বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই এই দাবিতে ধর্মঘট বরকত সালামের খুনে লাল ঢাকা রাজপথ।।স্মৃতিসৌধ ভাঙিয়াছ জেগেছে পাষাণের প্রাণ মোরা কি ভুলিতে পারি খুনে রাঙা জয় নিশান।।
- ক)(1)
'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধে ডেপুটি জেলারের নাম কী?
- খ)(2)
"বাবার কালের জীবনটা যেন রাস্তায় না যায়"- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই এই দাবিতে ধর্মঘট" উক্তিটির আলোকে 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার সাদৃশ্য বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ঘটনার আলোকে 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার মূলভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধে উল্লেখিত ফরিদপুর জেলের ডেপুটি জেলারের নাম ছিল জনাব মোখলেসুর রহমান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"বাবার কালের জীবনটা যেন রাস্তায় না যায়"—কথাটি দ্বারা জাহাজের এক কর্মচারীর অনাহারে বা কষ্টে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুবরণ করার আশঙ্কা ও অসহায়ত্বকে বোঝানো হয়েছে।
'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় ফরিদপুর জেলে নেওয়ার পথে রাতে স্টিমারে ওঠার পর রাজনৈতিক বন্দি শেখ মুজিবুর রহমান ও মহিউদ্দিন আহমদ গোপনে একজন কর্মচারীর সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভাষা আন্দোলন নিয়ে আলাপ করছিলেন। তখন সে জানায় যে কর্মচারীদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ এবং তাদের ন্যায্য দাবি মানা হচ্ছে না। তাদের দুর্দশা এত চরমে পৌঁছেছে যে শেষ পর্যন্ত না খেয়ে পথেই হয়তো প্রাণ হারাতে হবে—এই আক্ষেপ ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করতেই সে উক্ত মন্তব্যটি করেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই এই দাবিতে ধর্মঘট" চরণটি 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় বর্ণিত ভাষা আন্দোলনের কর্মসূচি ও বন্দি নেতাদের অনশনের উদ্দেশ্যের সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোর স্মৃতিচারণ করেছেন। বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করেছিল। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু ও মহিউদ্দিন আহমদ রাজবন্দিদের মুক্তি এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে অনশন ধর্মঘট শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন এবং পরবর্তীতে ফরিদপুর জেলে গিয়ে অনশন অব্যাহত রাখেন।
উদ্দীপকেও মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার জন্য ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের ধর্মঘটের মূল দাবি ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, যা 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় ২১শে ফেব্রুয়ারির ছাত্র-জনতার ধর্মঘট এবং জেলে বঙ্গবন্ধুর অনশন ধর্মঘটের উদ্দেশ্যের সাথে হুবহু মিলে যায়। উভয় স্থানেই রাষ্ট্রভাষার অধিকার আদায়ে ধর্মঘটকে প্রতিবাদের মূল হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করার সাদৃশ্য ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ ও প্রতিরোধের চেতনা 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার মূলভাবের সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।
'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি, শহিদদের মহান আত্মত্যাগ এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চিত্রিত হয়েছে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষার দাবিতে ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ নির্মমভাবে গুলি চালায়। এতে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। জেলে বন্দি থেকেও বঙ্গবন্ধু এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় নিজের জীবন বাজি রেখে অনশন চালিয়ে যান। এই রচনায় ফুটে উঠেছে ভাষার জন্য রক্তদান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম এবং শহিদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আত্মমর্যাদাবোধ।
উদ্দীপকের কবিতাংশেও বরকত ও সালামের রক্তে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হওয়া এবং প্রথম শহিদ মিনার গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও বাঙালির জেগে ওঠার ইতিহাস ধ্বনিত হয়েছে। পাষাণের প্রাণ জেগে ওঠা এবং শহিদদের রক্তের জয় নিশানকে কখনো ভুলে না যাওয়ার অঙ্গীকারের মাধ্যমে বাঙালির অদম্য প্রতিরোধ ও জাতীয়তাবাদী চেতনার জয়গান গাওয়া হয়েছে।
'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার মূল শিক্ষা হলো—ভাষার মর্যাদা ও দেশের স্বার্থে রক্ত ও আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যায় না। উদ্দীপকে ঠিক একই আত্মবলিদান ও রক্তে রাঙানো বিজয়ের চেতনাকে তুলে ধরা হয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনাটি ভাষা শহিদদের আত্মদান ও চেতনার আলোকে 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার মূলভাবকে সার্থকভাবে প্রতিফলিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও