জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • কোষ ও এর গঠন • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    টনোপ্লাস্ট কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পিটপেয়ার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'P' চিহ্নিত অংশের সবচেয়ে গ্রহণীয় মডেলের চিহ্নিত চিত্র অংকন কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'Q' এবং 'R' নির্দেশিত অংশের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ভিদকোষের কোষগহ্বরকে বেষ্টনকারী পাতলা ও স্থিতিস্থাপক সাইটোপ্লাজমীয় পর্দাকে টনোপ্লাস্ট (Tonoplast) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাশাপাশি অবস্থিত দুটি কোষপ্রাচীরের কূপ বা পিট (pit) সাধারণত ঠিক মুখোমুখি অবস্থান করে। মুখোমুখি অবস্থিত এমন দুটি পিটকে একত্রে পিটপেয়ার (Pit pair) বলে।

    দুটি কূপের মধ্যবর্তী অংশটি প্রাথমিক প্রাচীর ও মধ্যপর্দা দ্বারা গঠিত, যাকে পিটমেমব্রেন বলে। পিটপেয়ারের মাধ্যমে পাশাপাশি অবস্থিত দুটি কোষের মধ্যে তরল পদার্থ ও খনিজ লবণের যাতায়াত ও যোগাযোগ রক্ষা পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'P' চিহ্নিত অংশটি হলো প্লাজমামেম্ব্রেন বা কোষঝিল্লি (Plasma membrane)। প্লাজমামেম্ব্রেনের গঠনের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মডেল হলো সিঙ্গার ও নিকলসন (১৯৭২) কর্তৃক প্রস্তাবিত 'ফ্লুইড মোজাইক মডেল' (Fluid Mosaic Model)।

    [পরীক্ষার্থীদের খাতায় ফ্লুইড মোজাইক মডেলের একটি স্পষ্ট চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে হবে]

    চিত্রের মূল চিহ্নিত অংশসমূহ:
    ১. ফসফোলিপিড বাইলেয়ার (হাইড্রোফিলিক পোলার হেড এবং হাইড্রোফোবিক নন-পোলার টেইল)
    ২. মেমব্রেন প্রোটিন (ইন্টিগ্রাল প্রোটিন, প্রান্তীয় বা পেরিফেরাল প্রোটিন এবং লিপিড-সংযুক্ত প্রোটিন)
    ৩. গ্লাইকোক্যালিক্স (গ্লাইকোলিপিড ও গ্লাইকোপ্রোটিন সমন্বয়ে গঠিত)
    ৪. কোলেস্টেরল

    সংক্ষিপ্ত বিবরণ: মডেলটি অনুযায়ী ফসফোলিপিড অণুগুলো দ্বি-স্তরে সজ্জিত থেকে একটি তরল ভিত্তি তৈরি করে এবং প্রোটিন অণুগুলো মোজাইকের মতো বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান করে। এজন্য একে 'ফ্লুইড মোজাইক মডেল' বলা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'Q' নির্দেশিত অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট এবং 'R' নির্দেশিত অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। নিচে এদের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. উপস্থিতি: ক্লোরোপ্লাস্ট কেবল সবুজ উদ্ভিদকোষে উপস্থিত থাকে, প্রাণিকোষে থাকে না। অপরদিকে মাইটোকন্ড্রিয়া সকল ইউক্যারিওটিক উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষে বিদ্যমান।

    ২. রঞ্জক পদার্থ: ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষী রঞ্জক যেমন- ক্লোরোফিল (a ও b), ক্যারোটিনয়েড ইত্যাদি থাকে। কিন্তু মাইটোকন্ড্রিয়ায় কোনো সালোকসংশ্লেষী রঞ্জক থাকে না।

    ৩. অন্তঃঝিল্লির প্রকৃতি: ক্লোরোপ্লাস্টের ভেতরের ঝিল্লিটি মসৃণ ও প্রসারিত। পক্ষান্তরে, মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃঝিল্লিটি ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে প্রবর্ধক তৈরি করে, যাকে ক্রিস্টি বলে।

    ৪. বিশেষ অঙ্গাণু সংগঠন: ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমার মধ্যে থাইলাকয়েড ও গ্রানা সজ্জিত থাকে। মাইটোকন্ড্রিয়ায় গ্রানা থাকে না, এর ক্রিস্টির গায়ে অক্সিজোম/ATP সিন্থেটেজ ও ইটিএস (ETS) সংযুক্ত থাকে।

    ৫. শারীরবৃত্তীয় প্রধান কাজ: ক্লোরোপ্লাস্টের প্রধান কাজ হলো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করা। অন্যদিকে, মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ হলো কোষীয় শ্বসন (ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম) সম্পন্ন করে ATP আকারে শক্তি উৎপন্ন করা।

    সুতরাং, গঠন ও শারীরবৃত্তীয় কাজের দিক থেকে উদ্দীপকের ক্লোরোপ্লাস্ট (Q) ও মাইটোকন্ড্রিয়া (R) স্বতন্ত্র ও ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন