ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

লাবন্য তার পাঠ্যবই থেকে একজন সাহাবির জীবনী পাঠ করেছে। তিনি ছিলেন বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী ব্যক্তি। তিনি অনেক বেশি নবি ভক্ত ছিলেন। তাকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়ে থাকে।

  1. ক)

    রিদ্দার যুদ্ধ কত খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    'মজলিশ-উস-শূরা' বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ইসলামের ইতিহাসে লাবন্যের পঠিত সাহাবির অবস্থান নিরূপণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'উক্ত সাহাবিকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়'- তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রিদ্দার যুদ্ধ ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'মজলিশ-উস-শূরা' হলো খোলাফায়ে রাশেদীনের শাসনব্যবস্থায় খলিফাকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে পরামর্শ প্রদানের জন্য গঠিত উপদেষ্টা পরিষদ। এটি বিশিষ্ট সাহাবিদের নিয়ে গঠিত ছিল। খলিফাগণ কুরআনের নীতি ও মহানবি (সা.)-এর সুন্নাহর আলোকে যে কোনো বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে মজলিশ-উস-শূরার সদস্যদের সাথে পরামর্শ করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতেন, যা ইসলামের গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিফলন ছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে লাবন্যের পঠিত সাহাবি হলেন ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)। ইসলামের ইতিহাসে তাঁর অবস্থান অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও অনন্য।

    হযরত আবু বকর (রা.) ছিলেন প্রাপ্তবয়স্ক স্বাধীন পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তি। তিনি মিরাজের ঘটনা নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করে 'সিদ্দিক' (সত্যবাদী) উপাধি লাভ করেন। মহানবি (সা.)-এর হিজরতের সঙ্গী ছিলেন তিনি এবং বদর, ওহুদ, খন্দকসহ ইসলামের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে তিনি জীবন ও ধন-সম্পদ উৎসর্গ করে নবির পাশে ছিলেন। তাবুক যুদ্ধের সময় তিনি তাঁর ঘরের সমস্ত সম্পদ ইসলামের জন্য দান করে দেন। মহানবি (সা.)-এর ওফাতের পর মুসলিম উম্মাহ যখন নেতৃত্বহীনতার এক কঠিন সংকটে নিমজ্জিত হয়, তখন হযরত আবু বকর (রা.) মুসলিম জাহানের প্রথম খলিফা নির্বাচিত হয়ে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ রাখেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহানবি (সা.)-এর ওফাতের পর সদ্য প্রতিষ্ঠিত মুসলিম রাষ্ট্র ও ইসলাম ধর্ম যখন অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নানা সংকটে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিল, তখন হযরত আবু বকর (রা.) দৃঢ় নেতৃত্ব দিয়ে ইসলামকে রক্ষা করেছিলেন বলেই তাঁকে 'ইসলামের ত্রাণকর্তা' বলা হয়।

    মহানবি (সা.)-এর তিরোধানের পরপরই সমগ্র আরব উপদ্বীপে এক ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা ও সংকটের সৃষ্টি হয়। এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে ইসলামের সামনে চারটি প্রধান সংকট দেখা দেয়:
    ১. ভণ্ড নবিদের আবির্ভাব (যেমন মুসায়লামা, তুলায়হা, আসওয়াদ আনসি ও সাজাহ)।
    ২. স্বধর্মত্যাগ বা ধর্মত্যাগের আন্দোলন (রিদ্দা)।
    ৩. জাকাত প্রদানে অস্বীকারকারী দল।
    ৪. মদিনা রাষ্ট্রকে অবজ্ঞা করে খিলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ।

    এমন এক নাজুক পরিস্থিতিতে হযরত আবু বকর (রা.) কোনো ধরনের আপস না করে অসীম সাহস ও দৃঢ়তার সাথে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) সহ অন্যান্য সেনাপতিদের নেতৃত্বে মোট ১১টি সেনাদল গঠন করে আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রেরণ করেন। একের পর এক যুদ্ধে ভণ্ড নবিদের পরাস্ত ও হত্যা করা হয়, জাকাত অস্বীকারকারীদের দমন করা হয় এবং ইসলাম ত্যাগকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে 'রিদ্দার যুদ্ধ'-এ বিজয় অর্জন করা হয়। ফলে সমগ্র আরবে পুনরায় ইসলামের কর্তৃত্ব ও শান্তি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। এর পাশাপাশি তিনি কুরআনের বিক্ষিপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলো একত্রিত করে গ্রন্থাকারে সংরক্ষণের যুগান্তকারী উদ্যোগ নেন।

    অতএব, ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে তাঁর প্রজ্ঞা, অটল বিশ্বাস ও দূরদর্শী পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসলাম রক্ষা পেয়েছিল বলেই তাঁকে যথার্থভাবেই 'ইসলামের ত্রাণকর্তা' হিসেবে অভিহিত করা হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন