বাংলা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৬
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
11.
(ক) 'ফেসবুকের সুফল ও কুফল' বিষয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ রচনা করো।অথবা,(খ) নিচের উদ্দীপক অনুসরণে একটি খুদেগল্প লেখো: পড়ন্ত বিকেলে ঢাকার ফুটপাতে হাঁটতে হাঁটতে রাজু ভাবে, কালের প্রবহমান স্রোত জীবনকে আজ কতদূরে নিয়ে এসেছে। কিন্তু শৈশবের স্মৃতিগুলো আজও...
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
(ক) 'ফেসবুকের সুফল ও কুফল' বিষয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ:
স্থান: কলেজের ক্যাফেটেরিয়া
চরিত্র: সুজন ও রাহাত
সুজন: শুভ অপরাহ্ন রাহাত! কী করছিস এত মনোযোগ দিয়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে?
রাহাত: শুভ অপরাহ্ন সুজন! ফেসবুকে আমাদের কলেজের ডিবেটিং ক্লাবের একটি নতুন ইভেন্টের আপডেট দেখছিলাম।
সুজন: ও আচ্ছা! ফেসবুক আজকাল আমাদের জীবনের সাথে বেশ জড়িয়ে গেছে, তাই না?
রাহাত: একদম ঠিক বলেছিস। যোগাযোগ রক্ষা, দেশ-বিদেশের তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া এবং শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদানে ফেসবুক অসাধারণ ভূমিকা রাখছে।
সুজন: তা ঠিক, তবে এর যে অনেক ক্ষতিকর দিকও রয়েছে, সে কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই।
রাহাত: হ্যাঁ, অতিরিক্ত সময় ফেসবুকে নষ্ট করায় অনেকের পড়াশোনা ও কর্মজীবনের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম স্ক্রিন-অ্যাড্ডিকশনে ভুগছে।
সুজন: শুধু তাই নয়, ফেসবুকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ভুয়া খবর ও গুজব ছড়ানো হয়, যা সামাজিক বিশৃঙ্খলাও তৈরি করে। তা ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
রাহাত: তুই যথার্থ বলেছিস। তবে আমার মনে হয়, কোনো প্রযুক্তির নিজের ভালো-মন্দ নেই, এটি নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ওপর।
সুজন: শতভাগ সত্যি। আমরা যদি ইতিবাচক কাজে, তথ্য বিনিময়ে এবং পরিমিতভাবে ফেসবুক ব্যবহার করি, তবে এর সুফলগুলোই আমাদের জীবনে কাজে লাগবে।
রাহাত: ঠিক তাই। চলো, ক্লাসের সময় হয়ে গেছে, এখন যাই।
সুজন: চলো।
অথবা,
(খ) শৈশবের স্মৃতি
পড়ন্ত বিকেলে ঢাকার ফুটপাতে হাঁটতে হাঁটতে রাজু ভাবে, কালের প্রবহমান স্রোত জীবনকে আজ কতদূরে নিয়ে এসেছে। কিন্তু শৈশবের স্মৃতিগুলো আজও তার মনের মণিকোঠায় অম্লান ও জীবন্ত। ব্যস্ত এই যান্ত্রিক শহরের ধুলোবালি, গাড়ির বিকট হর্ন আর মানুষের অবিরাম ছুটে চলা রাজুর মাঝে এক অদ্ভুত একাকীত্ব তৈরি করে। শৈশবের সেই শান্ত, সবুজ গ্রাম—যার মেঠোপথ ধরে প্রতিদিন সে পাঠশালায় যেত, বর্ষায় বন্ধুদের সাথে কাদা মেখে ফুটবল খেলা, কিংবা চৈত্র সংক্রান্তির মেলায় মাটির পুতুল কেনার আনন্দ আজও তাকে দোলা দেয়। আজ সে একটি বহুজাতিক কোম্পানির সফল কর্মকর্তা, তার সুযোগ-সুবিধার কমতি নেই; কিন্তু সেই যে নির্মল আনন্দ আর মাটির ঘ্রাণ, তা যেন শহরের কংক্রিটের দেয়ালে হারিয়ে গেছে। হঠাৎ ফুটপাতের এক কোনায় এক কিশোরকে কাগজের নৌকা বানিয়ে জমা পানিতে ভাসাতে দেখে রাজু থমকে দাঁড়াল। শৈশবের ফেলে আসা দিনগুলোর প্রতি এক গভীর নস্টালজিয়া আর ভালোবাসায় তার চোখ ভিজে উঠল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও