জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় জীবদেহে গ্যামিট উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ার একটি উপধাপে জেনেটিক বৈচিত্র্যের সূচনা ঘটে। ধাপে জেনেটিক বৈচিত্র্যের সূচনা ঘটে
- ক)(1)
সাইটোকাইনেসিস কী?
- খ)(2)
কোষচক্র বলতে কী বোঝায় ?
- গ)(3)
উল্লিখিত উপ-পর্যায়টি বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
জীবজগতে উল্লিখিত বিশেষ প্রক্রিয়াটির গুরুত্ব মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোষ বিভাজনের টেলোফেজ পর্যায়ের শেষে বা পরে সাইটোপ্লাজমের বিভাজন সম্পন্ন হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে সাইটোকাইনেসিস বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি কোষের সৃষ্টি, এর বৃদ্ধি এবং পরবর্তীতে বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ সৃষ্টির সামগ্রিক চক্রাকার ঘটনাবলিকে কোষচক্র (Cell Cycle) বলা হয়। কোষচক্র প্রধানত দুটি মূল পর্যায় নিয়ে গঠিত: দীর্ঘ প্রস্তুতিমূলক পর্যায় বা ইন্টারফেজ (যেখানে G₁, S ও G₂ উপ-পর্যায় রয়েছে) এবং মূল বিভাজন পর্যায় বা এম-ফেজ (মাইটোসিস বা মিয়োসিস)। হাওয়ার্ড ও পেল্ক (Howard and Pelc) ১৯৫৩ সালে কোষচক্রের ধারণা প্রস্তাব করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ প্রক্রিয়াটি হলো মিয়োসিস কোষ বিভাজন, যার মাধ্যমে গ্যামিট উৎপন্ন হয়। মিয়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১ দশার 'প্যাকাইটিন' (Pachytene) উপধাপে ক্রসিং ওভার সংঘটিত হওয়ার মাধ্যমে জেনেটিক বৈচিত্র্যের সূচনা ঘটে। নিচে প্যাকাইটিন উপধাপের বিবরণ দেওয়া হলো:
১. বাইভ্যালেন্ট ও টেট্রাড অবস্থা: হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের জোড়বাঁধা প্রতিটি বাইভ্যালেন্টের প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বিভাবে বিভক্ত হয়ে দুটি করে সিস্টার ক্রোমাটিড গঠন করে। এর ফলে প্রতি জোড়ায় মোট চারটি ক্রোমাটিড সৃষ্টি হয়, যাকে টেট্রাড (Tetrad) বলে।
২. নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের কায়াজমা গঠন: একই জোড়ার দুটি ভিন্ন ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিডদ্বয়কে নন-সিস্টার ক্রোমাটিড বলে। এই উপধাপে নন-সিস্টার ক্রোমাটিডগুলো এক বা একাধিক স্থানে 'X' আকৃতির মতো পরস্পরকে অতিক্রম বা স্পর্শ করে। এই সংযোগস্থলকে কায়াজমা (Chiasma) বলে।
৩. ক্রসিং ওভার (Crossing over): এন্ডোনিউক্লিয়েজ এনজাইমের প্রভাবে কায়াজমা অঞ্চলে নন-সিস্টার ক্রোমাটিডগুলো ভেঙে যায় এবং লাইগেজ এনজাইমের সহায়তায় বিপরীত খণ্ডাংশের সাথে পুনঃসংযুক্ত হয়। এর ফলে ক্রোমোজোমের মধ্যে অংশ বিনিময় ঘটে, যা জিনগত পুনর্বিন্যাস নিশ্চিত করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি হলো মিয়োসিস কোষ বিভাজন। জীবজগতে এই প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম, যা নিচে মূল্যায়ন করা হলো:
১. ক্রোমোজোম সংখ্যার ধ্রুবতা রক্ষা: মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় ডিপ্লয়েড (2n) মাতৃকোষ থেকে হ্যাপ্লয়েড (n) জননকোষ উৎপন্ন হয়। নিষেকের ফলে পুনরায় ডিপ্লয়েড জাইগোট গঠিত হয়। মিয়োসিস না ঘটলে প্রতি প্রজন্মে ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে প্রজাতির স্বাভাবিক অস্তিত্ব বিলুপ্ত হতো।
২. জেনেটিক বৈচিত্র্য সৃষ্টি: মিয়োসিসের প্যাকাইটিন উপপর্যায়ে নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে ক্রসিং ওভার ঘটে। এর ফলে জিনের নতুন সমন্বয় বা রিকম্বিনেশন ঘটে, যা অপত্য জীবের মধ্যে বংশগত বৈচিত্র্য বা প্রকরণ সৃষ্টি করে।
৩. প্রজাতির অভিব্যক্তি ও বিবর্তন: ক্রসিং ওভারের মাধ্যমে সৃষ্ট জেনেটিক প্রকরণ প্রজাতির নতুন বৈশিষ্ট্য তৈরিতে সহায়তা করে, যা জীবকে পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং নতুন প্রজাতির বিবর্তনে সাহায্য করে।
৪. গ্যামিট ও রেণু উৎপাদন: যৌন প্রজননশীল প্রাণীতে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু এবং উদ্ভিদে স্পোর উৎপাদনের জন্য মিয়োসিস অপরিহার্য।
৫. মেন্ডেলের সূত্রাবলীর কার্যকারিতা: মেন্ডেলীয় বংশগতির মূল ভিত্তি (জিনসমূহের স্বতন্ত্র সঞ্চারণ) মিয়োসিসের অ্যানাফেজ দশায় হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের পৃথকীকরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত।সুতরাং, জীবজগতে প্রজাতির স্বকীয়তা বজায় রাখতে এবং জৈব বিবর্তনের পথ সুগম করতে মিয়োসিস একটি অপরিহার্য জৈবিক প্রক্রিয়া।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও