বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

কেউতো জানে না প্রাণের আকুতি বারেবারে সে কি চায়স্বার্থের টানে প্রিয়জন কেন দূরে সরে চলে যায়ধরণির বুকে পাশাপাশি তবু কেউ বুঝি কারো নয়।

  1. ক)

    সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রীর নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    'আমার নালিশ আজ আমার বিরুদ্ধে।'- এ উক্তিটির তাৎপর্য লেখো।

    (2)
  3. গ)

    "উদ্দীপকের দ্বিতীয় লাইনটি যেন 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগমকে ইঙ্গিত করছে।"- ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘৃণিত ও নিন্দিত অধ্যায়টি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রীর নাম লুৎফুন্নিসা (লুৎফা)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'আমার নালিশ আজ আমার বিরুদ্ধে।'- উক্তিটি নবাব সিরাজউদ্দৌলার।

    নবাব সিরাজউদ্দৌলা বুঝতে পেরেছিলেন যে, তিনি নিজের সরলতা ও অতিরিক্ত ক্ষমাশীলতার কারণে তাঁর চরম শত্রু ও বিশ্বাসঘাতকদের বিরুদ্ধে সময়মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেননি। মীর জাফর, ঘসেটি বেগম প্রমুখের একের পর এক ষড়যন্ত্র জেনেও তিনি তাদের ক্ষমা করেছেন এবং বিশ্বাস করে ভুল করেছেন। ফলে দেশ পরাধীনতার দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়ায়। এই ভুলের জন্য নবাব অন্য কাউকে দোষারোপ না করে নিজের দুর্বলতা ও নিষ্ক্রিয়তাকেই দায়ী করে আত্মগ্লানি থেকে উক্ত কথাটি বলেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় লাইন—"স্বার্থের টানে প্রিয়জন কেন দূরে সরে চলে যায়"—'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগমের আচরণ ও স্বার্থপর মানসিকতাকে গভীরভাবে ইঙ্গিত করে।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, ঘসেটি বেগম নবাব সিরাজউদ্দৌলার আপন বড় খালা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মনে নবাবের প্রতি ছিল প্রচণ্ড ঈর্ষা, আক্রোশ ও প্রতিহিংসা। নিজের ক্ষমতা ও সম্পদের লোভ চরিতার্থ করতে তিনি সিরাজউদ্দৌলার বিরোধিতা করেন এবং বিদেশি ইংরেজদের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। আপন রক্ত ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ভুলে কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থের লোভে তিনি দেশের স্বাধীনতা ও নবাবের ধ্বংস সাধনে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন।

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় চরণে স্বার্থের বশবর্তী হয়ে আপনজনের দূরে সরে যাওয়া এবং শত্রুতা সাধনের যে রূপ ফুটে উঠেছে, তা নাটকের ঘসেটি বেগমের ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রযোজ্য। পারিবারিক নৈকট্য থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার অন্ধ মোহে তিনি নবাব সিরাজের চরম শত্রুতে পরিণত হন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে স্বার্থের দ্বন্দ্বে আপনজনের বিশ্বাসঘাতকতা এবং ধরণির বুকে পাশাপাশি থেকেও একে অপরের প্রতি গভীর অনৈক্যের যে রূপ প্রকাশিত হয়েছে, তা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের চরম ঘৃণিত ও নিন্দিত অধ্যায়—বিশ্বাসঘাতকতা ও মিরজাফরি চক্রান্তের স্বরূপকে সার্থকভাবে নির্দেশ করে।

    নাটকে দেখা যায়, নবাবের দরবারের প্রধান সেনাপতি মীর জাফর, উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ, জগতশেঠ এবং আপন খালা ঘসেটি বেগম—প্রত্যেকেই নবাবের পাশাপাশি অবস্থান করেও সিরাজউদ্দৌলার শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন না। তাঁরা সকলেই নবাবের ক্ষতি সাধনে এবং নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য গোপনে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের সাথে চুক্তি করে মাতৃভূমির স্বাধীনতাকে বিপন্ন করে তোলেন। পলাশীর প্রান্তরে মীর জাফরের নিষ্ক্রিয়তা এবং সেনাপতিদের বিশ্বাসঘাতকতা বাংলা তথা সমগ্র ভারতের স্বাধীনতা সূর্যকে অস্তমিত করে দেয়।

    উদ্দীপকের "স্বার্থের টানে প্রিয়জন কেন দূরে সরে চলে যায় / ধরণির বুকে পাশাপাশি তবু কেউ বুঝি কারো নয়" চরণ দুটি পলাশীর চক্রান্তকারীদের অন্তর্নিহিত ঘৃণ্য চরিত্রের সাথে হুবহু মিলে যায়। দরবারে নবাবের পাশে বিনীতভাবে দাঁড়িয়ে থাকার ভান করলেও তাদের অন্তরে ছিল কেবল বিশ্বাসভঙ্গ ও লোভ। সুতরাং, উদ্দীপক ও নাটকের আলোকে এটি সুস্পষ্ট যে, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সবচেয়ে নিন্দিত ও কলঙ্কজনক অধ্যায়টি হলো দেশপ্রেমহীন লোভী চক্রান্তকারীদের পারস্পরিক বিশ্বাসঘাতকতা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন