যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: দৃশ্যকল্প-২: সেন্ট ট্রিজা কলেজে দুজন শিক্ষক মনোবিজ্ঞান পড়ান। আলো ম্যাডাম শিক্ষার্থীদের মনোবিজ্ঞান সম্পর্কে তত্ত্বগত যত দিক আছে তার ধারণা দেন। বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানীদের দেওয়া মতবাদ বিশ্লেষণ করেন। অপরদিকে হ্যাপী ম্যাডাম তাদের মনোবিজ্ঞান ব্যাবহারিক ক্লাস নেন। শিক্ষার্থীদের মনোবিজ্ঞানের ব্যাবহারিক বিষয়গুলো বিভিন্ন দলে ভাগ করে প্রদর্শন করেন এবং ব্যাবহারিক খাতায় তা কীভাবে লিখবে তার নির্দেশনা দেন।

  1. ক)

    যুক্তিবিদ্যা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    এরিস্টটলকে কেন যুক্তিবিদ্যার জনক বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ বিষয়গুলো যুক্তিবিদ্যার কোন দিকের ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ আলোকে 'যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ নির্ণয় সম্ভব – বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে ব্যবহারিক বিজ্ঞান সঠিক যুক্তিপদ্ধতি বা অনুমান এবং এর সহায়ক প্রক্রিয়াগুলো সম্পর্কে নিয়ম প্রণয়ন করে সত্যকে অর্জন এবং ভুল বা ভ্রান্তিকে পরিহার করতে সহায়তা করে, তাকে যুক্তিবিদ্যা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল যুক্তিবিদ্যাকে একটি স্বতন্ত্র ও সুসংহত শাস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন বলে তাঁকে যুক্তিবিদ্যার জনক বলা হয়।\n\nএরিস্টটলের পূর্বে সক্রেটিস ও প্লেটোর চিন্তায় যুক্তিবিদ্যার নানা উপাদান ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলেও এরিস্টটলই সর্বপ্রথম যুক্তিপদ্ধতির মৌলিক নিয়মাবলি, বিশেষ করে সহানুমান (Syllogism), অবরোহ যুক্তিপদ্ধতি ও যুক্তির আকারগত দিক নিয়ে সুশৃঙ্খল ও ধারাবাহিক আলোচনা করেন। তাঁর যুক্তিবিদ্যাবিষয়ক রচনাবলিকে পরবর্তীকালে সংকলিত করে 'অরগানন' (Organon) নামে অভিহিত করা হয়। যুক্তিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন ও নিয়মগুলো পদ্ধতিগতভাবে উপস্থাপনের কারণেই এরিস্টটলকে যুক্তিবিদ্যার জনক বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এর বিষয়গুলো (ভাষা, চিন্তা, অনুমান, যুক্তি, বৈধতা, সত্যতা) যুক্তিবিদ্যার মূল আলোচ্য বিষয় বা পরিধি ও মূল ধারণার দিককে ইঙ্গিত করে।\n\nযুক্তিবিদ্যার মূল কাজ হলো সঠিক চিন্তাপদ্ধতি বা অনুমানের নিয়ম নিয়ে আলোচনা করা। অনুমানের ভাষায় প্রকাশিত রূপই হলো যুক্তি। যুক্তিবিদ্যা মূলত ভাষার সাহায্যে প্রকাশিত এই চিন্তার বৈধতা ও সত্যতা বিচার করে। সত্য অর্জনের লক্ষ্যে যুক্তিবিদ্যা বৈধ যুক্তি থেকে অবৈধ যুক্তিকে পৃথক করার নিয়ম প্রণয়ন করে।\n\nউদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত 'চিন্তা', 'অনুমান', 'ভাষা', 'যুক্তি', 'বৈধতা' এবং 'সত্যতা'—শব্দগুলো যুক্তিবিদ্যার মূল প্রতিপাদ্য। মানুষ মনের ভাব প্রকাশের জন্য ভাষার সাহায্য নেয়। চিন্তা বা অনুমানের মাধ্যমেই যুক্তি গঠিত হয়। যুক্তিবিদ্যা এই যুক্তির আকারগত বৈধতা এবং বস্তুগত সত্যতা আলোচনা করে। সুতরাং, দৃশ্যকল্প-১ এর উপাদানগুলো সরাসরি যুক্তিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় ও বিষয়বস্তুগত দিকের ইঙ্গিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এর আলোকে বলা যায়, যুক্তিবিদ্যা হলো একই সাথে একটি বিজ্ঞান এবং একটি কলা—উভয়ের সমন্বয়েই যুক্তিবিদ্যার প্রকৃত স্বরূপ নির্ধারিত হয়।\n\nদৃশ্যকল্প-২ এ আলো ম্যাডাম মনোবিজ্ঞানের তত্ত্বগত দিক ও বিজ্ঞানীদের মতবাদ আলোচনা করেন, যা বিজ্ঞানসম্মত তাত্ত্বিক জ্ঞানের প্রতীক। অন্যদিকে, হ্যাপী ম্যাডাম শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেন ও বাস্তবে প্রয়োগের নির্দেশনা দেন, যা কলা বা প্রায়োগিক দিকের প্রতীক।\n\nযুক্তিবিদ্যার স্বরূপ বিশ্লেষণে বিজ্ঞান ও কলা সম্পর্কিত এই বিতর্কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:\n১. বিজ্ঞান হিসেবে যুক্তিবিদ্যা: যে শাস্ত্র কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের নিয়মাবলি সুশৃঙ্খলভাবে আবিষ্কার ও ব্যাখ্যা করে, তাকে বিজ্ঞান বলে। যুক্তিবিদ্যাও সঠিক চিন্তা ও অনুমানের নিয়মাবলি আবিষ্কার ও প্রণয়ন করে তাত্ত্বিক জ্ঞান দান করে। এদিক থেকে যুক্তিবিদ্যা একটি বিজ্ঞান।\n২. কলা হিসেবে যুক্তিবিদ্যা: যে শাস্ত্র কোনো উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে বাস্তব ক্ষেত্রে নিয়মাবলির প্রায়োগিক কৌশল শিক্ষা দেয়, তাকে কলা বলে। যুক্তিবিদ্যা কেবল তাত্ত্বিক নিয়ম দেয় না, বরং দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে সত্য অর্জন এবং ভ্রান্তি পরিহার করে বাস্তব ক্ষেত্রে সঠিক যুক্তি প্রয়োগ করতে হবে, তার কলাকৌশলও শেখায়। এদিক থেকে যুক্তিবিদ্যা একটি কলা।\n\nযুক্তিবিদ যোসেফ, অলড্রিচ প্রমুখ যুক্তিবিদ্যাকে কলা এবং হ্যামিল্টন, ম্যানসেল একে বিজ্ঞান বললেও যুক্তিবিদ মিল এবং কার্ভেথ রিড যুক্তিবিদ্যাকে বিজ্ঞান ও কলা উভয় রূপেই অভিহিত করেছেন। দৃশ্যকল্প-২ এর মতো তাত্ত্বিক (বিজ্ঞান) এবং প্রায়োগিক (কলা) উভয় দিকের সম্মিলনেই যুক্তিবিদ্যার যথার্থ স্বরূপ প্রতিফলিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন