রসায়ন ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
এনথালপি কাকে বলে?
- খ)(2)
অ্যামোনিয়া একটি প্রশম লিগ্যান্ড- ব্যাখ্যা করো।।
- গ)(3)
C পাত্রের বস্তুটির সংরক্ষণ প্রণালী বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রাসায়নিক দ্রব্যগুলো ল্যাবরেটরিতে ব্যবহারের সময় কীরূপ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্থির চাপে কোনো সিস্টেমের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং চাপ ও আয়তনের গুণফলের সমষ্টিকে ওই সিস্টেমের এনথালপি (Enthalpy) বলে। একে সাধারণত H দ্বারা প্রকাশ করা হয় (H = E + PV)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব নিরপেক্ষ অণু বা পরমাণু জটিল যৌগ গঠনের সময় কেন্দ্রীয় ধাতব পরমাণু বা আয়নকে নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন জোড় (lone pair) দান করে সন্নিবেশ সমযোজী বন্ধন গঠন করে, কিন্তু তাদের নিজস্ব কোনো নিট আধান থাকে না, তাদেরকে প্রশম লিগ্যান্ড বলা হয়। অ্যামোনিয়া () অণুর নাইট্রোজেন পরমাণুতে একটি নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন জোড় বিদ্যমান। জটিল যৌগ (যেমন- ) গঠনের সময় অণুটি এই নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন যুগল কেন্দ্রীয় ধাতব আয়নে দান করে সন্নিবেশ বন্ধন তৈরি করে এবং অণুটির কোনো আধান নেই। তাই অ্যামোনিয়া একটি প্রশম লিগ্যান্ড।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের C পাত্রের বস্তুটি হলো 'আম'। পাকা বা কাঁচা আম সংরক্ষণের প্রধান উপায়গুলো নিম্নে বর্ণনা করা হলো:
১. চিনি বা চিনির ঘন দ্রবণ (Sugar syrup) দ্বারা সংরক্ষণ: আম কেটে টুকরো করে চিনির ঘন সিরাপে ডুবিয়ে রেখে সংরক্ষণ করা যায়। চিনির ঘন দ্রবণ অসমোসিস বা অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় জীবাণুর দেহকোষ থেকে পানি শোষণ করে নেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
২. সোডিয়াম বেনজয়েট ও সাইট্রিক এসিড দ্বারা স্কোয়াশ/জ্যাম তৈরি: আমের পাল্পের সাথে নির্দিষ্ট মাত্রায় খাদ্য সংরক্ষক যেমন সোডিয়াম বেনজয়েট (০.১%) এবং সাইট্রিক এসিড যোগ করে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য হিসেবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়।
৩. আচার তৈরি ও ভিনেগার/তেল দ্বারা সংরক্ষণ: কাঁচা আমের টুকরোকে সরিষার তেল, লবণ, হলুদ ও ভিনেগার (এসিটিক এসিডের দ্রবণ) মিশিয়ে আচার বানিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। এসিটিক এসিড জীবাণু ধ্বংস করে এবং তেলের স্তর অক্সিজেন প্রবেশে বাধা দেয়।
৪. শীতলীকরণ (Refrigeration): কাঁচা বা পাকা আমকে নিম্ন তাপমাত্রায় (৪°C বা ডিপ ফ্রিজে) রেখে এনজাইমের ক্রিয়া ও অণুজীবের বৃদ্ধি মন্থর করে সংরক্ষণ করা যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রাসায়নিক দ্রব্যগুলো হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড () এবং ফরমালডিহাইড ()। এগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল, তীব্র গন্ধযুক্ত, ক্ষয়কারী ও বিষাক্ত প্রকৃতির। তাই ল্যাবরেটরিতে এদের ব্যবহারের সময় নিম্নরূপ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে:
১. ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (PPE) পরিধান:
- অ্যাপ্রন: গায়ে সুতি কাপড়ের ফুলহাতা অ্যাপ্রন পরতে হবে যাতে এসিড বা রাসায়নিক ছিটকে শরীরের ক্ষতি না করে।
- নিরাপত্তা চশমা (Safety Goggles): উদ্বায়ী বা ঝাঁঝালো ধোঁয়া (যেমন- HCl ও ফরমালডিহাইড বাষ্প) চোখের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, তাই চশমা পরা আবশ্যক।
- হ্যান্ড গ্লাভস: ত্বকের সংস্পর্শ রোধে নাইট্রিল বা উপযুক্ত সুরক্ষা গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে।
- মাস্ক: ফরমালডিহাইডের কটু গন্ধ ও এসিডের বাষ্প থেকে শ্বাসতন্ত্র রক্ষায় সঠিক ফিল্টারযুক্ত মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
২. ফিউম হুডের ব্যবহার:
- ফরমালডিহাইড এবং গাঢ় HCl উভয়েই অত্যন্ত উদ্বায়ী এবং তীব্র ঝাঁঝালো বাষ্প তৈরি করে। তাই এদের দ্রবণ তৈরি বা ব্যবহারের সব কাজ সর্বদা ফিউম হুডের (Fume hood) ভেতরে সম্পাদন করতে হবে।
৩. নিরাপদ দ্রবণ প্রস্তুতি:
- গাঢ় HCl লঘুকরণের সময় কখনোই এসিডের মধ্যে সরাসরি পানি যোগ করা যাবে না; বরং পর্যাপ্ত পানির ভেতর ধীরে ধীরে নাড়িয়ে নাড়িয়ে এসিড যোগ করতে হবে যাতে তাপজনিত বিস্ফোরণ বা ছিটকে পড়া রোধ করা যায়।
৪. দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা:
- রাসায়নিক কোনো কারণে ত্বকে লাগলে প্রচুর পানি দিয়ে ধুতে হবে এবং চোখে লাগলে আই-ওয়াশ (Eye-wash) ব্যবহার করতে হবে।
- কাজ শেষে বর্জ্য রাসায়নিকগুলোকে সরাসরি বেসিনে না ফেলে যথাযথ নিষ্কাশন পাত্রে জমা করে নিষ্ক্রিয়করণ করতে হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও