সমাজকর্ম ২য় পত্র • আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০২৫
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
'ই' একটি আন্তর্জাতিক সমাজ উন্নয়ন সংস্থা। ১৯৬৫ সালে এটি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার অর্জন করে। মা ও শিশুদের কল্যাণ এবং বিশ্বব্যাপী শিক্ষা উপকরণ সরবরাহে এর ভূমিকা অতুলনীয়।
- ক)(1)
UNDP এর পূর্ণরূপ লেখো।
- খ)(2)
UNDP এর একটি কর্মসূচি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশে উক্ত সংস্থার কার্যক্রম আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
UNDP-এর পূর্ণরূপ হলো 'United Nations Development Programme'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
UNDP-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হলো 'দারিদ্র্য দূরীকরণ কর্মসূচি'। এ কর্মসূচির মাধ্যমে সংস্থাটি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। বিশেষ করে দারিদ্র্যের বহুমুখী রূপ দূরীকরণে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে UNDP বিভিন্ন দেশের সরকারকে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা 'ইউনিসেফ' (UNICEF - United Nations Children's Fund)-এর কথা বলা হয়েছে।
ইউনিসেফ হলো জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা, যা ১৯৪৬ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটির মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী মা ও শিশুদের মৌলিক অধিকার রক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, পুষ্টি উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং প্রাথমিক শিক্ষার সম্প্রসারণ। বিশ্বজুড়ে শিশুদের কল্যাণে অসাধারণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬৫ সালে ইউনিসেফ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে। উদ্দীপকে ১৯৬৫ সালে নোবেল জয় এবং মা ও শিশুদের কল্যাণ ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সরাসরি ইউনিসেফকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে শিশু ও মাতৃকল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে ইউনিসেফের (UNICEF) কার্যক্রম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রশংসনীয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই ইউনিসেফ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন ও শিশুদের উন্নয়নে কাজ শুরু করে। বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রধান কার্যক্রমগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. শিশুস্বাস্থ্য ও টিকাদান: বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর হার কমাতে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) বাস্তবায়নে ইউনিসেফ সরকারের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। পোলিও, হাম, ধনুষ্টঙ্কার ইত্যাদি মারাত্মক সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে এটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
২. মাতৃ ও পুষ্টি সেবা: মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, প্রসবকালীন সেবা নিশ্চিতকরণ এবং অপুষ্টি দূরীকরণে ইউনিসেফ পুষ্টিকর খাদ্য ও ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল বিতরণসহ সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালায়।
৩. প্রাথমিক শিক্ষা: সুবিধাবঞ্চিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা, ঝরে পড়া রোধ করা এবং আনন্দদায়ক শিখন পরিবেশ সৃষ্টিতে ইউনিসেফ শিক্ষা উপকরণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে।
৪. নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন: গ্রামীণ ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা (যেমন আর্সেনিকমুক্ত নলকূপ স্থাপন) এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইউনিসেফ কাজ করে যাচ্ছে।
৫. শিশু সুরক্ষা: বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, শিশুশ্রম বন্ধ এবং যেকোনো ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতা থেকে শিশুদের সুরক্ষায় ইউনিসেফ সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও নীতি বাস্তবায়নে কাজ করছে।পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ, শিক্ষিত ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ইউনিসেফের বহুমুখী ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও