জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
নেফ্রিডিয়া কী?
- খ)(2)
অপ্রকৃত সিলোমযুক্ত প্রাণী বলতে কী বুঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণী পর্ব দুটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রাণী দুটি মেরুদণ্ডী নয় কেন? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নেফ্রিডিয়া হলো অ্যানেলিডা (Annelida) পর্বের প্রাণীদের প্রধান প্যাঁচানো নালিকাকার রেচন অঙ্গ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব প্রাণীর ভ্রূণীয় বিকাশের সময় মেসোডার্ম স্তর থেকে সৃষ্ট গহ্বরটি মেসোডার্মাল পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে না, বরং ব্লাস্টোসিল অংশবিশেষ মেসোডার্মাল কোষে আবৃত থাকে, তাদের অপ্রকৃত সিলোমযুক্ত প্রাণী বা সিউডোসিলোমেট (Pseudocoelomate) বলে। যেমন: নেমাটোডা (Nematoda) ও রটিফেরা (Rotifera) পর্বের প্রাণীরা অপ্রকৃত সিলোমযুক্ত প্রাণী।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত 'চিত্র-ক' প্রাণীটি হলো চিংড়ি, যা আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) পর্বভুক্ত এবং 'চিত্র-খ' প্রাণীটি হলো ঝিনুক, যা মলাস্কা (Mollusca) পর্বভুক্ত। নিম্নে এদের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো:
১. আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) পর্বের বৈশিষ্ট্য:
(ক) দেহ সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গবিশিষ্ট এবং খণ্ডকায়িত।
(খ) বহিঃকঙ্কাল কাইটিননির্মিত কিউটিকল দ্বারা আবৃত।
(গ) এদের দেহগহ্বর রক্তে পূর্ণ থাকে, যাকে হিমোসিল (Haemocoel) বলে এবং উন্মুক্ত সংবহনতন্ত্র দেখা যায়।
(ঘ) মাথায় একজোড়া পুঞ্জাক্ষি এবং অ্যান্টেনা থাকে। প্রধান রেচন অঙ্গ ম্যালপিজিয়ান নালিকা।২. মলাস্কা (Mollusca) পর্বের বৈশিষ্ট্য:
(ক) দেহ নরম, মাংসল ও সাধারণত অখণ্ডকায়িত।
(খ) দেহ পাতলা ম্যান্টল (Mantle) নামক পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে, যা থেকে ক্ষরিত চুনজাতীয় পদার্থ দিয়ে শক্ত খোলক গঠিত হয়।
(গ) চলাচলের জন্য পেশিবহুল মাংসল পদ (Muscular foot) থাকে।
(ঘ) পৌষ্টিকনালিতে কাইটিননির্মিত জিহ্বা বা র্যাडुলা (Radula) বিদ্যমান (ঝিনুকে অনুপস্থিত)। এদের রক্ত সংবহনতন্ত্র সাধারণত উন্মুক্ত প্রকৃতির। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রাণী দুটি হলো যথাক্রমে চিংড়ি (পর্ব: Arthropoda) এবং ঝিনুক (পর্ব: Mollusca)। এরা উভয়ই অমেরুদণ্ডী (Invertebrate) প্রাণী, মেরুদণ্ডী নয়। নিম্নে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. নটোকর্ড ও মেরুদণ্ড অনুপস্থিত: মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ভ্রূণাবস্থায় পৃষ্ঠীয় মধ্যরেখা বরাবর স্থিতিস্থাপক নটোকর্ড থাকে, যা পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় অস্থিময় বা তরুণাস্থিময় মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু চিংড়ি ও ঝিনুকের জীবদ্দশার কোনো দশাতেই নটোকর্ড সৃষ্টি হয় না এবং এদের দেহে কোনো মেরুদণ্ড থাকে না।
২. স্নায়ুরজ্জু ও মস্তিষ্কের অবস্থান: মেরুদণ্ডী প্রাণীদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ফাঁপা, একক এবং দেহের পৃষ্ঠদেশে (dorsal side) অবস্থান করে। অন্যদিকে চিংড়ি ও ঝিনুকের স্নায়ুতন্ত্র নিরেট এবং অঙ্কীয় দেশে (ventral side) গ্যাংগ্লিয়ার মাধ্যমে গঠিত।
৩. গলবিলীয় ফুলকা রন্ধ্র: মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ভ্রূণাবস্থায় বা আজীবন গলবিলের উভয় পাশে ফুলকা রন্ধ্র (Pharyngeal gill slits) থাকে। কিন্তু উদ্দীপকের প্রাণী দুটিতে এই ধরনের গলবিলীয় ফুলকা রন্ধ্র অনুপস্থিত।
৪. কঙ্কালতন্ত্র: মেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রধান অবলম্বন হলো মেসোডার্ম উদ্ভূত অন্তকঙ্কাল (Endoskeleton)। বিপরীতে, চিংড়ির দেহ কাইটিনময় বহিঃকঙ্কালে এবং ঝিনুকের দেহ চুননির্মিত খোলক নামক বহিঃকঙ্কালে আবৃত থাকে; এদের কোনো অস্থিময় অন্তকঙ্কাল নেই।
৫. হৃৎপিণ্ড ও সংবহনতন্ত্র: মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ড অঙ্কীয় দেশে অবস্থিত এবং এদের সংবহনতন্ত্র সম্পূর্ণ বদ্ধ। অথচ উদ্দীপকের প্রাণী দুটির সংবহনতন্ত্র উন্মুক্ত (হিমোসিল উপস্থিত) এবং রক্তসঞ্চালন পদ্ধতি মেরুদণ্ডী প্রাণীদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহের অনুপস্থিতির কারণেই উদ্দীপকের প্রাণী দুটি কর্ডাটা বা মেরুদণ্ডী পর্বের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং নন-কর্ডাটা বা অমেরুদণ্ডী প্রাণী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও