ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

উত্তরাধিকার সূত্রে তকী খান এক বিশাল জমিদারির মালিক। হন। তিনি এতিম ও অসহায়দের সাহায্যার্থে বিভিন্ন দফতর প্রতিষ্ঠা করেন এবং এ কাজে রাজকোষের প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। এ ছাড়া জমিদারি পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষ করে খাজনা-ট্যাক্স আদায়ে যথেষ্ট নমনীয়তার পরিচয় দেন। এতে জমিদারের প্রতি জনগণের ভালোবাসা ও আনুগত্য প্রকাশ পেলেও রাজ্যে সুদূরপ্রসারী আর্থিক সংকট দেখা দেয়, যার পরিণতিতে ধীরে ধীরে জমিদারি পতনের দিকে ধাবিত হয়।

  1. ক)

    ফিরোজ শাহ তুঘলক কত খ্রিষ্টাব্দে সালতানাতে অধিষ্ঠিত হন?

    (1)
  2. খ)

    ফিরোজ শাহ ছিলেন ক্রীতদাসদের প্রতি অনুরক্ত-ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে তকী খানের প্রজাহিতৈষী কাজের সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের কাজের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত তকী খানের জমিদারির পরিণতির সাথে তুঘলক বংশের পরিণতি আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফিরোজ শাহ তুঘলক ১৩৫১ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লির সালতানাতে অধিষ্ঠিত হন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফিরোজ শাহ তুঘলক ক্রীতদাসদের প্রতি অত্যন্ত অনুরক্ত ও সহানুভূতিশীল ছিলেন। তিনি সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রীতদাস সংগ্রহ করে তাদের ভরণপোষণ, কারিগরি শিক্ষা ও উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। দাসদের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য তিনি 'দেওয়ান-ই-বান্দাগান' নামে একটি পৃথক সরকারি দপ্তরও গঠন করেছিলেন। তাঁর আমলে দাসের সংখ্যা প্রায় এক লক্ষ আশি হাজারে পৌঁছেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে তকী খানের প্রজাহিতৈষী কাজের সাথে দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের জনকল্যাণমূলক কাজের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক ছিলেন একাধারে প্রজাবৎসল ও মানবতাবাদী শাসক। তিনি দরিদ্র, এতিম ও বিধবাদের আর্থিক সাহায্য এবং কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাদের সহায়তার জন্য 'দেওয়ান-ই-খয়রাত' নামে একটি কল্যাণমূলক দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন। চিকিৎসাসেবার জন্য বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের ব্যবস্থা সম্বলিত 'দারুল শিফা' নামক হাসপাতাল নির্মাণ করেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ও নিপীড়নমূলক কর বাতিল করে প্রজাদের জন্য করব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ ও সহনশীল করেছিলেন।

    উদ্দীপকের তকী খানও এতিম ও অসহায়দের সাহায্যার্থে বিভিন্ন দপ্তর খুলে রাজকোষের অর্থ ব্যয় করেন এবং খাজনা-ট্যাক্স আদায়ে নমনীয়তা প্রদর্শন করেন। এই জনকল্যাণমূলক মানসিকতা ও দানশীলতার দিক থেকে তিনি সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকেরই প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে তকী খানের জমিদারি যেভাবে অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয় ও শিথিলতার কারণে সংকটে পড়ে পতনের দিকে যায়, ফিরোজ শাহ তুঘলকের অতিরিক্ত উদারতা ও ত্রুটিপূর্ণ নীতির ফলেও তুঘলক বংশের পতন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।

    ফিরোজ শাহ তুঘলক প্রজাদের কল্যাণে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন এবং অনৈসলামিক কর রহিত করেন। একই সাথে তিনি সেনাবহিনী ও জায়গির প্রথায় বংশানুক্রমিক নিয়ম চালু করেন এবং যুদ্ধবিগ্রহ পরিহার করে এক নিষ্ক্রিয় সামরিক নীতি গ্রহণ করেন। কর আদায়ে অতিরিক্ত শিথিলতা এবং দাস ও বিভিন্ন বিভাগের পেছনে রাজকোষের বিপুল অর্থ অপচয়ের ফলে সাম্রাজ্যের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে। সামরিক দুর্বলতা এবং কেন্দ্রীভূত শাসনের শৈথিল্যের সুযোগে ফিরোজ শাহের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরিদের আমলে তুঘলক সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ১৩৯৮ সালে তৈমুর লঙের দিল্লি আক্রমণের মাধ্যমে এ বংশ চূড়ান্ত পতনের মুখে পতিত হয়।

    উদ্দীপকে তকী খানের কর শিথিলতা ও রাজকোষের ব্যয় সাময়িক ভালোবাসা আনলেও সুদূরপ্রসারী আর্থিক সংকট তৈরি করে জমিদারি ধ্বংসের কারণ হয়। একইভাবে ফিরোজ শাহ তুঘলকের জনকল্যাণমূলক ও অতিরিক্ত নমনীয় নীতি দিল্লির তুঘলক সাম্রাজ্যের সামরিক ও আর্থিক ভিত্তি ধসিয়ে দিয়েছিল, যা তুঘলক বংশের পতনকে ত্বরান্বিত করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন