের সকল স্তর ও কর্মীদের অংশগ্রহণে পণ্যের মানের ধারাবাহিক ও সার্বিক উন্নয়ন সাধন করা হয়। এর মূল নীতিগুলো হলো— ক্রেতাকেন্দ্রিকতা, ধারাবাহিক মানের উন্নয়ন এবং কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত সম্পৃক্ততা।

    উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে, মি. মফিজ পণ্যের মান নির্ধারণে ভোক্তাদের প্রত্যাশার বিষয়টি বিবেচনা করেন (ক্রেতাকেন্দ্রিকতা)। একই সাথে তিনি উৎপাদন কাজে মানের ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং কর্মীদের সংশ্লিষ্টতাকে গুরুত্ব দেন। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সামগ্রিক মান ব্যবস্থাপনার মৌলিক স্তম্ভকে নির্দেশ করে। সুতরাং, মি. মফিজ সামগ্রিক মান ব্যবস্থাপনা নীতি অনুসরণ করেছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি উক্ত বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত। মি. মফিজের গৃহীত পদক্ষেপটি হলো 'মান নিয়ন্ত্রণ' (Quality Control)। এই পদক্ষেপটি ক্রেতার সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে অত্যন্ত কার্যকর।

    মান নিয়ন্ত্রণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে কিনা তা যাচাই করা হয়, বিচ্যুতি ধরা পড়লে তার কারণ নির্ণয় করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. মফিজ উৎপাদন ক্ষেত্রে প্রথমেই পণ্যের মান স্থির করেন, এরপর পূর্বনির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে কিনা তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও নিশ্চিত করেন এবং প্রয়োজনে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এটি মান নিয়ন্ত্রণের একটি আদর্শ ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া।

    এই পদক্ষেপের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
    ১. মানসম্মত পণ্য নিশ্চিতকরণ: প্রতিটি স্তরে মান যাচাই ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে ত্রুটিমুক্ত ও উন্নত পণ্য উৎপাদিত হয়, যা ভোক্তাদের প্রত্যাশা পূরণ করে এবং ক্রেতাদের আস্থা ও সন্তুষ্টি অর্জন করে।
    ২. উৎপাদন ব্যয় ও অপচয় হ্রাস: যথাসময়ে ত্রুটি সনাক্ত করে প্রতিকার করায় কাঁচামাল ও সময়ের অপচয় হ্রাস পায়, ফলে একক প্রতি উৎপাদন খরচ কমে।
    ৩. প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য ও লক্ষ্য অর্জন: ধারাবাহিক মান বজায় থাকার ফলে বাজারে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি পায়, বিক্রয় বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে মুনাফা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য সহজেই অর্জিত হয়।

    অতএব, যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে মি. মফিজ যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা ক্রেতার সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও কার্যকর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন