বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

আবেদ আলী এতিম জালালকে আদর, ভালোবাসা আর বিশ্বাস-ভরসা দিয়ে বড় করে তোলেন। তাকে বিশ্বাস করে হাটে বাজারে পাঠান বিকিকিনি করতে। প্রতিবেশীরা সাবধান করলেও আবেদ আলী তা কানে তোলেননি। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হলে আবেদ আলী বাড়ির ভিতরে থেকে জালালকে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চলে যেতে বলেন। কিন্তু জালাল প্রতিশ্রুতি দিয়েও লোভে পড়ে আবেদ আলীকে ধরিয়ে দেয় রাজাকার আর পাক হানাদারদের হাতে।

  1. ক)

    সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকারীর নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    'ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জা কথা'- কে, কেন এ কথা বলেছেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের পুরো ভাব প্রকাশিত না হলেও একটি দিক মাত্র প্রকাশিত হয়েছে"- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নবাব সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকারীর নাম মোহাম্মদি বেগ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি করেছেন ফরাসি সেনাপতি জঁ মসিয়ে লা।

    ইংরেজরা যখন নবাবের শক্তির সামনে দাঁড়াতে না পেরে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ ছেড়ে জাহাজে পালিয়ে আত্মরক্ষা করছিল, ইংরেজদের এই কাপুরুষোচিত আচরণকে ব্যঙ্গ করে মসিয়ে লা কথাটি বলেছিলেন। ইংরেজদের প্রতীক হলো সিংহ, কিন্তু তারা লড়াই না করে যেভাবে পালিয়েছিল, তা দেখে তিনি পরিহাস করে এই মন্তব্য করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের চরম বিশ্বাসঘাতকতা এবং নিমকহারামির দিকটি ফুটে উঠেছে।

    সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, নবাব সিরাজউদ্দৌলা তাঁর প্রধান সেনাপতি মীর জাফর এবং অন্যান্য সভাসদদের ক্ষমা করে বারবার বিশ্বাস ও মর্যাদা দিয়েছিলেন। পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে নবাবের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করা সত্ত্বেও মীর জাফর ব্যক্তিগত লোভ ও ক্ষমতার মোহে নবাবের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করে পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজদের বিজয়ী করে।

    উদ্দীপকের জালালও আবেদ আলীর চরম অনুগ্রহ, স্নেহ ও বিশ্বাসের পাত্র ছিল। বিপদের সময়ে আবেদ আলীর জীবন রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও সে সামান্য লোভে পড়ে তাঁর সাথে বেইমানি করে এবং তাঁকে রাজাকার ও হানাদারদের হাতে ধরিয়ে দেয়। আশ্রিত ও অনুগত ব্যক্তির এই বিশ্বাসভঙ্গ এবং নিমকহারামির মানসিকতাই 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার দিকটিকে ফুটিয়ে তুলেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের পুরো ভাব প্রকাশিত না হলেও একটি দিক মাত্র প্রকাশিত হয়েছে"— উক্তিটি যথার্থ।

    'সিরাজউদ্দৌলা' একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি নাটক। এই নাটকে ব্রিটিশ বেনিয়াদের আগ্রাসন, নবাবের দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, দেশমাতৃকার স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম, ঘসেটি বেগম ও লর্ড ক্লাইভের চক্রান্ত, এবং মীর জাফরের চরম বেইমানির পাশাপাশি মোহনলাল ও মীর মদনের মতো দেশপ্রেমিক বীরদের আত্মত্যাগ বর্ণিত হয়েছে। নাটকের মূল সুর একদিকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে স্বাধীনতার সংগ্রাম, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও ট্র্যাজিক পতন।

    উদ্দীপকে কেবল আবেদ আলীর আশ্রয় পেয়ে বড় হওয়া জালালের স্বার্থপরতা ও বিশ্বাসঘাতকতার দিকটি উঠে এসেছে। যে জালালকে আবেদ আলী সন্তানের মতো বিশ্বাস করতেন, সে লোভে পড়ে তাঁর সাথে বেইমানি করে হানাদারদের হাতে তুলে দেয়। এটি কেবল মীর জাফরের বিশ্বাসভঙ্গের দিকটির সাথে তুলনীয়।

    কিন্তু 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের যে মূল চেতনা— জাতীয় সংকট, দেশপ্রেমের গৌরবগাথা এবং স্বাধীনতার লড়াই— তার সামগ্রিক ভাব উদ্দীপকে অনুপস্থিত। উদ্দীপকে নাটকের বহু বিচিত্র দিকের মধ্যে কেবল 'বিশ্বাসঘাতকতা'র একটিমাত্র দিকই প্রতিফলিত হয়েছে। তাই প্রদত্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে সঠিক ও যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন