জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
DNA →M প্রক্রিয়া Q \xrightarrow{\mathrm{M} \text { প্রক্রিয়া }} \mathrm{Q} অণু →N প্রক্রিয়া \xrightarrow{\mathrm{N} \text { প্রক্রিয়া}} - প্রোটিন
- ক)(1)
মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম কী?
- খ)(2)
জেনেটিক কোড বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
'Q' দ্বারা নির্দেশিত অণুর রাসায়নিক গঠন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে নির্দেশিত 'M' ও 'N' প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ারটি ঠিক মাঝখানে অবস্থান করে এবং কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ ধাপে ক্রোমোজোমটি দেখতে ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো দেখায়, তাকে মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ডিএনএ বা এমআরএনএ অণুতে নাইট্রোজেনাস ক্ষারক বা বেসগুলোর (A, U/T, G, C) যে নির্দিষ্ট ত্রয়ী বিন্যাস (ট্রিপলেট কোডন) প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় এক-একটি নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিডের সংকেত বহন করে, তাকে জেনেটিক কোড বলে। জেনেটিক কোড ট্রিপলেট প্রকৃতির, সর্বজনীন বা সার্বজনীন এবং মোট ৬৪টি কোডন প্রোটিন তৈরির ২০টি অ্যামিনো অ্যাসিডকে নির্দেশ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'Q' দ্বারা নির্দেশিত অণুটি হলো mRNA (বা সার্বিকভাবে RNA)। নিচে এর রাসায়নিক গঠন বর্ণনা করা হলো:
RNA মূলত রাইবোনিউক্লিওটাইডের একটি একসূত্রক পলিমার। এর রাসায়নিক গঠনে তিনটি প্রধান উপাদান থাকে:
১. পাঁচ-কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা: এটি একটি পেন্টোজ শর্করা, যার ২ নম্বর কার্বনে একটি হাইড্রোক্সিল (-OH) মূলক উপস্থিত থাকে।
২. অজৈব ফসফেট (ফসফোরিক অ্যাসিড): ফসফোরিক অ্যাসিডের () অণু রাইবোজ শর্করার সাথে যুক্ত হয়ে নিউক্লিওটাইড বন্ধন (ফসফোডাইএস্টার বন্ধন) তৈরি করে পলিনিউক্লিওটাইড শৃঙ্খল গঠন করে।
৩. নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (Nitrogenous Base): RNA-তে দুই ধরনের ক্ষারক থাকে:
ক) পিউরিন: অ্যাডেনিন (A) ও গুয়ানিন (G)।
খ) পাইরিমিডিন: সাইটোসিন (C) ও ইউরাসিল (U)। এতে ডিএনএ-এর মতো থাইমিন থাকে না, থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল থাকে।একটি পেন্টোজ শর্করা ও একটি নাইট্রোজেন ক্ষারক যুক্ত হয়ে তৈরি হয় রাইবোনিউক্লিওসাইড। এর সাথে একটি ফসফেট গ্রুপ যুক্ত হয়ে গঠিত হয় রাইবোনিউক্লিওটাইড। অসংখ্য রাইবোনিউক্লিওটাইড পরপর ফসফোডাইএস্টার বন্ধনে যুক্ত হয়ে একসূত্রক mRNA অণু গঠন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত 'M' প্রক্রিয়াটি হলো ট্রান্সক্রিপশন (Transcription) এবং 'N' প্রক্রিয়াটি হলো ট্রান্সলেশন (Translation)। এদের মধ্যে পার্থক্য নিম্নে তুলে ধরা হলো:
১. সংজ্ঞাগত পার্থক্য: ডিএনএ ছাঁচ থেকে পরিপূরক আরএনএ তৈরির প্রক্রিয়াকে ট্রান্সক্রিপশন (M) বলে। অন্যদিকে এমআরএনএ-এর কোডন অনুসারে রাইবোজোমে অ্যামিনো অ্যাসিড যুক্ত করে পলিপেপটাইড বা প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়াকে ট্রান্সলেশন (N) বলে।
২. সংঘটনের স্থান: ইউক্যারিওটিক কোষে ট্রান্সক্রিপশন মূলত নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে সংঘটিত হয়; কিন্তু ট্রান্সলেশন ঘটে সাইটোপ্লাজমে (রাইবোজোমে)।
৩. প্রধান এনজাইম: ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়ায় মূল ভূমিকা পালন করে RNA পলিমারেজ এনজাইম; ট্রান্সলেশনে মূল ভূমিকা রাখে পেপটিডাইল ট্রান্সফারেজ এনজাইম এবং অ্যামিনোঅ্যাসাইল-tRNA সিন্থেটেজ।
৪. মূল ছাঁচ ও প্রারম্ভিক উপাদান: ট্রান্সক্রিপশনে ছাঁচ হিসেবে ব্যবহৃত হয় DNA-এর একটি স্ট্র্যান্ড ( ছাঁচ); অপরদিকে ট্রান্সলেশনে ছাঁচ হিসেবে ব্যবহৃত হয় mRNA অণু।
৫. উৎপন্ন বস্তু: ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার RNA (প্রধানত mRNA) উৎপন্ন হয়; ট্রান্সলেশনের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট পলিপেপটাইড চেইন বা প্রোটিন উৎপন্ন হয়।
৬. কাঁচামাল: ট্রান্সক্রিপশনের কাঁচামাল হলো রাইবোনিউক্লিওসাইড ট্রাইফসফেট (ATP, GTP, CTP, UTP); আর ট্রান্সলেশনের কাঁচামাল হলো ২০ ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড ও tRNA।সুতরাং, জেনেটিক তথ্যের স্থানান্তর ও প্রোটিন সংশ্লেষণে M ও N প্রক্রিয়াদ্বয় ভিন্ন হলেও একে অপরের পরিপূরক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও