বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

আমিনুর সাহেব দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। প্রবাসের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শেষে তিনি নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। গ্রামের মানুষের অভাব-অনটন দেখে তিনি মর্মাহত হন। গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ প্রায়শই তার কাছে সাহায্য চাইতে আসেন। কিন্তু তিনি কাউকে সাহায্য করেন না। তিনি ভাবেন, দুই-চার হাজার টাকা সাহায্য করে কারো ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না। বরং তারা আমার কাছে ছোটো হবেন। একদিন তিনি এলাকার যুবক-যুবতীদের নিয়ে সভায় বসেন। সিদ্ধান্ত হয় এলাকার সমস্ত পুকুর লিজ নিয়ে সমবায় ভিত্তিতে মাছ চাষ করবেন। গরু ও মুরগির ফার্ম গড়ে তুলবেন। অল্প দিনের মধ্যেই এলাকার দৃশ্যপট বদলে যায়। এলকার সমস্ত মানুষ স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে।

  1. ক)

    মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধটি প্রথম কোন গ্রন্থে সংকলিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    "মানব-কল্যাণ স্বয়ম্ভু, বিচ্ছিন্ন, সম্পর্ক-রহিত হতে পারে না।" উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

    (2)
  3. গ)

    "উদ্দীপকের আমিনুর রহমান প্রাবন্ধিকের মানস-পুত্র।" মন্তব্যটি বিচার কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূলবক্তব্য কতটুকু প্রতিফলিত হয়েছে? তোমার মতমাতসহ বিচার কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধটি প্রথম আবুল ফজলের 'মানবতন্ত্র' গ্রন্থে সংকলিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটির মাধ্যমে লেখক বুঝিয়েছেন যে মানব-কল্যাণ সমাজ ও মানবজীবনের সামগ্রিক বাস্তবতা থেকে আলাদা কোনো বিষয় নয়।

    প্রাবন্ধিক আবুল ফজলের মতে, প্রকৃত মানব-কল্যাণ কেবল সাময়িক দান-খয়রাত বা করুণার ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। এটি সমাজের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক সম্পর্কের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানুষের সার্বিক মুক্তির জন্য তার অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা এবং মানবিক মর্যাদার বিকাশ নিশ্চিত করতে হয়। তাই মানব-কল্যাণকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখা যায় না, বরং তা মানব অস্তিত্বের সামগ্রিক কাঠামোর সাথে সম্পৃক্ত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আমিনুর সাহেব 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিকের প্রত্যাশিত প্রকৃত মানব-কল্যাণের ভাবাদর্শকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন বলেই মন্তব্যটি যথার্থ।

    'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন যে, ভিক্ষা বা সাময়িক অর্থ সাহায্য দিয়ে কখনো মানুষের প্রকৃত কল্যাণ করা যায় না। বরং এতে মানুষের মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এবং সে পরমুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে। প্রাবন্ধিকের মতে, প্রতিটি মানুষকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও স্বাবলম্বী করে তোলাই হলো প্রকৃত মানব-কল্যাণ।

    উদ্দীপকের আমিনুর সাহেব গ্রামবাসীর অভাব দেখে মর্মাহত হলেও তাদের হাত পাতার অভ্যাস তৈরি করতে চাননি। দুই-চার হাজার টাকা দিয়ে করুণা না দেখিয়ে তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমবায় ভিত্তিতে মাছ চাষ ও খামার গড়ে তোলেন। এতে মানুষ আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচার সুযোগ পায় এবং পুরো এলাকা স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে। প্রাবন্ধিক আবুল ফজল ঠিক যে ধরনের মানবকল্যাণের স্বপ্ন দেখেছেন, আমিনুর সাহেব তা-ই বাস্তবায়ন করেছেন। তাই তাঁকে প্রাবন্ধিকের 'মানস-পুত্র' বলা সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূলবক্তব্যের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর দিক প্রতিফলিত হয়েছে, যা হলো মানুষকে স্বাবলম্বী করে প্রকৃত মানব-কল্যাণ সাধন করা।

    'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক আবুল ফজল প্রচলিত দান-খয়রাত বা ভিক্ষাভিত্তিক তথাকথিত মানব-কল্যাণের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের সাহায্য মানুষের আত্মমর্যাদা ধ্বংস করে তাকে হীনমন্য করে তোলে। প্রকৃত মানব-কল্যাণের লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের ভেতরে থাকা সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলা, তাকে কর্মসংস্থানমুখী করা এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সকলের মানবিক অধিকার ও স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, আমিনুর সাহেব মানুষের উপহাস বা ভিক্ষাবৃত্তিকে প্রশ্রয় না দিয়ে সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তিনি যুবসমাজকে সংগঠিত করে মৎস্য ও পশুপালন খামার গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে গ্রামের সকল মানুষ স্বাবলম্বী ও আত্মমর্যাদাশীল হয়ে উঠেছে। উদ্দীপকে প্রবন্ধের এই মূল ভাবটি চমৎকারভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে। তবে প্রবন্ধে লেখক শুধু অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার কথাই বলেননি, বরং মানব-মর্যাদা, স্বাধীন মানবিক চেতনা এবং রাষ্ট্র ও সমাজের সামগ্রিক দায়িত্বের বৃহত্তর প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন।

    পরিশেষে বলা যায়, বৃহত্তর দার্শনিক তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকলেও স্বনির্ভরতা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের মাধ্যমে প্রকৃত কল্যাণ সাধনের যে মূলবক্তব্য লেখক উপস্থাপন করেছেন, তা উদ্দীপকে সার্থকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন