বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

নমি আমি প্রতিজনে, আদ্বিজ-চণ্ডাল, প্রভু, ক্রীতদাস! সিন্ধুমূলে জলবিন্দু, বিশ্বমূলে অণু; মগ্রে প্রকাশ!নমি কৃষি-তন্তুজীবী, স্থপতি, তক্ষক কর্ম, চর্মকার!

  1. ক)

    'ঐকতান' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

    (1)
  2. খ)

    "যেথা পাই চিত্রময়ী বর্ণনার বাণী কুড়াইয়া আনি।"- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক ও 'ঐকতান' কবিতার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে 'ঐকতান' কবিতার মর্মার্থ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ঐকতান' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জন্মদিনে' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রশ্নোক্ত চরণের মাধ্যমে কবি বিশ্বসাহিত্যের যে প্রান্তেই জীবনের জীবন্ত ও বৈচিত্র্যময় রূপের সন্ধান পেয়েছেন, সেখান থেকেই সাহিত্যের রস ও উপাদান আনন্দচিত্তে সংগ্রহ করার কথা প্রকাশ করেছেন।

    রবীন্দ্রনাথের মতে, বিশাল পৃথিবীর সবকিছু এককভাবে নিজের চোখে দেখা বা অনুভব করা সম্ভব নয়। তাই অন্যান্য কবি ও লেখকদের বর্ণনায় যেখানেই তিনি জীবনের সত্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চিত্রিত দেখেছেন, নিজের সাহিত্যের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে তিনি তা অকুণ্ঠচিত্তে গ্রহণ করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক ও 'ঐকতান' কবিতার মধ্যে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের দিক থেকে সাদৃশ্য থাকলেও দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের ক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।

    সাদৃশ্য: উদ্দীপকে দ্বিজ-চণ্ডাল, প্রভু-ভৃত্য নির্বিশেষে কৃষক, তাঁতি, স্থপতি, কর্মকার ও চর্মকারের মতো সকল পেশার শ্রমজীবী মানুষের বন্দনা করা হয়েছে। একইভাবে 'ঐকতান' কবিতায়ও কবি সমাজের অবহেলিত ও উপেক্ষিত শ্রমজীবী মানুষের অবদানকে স্বীকার করেছেন এবং সাহিত্যের আঙিনায় তাদের স্থান দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

    বৈসাদৃশ্য: উদ্দীপকের কবি প্রতিটি শ্রমজীবী মানুষকে সরাসরি নমস্কার জানিয়ে তাদের মহিমাকে ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে 'ঐকতান' কবিতায় রবীন্দ্রনাথ আত্মোপলব্ধি করেছেন যে, উচ্চবর্ণ ও অভিজাত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত থাকায় তিনি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেননি; ফলে তাঁর সৃষ্টিতে তাদের যথার্থ রূপায়ণ সম্ভব হয়নি। এই আত্মস্বীকৃতি ও অপূর্ণতার চেতনা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটি শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের জয়গান গেয়ে 'ঐকতান' কবিতার পূর্ণাঙ্গ সাম্যবাদী সাহিত্যের প্রত্যাশার মর্মার্থকে সার্থকভাবে উন্মোচিত করেছে।

    'ঐকতান' কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত মানুষের জীবনপ্রবাহের সাথে সাহিত্যকে যুক্ত করতে চেয়েছেন। তিনি উপলব্ধি করেছেন যে সমাজের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ হলো কৃষক, তাঁতি ও শ্রমজীবী মানুষ, যারা সভ্যতার চাকা সচল রাখে অথচ সমাজে ও সাহিত্যে তারা চিরকাল ব্রাত্য ও উপেক্ষিত। কবি সাহিত্যিকদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন যেন সাহিত্যের ঐকতান সঙ্গীতে এই সাধারণ মানুষের জীবনের জয়গান যুক্ত হয়।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, কবি কোনো সামাজিক ভেদাভেদ না রেখে দ্বিজ-চণ্ডাল, প্রভু-ক্রীতদাস, কৃষক, তাঁতি, সূত্রধর, কর্মকার, চর্মকার সকল স্তরের মেহনতি মানুষকে সশ্রদ্ধ প্রণতি জানিয়েছেন। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিন্দুর মিলনেই যেমন মহাসিন্ধুর জন্ম, তেমনি সমাজের প্রতিটি শ্রমজীবী মানুষের অবদান মিলিয়েই গড়ে উঠেছে মানবসভ্যতা।

    সুতরাং, অবহেলিত শ্রমজীবী মানুষের মানবিক মর্যাদাদান ও তাদেরকে সমাজ ও সৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দুতে স্বীকৃতি দেওয়ার যে বার্তা উদ্দীপকে প্রকাশিত হয়েছে, তা 'ঐকতান' কবিতার মর্মার্থকে স্বার্থকভাবে তুলে ধরে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন