ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
জাপানের রাজা হিরোহিতো যখন জনসমক্ষে আসেন তখন সবাই অবাক। তিনি তো তাদের মতোই একজন মানুষ। অথচ একদল পুরোহিত এতদিন বলে আসছিল তিনি মানুষ নন বরং দেবতা। পুরোহিতদের বলা এসব কাহিনি যখন রাজার গোচরে যায় তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, জনগণের মাঝে মিলেমিশেই দেশ শাসন করবেন। বে সমস্ত পুরোহিত এসব কাহিনি প্রচার করেছিল তাদের তিনি কঠোর শাস্তি প্রদান করেন। রাজা হিরোহিতোর শাসন বিষয়ক সিদ্ধান্ত তাঁকে জাপানের প্রথম রাজা হিসেবে অমর করে রাখে।
- ক)(1)
উত্তর আফ্রিকায় কোন বংশের শাসনকে উৎখাত করে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
- খ)(2)
উত্তর আফ্রিকায় প্রতিষ্ঠিত খিলাফতকে ফাতেমি খিলাফত বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত রাজা হিরোহিতোর সাথে উত্তর আফ্রিকার কোন্ ফাতেমি খলিফার সামঞ্জস্য দেখা যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে পুরোহিতদের প্রচারণার নিরিখে উত্তর আফ্রিকার ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠায় আবু আবদুল্লাহ আশ শিল্পীর কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উত্তর আফ্রিকায় আগলাবি বংশের শাসনকে উৎখাত করে ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উত্তর আফ্রিকায় প্রতিষ্ঠিত খিলাফতটির প্রতিষ্ঠাতারা নিজেদের মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা ফাতিমা (রা.) এবং চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা.)-এর বংশধর বলে দাবি করতেন। বিবি ফাতিমার নামের সাথে সম্পর্কযুক্ত করে শিয়া মতাদর্শভিত্তিক এই খিলাফতকে ‘ফাতেমি খিলাফত’ নামকরণ করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত রাজা হিরোহিতোর সাথে উত্তর আফ্রিকার ফাতেমি খলিফা আল-মুইজের (বা খলিফা আল-হাকিমের বিপরীত সংস্কার হিসেবে খলিফা উবায়দুল্লাহ আল-মাহদি / আল-মুইজ)-এর সামঞ্জস্য লক্ষণীয়। তবে বিশেষভাবে ফাতেমি খলিফা আল-মুইজ লি-দিনিল্লাহ বা আল-হাকিম যখন নিজেকে দেবতার স্থানে বসানোর চেষ্টা বন্ধ করেন কিংবা সাধারণ মানুষের সাথে মিশে রাজ্য পরিচালনা করেন, তার মিল পাওয়া যায়। ফাতেমি ইতিহাসে খলিফা আল-মুইজ ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ ও বাস্তববাদী শাসক, যিনি অন্ধ কুসংস্কার ও চরমপন্থার ঊর্ধ্বে উঠে প্রজাহিতৈষী শাসন পরিচালনা করেছিলেন। আল-মুইজের ন্যায়পরায়ণতা, মিসর জয় এবং জনগণের সাথে গভীর সম্পর্ক তাকে ফাতেমি খিলাফতের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে অমর করে রেখেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠায় দাঈ আবু আবদুল্লাহ আশ-শিয়ার কর্মকাণ্ড ছিল ভিত্তিপ্রস্তরস্বরূপ এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে যেমন পুরোহিতদের প্রচারণার প্রভাব দেখা যায়, তেমনি ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠার পেছনে শিয়া মতাদর্শ প্রচারকারী আবু আবদুল্লাহর সুদূরপ্রসারী প্রচার ও ধর্মীয় অনুপ্রেরণা কাজ করেছিল। আবু আবদুল্লাহ ইয়েমেন থেকে উত্তর আফ্রিকার মাগরেবে এসে বার্বার জনগোষ্ঠীর (বিশেষ করে কিতামা গোত্র) মধ্যে মাহদির আবির্ভাব ও শিয়া মতাদর্শের বার্তা সুকৌশলে প্রচার করতে থাকেন। তাঁর আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব, অসাধারণ বাগ্মিতা এবং প্রচারণার ফলে বার্বাররা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে তাঁদের উদ্ধারের জন্য ইমাম মাহদির আগমন আসন্ন।
আবু আবদুল্লাহ কেবল ধর্মীয় প্রচারণাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি একটি শক্তিশালী অনুগত সেনাদল গঠন করেন। এই বাহিনীর সাহায্যে তিনি তিউনিসিয়ার সুন্নি শাসক আগলাবি রাজবংশকে পরাজিত করে তাদের রাজধানী কায়রোয়ান ও রক্কাদা দখল করেন। এরপর তিনি উবায়দুল্লাহ আল-মাহদিকে সিজিলমাসার কারাগার থেকে মুক্ত করে এনে সিংহাসনে বসান এবং উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমি খিলাফতের সূচনা করেন। সুতরাং, আবু আবদুল্লাহ আশ-শিয়ার অক্লান্ত প্রচার ও রাজনৈতিক সামরিক দক্ষতাই ফাতেমি খিলাফত প্রতিষ্ঠার প্রধান নিয়ামক ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও