অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
’ক' একজন কৃষক। পূর্বের তুলনায় ফসলের উৎপাদন অধিক হওয়ায় তিনি খুব খুশি। যথাসময়ে স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ায় তিনি স্থানীয় কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজারকে ধন্যবাদ দেন। ম্যানেজার সাহেব 'ক' কে বলেন, অধিক ফসল উৎপাদনের পেছনে সরকারের ভূমিকাই মুখ্য। প্রান্তিক কৃষকদের কথা ভেবে সরকার ঋণের সুদের হার কমিয়েছে। বিগত দশকে সরকার দেশে ২৪টি শস্যখামার স্থাপন করেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে অপেক্ষাকৃত সুলভমূল্যে বিক্রীত সারের পরিমাণ ছিল ৪৭.৯১ লক্ষ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগ কর্তৃক চারা উৎপাদনেও বেশ সাফল্য ছিল। বর্তমানে সরকার ৬০ লক্ষ হেক্টর জমি সেচের আওতায় এনেছে। তথাপি-কৃষকের মনে উৎপাদন ব্যয় ও ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
- ক)(1)
'কৃষি ঋণের অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস কী কী ?
- খ)(2)
কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপক থেকে কৃষি উন্নয়নে সরকারের গৃহীত কর্মসূচিসমূহ চিহ্নিত করো ।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে উল্লিখিত কর্মসূচিসমূহ যথেষ্ট কিনা?মতামত দাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষি ঋণের অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎসগুলো হলো—গ্রাম্য মহাজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, ধনী কৃষক, ব্যবসায়ী, ফড়িয়া ও দালাল ইত্যাদি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনকে অগ্রাধিকার দেওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি একদিকে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে পচনশীল পণ্যের অপচয় রোধ করে, অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। এছাড়া কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হয় এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক থেকে কৃষি উন্নয়নে সরকারের গৃহীত নিম্নলিখিত কর্মসূচিসমূহ চিহ্নিত করা যায়:
১. কৃষি ঋণ কর্মসূচি ও সুদের হার হ্রাস: বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের সুবিধার্থে স্বল্প সুদে যথাসময়ে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
২. বীজ ও শস্যখামার স্থাপন: উন্নত জাতের বীজ ও শস্য উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশে ২৪টি শস্যখামার স্থাপন করা হয়েছে।
৩. কৃষি উপকরণের ভর্তুকি/সুলভমূল্যে সার বিতরণ: কৃষকদের সুবিধার্থে অপেক্ষাকৃত সুলভমূল্যে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৪৭.৯১ লক্ষ মেট্রিক টন সার বিতরণ করা হয়েছে।
৪. চারা উৎপাদন ও সম্প্রসারণ: কৃষি বিভাগের মাধ্যমে উন্নতমানের চারা উৎপাদন কার্যক্রমে সাফল্য অর্জন করা হয়েছে।
৫. সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ: কৃষিজমিতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও খরার ঝুঁকি কমাতে ৬০ লক্ষ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মসূচিসমূহ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও কার্যকরী হলেও তা দেশের সার্বিক কৃষি উন্নয়নের জন্য এককভাবে সম্পূর্ণ 'যথেষ্ট নয়'।
উদ্দীপকেই উল্লেখ রয়েছে—"তথাপি কৃষকের মনে উৎপাদন ব্যয় ও ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।" এটি স্পষ্ট করে যে কেবল ঋণ ও উপকরণ সহায়তা দিলেই কৃষকের সমস্যার পূর্ণ সমাধান হয় না। কৃষি খাতকে টেকসই করতে আরও যে বিষয়গুলো জরুরি:
১. উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ: মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূর করে কৃষকের সরাসরি বিপণন ব্যবস্থা বা ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে।
২. আধুনিক সংরক্ষণাগার ও হিমাগার স্থাপন: ফসল তোলার মৌসুমে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমে যায়, তাই পর্যাপ্ত আধুনিক হিমাগার স্থাপন অত্যন্ত জরুরি।
৩. জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা: বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ প্রয়োজন।
৪. শস্যবীমা ও কৃষি আধুনিকায়ন: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতির হাত থেকে কৃষককে বাঁচাতে শস্যবীমা চালু এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।অতএব, উল্লিখিত সরকারি উদ্যোগগুলো কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক গতি আনলেও উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বাজারজাতকরণ এবং পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার মতো কাঠামোগত পদক্ষেপ ছাড়া সামগ্রিক কৃষি উন্নয়ন সম্ভব নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও