জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • জীবপ্রযুক্তি • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
এক্সপ্লান্ট কাকে বলে?
- খ)(2)
জেনেটিক কোড বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'A' জাতীয় উদ্ভিদের অভিযোজনিক বৈশিষ্ট্য লেখ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'B' উদ্ভিদটি যে বনাঞ্চলের তা আমাদের দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা দেয় — ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
টিস্যু কালচার প্রযুক্তিতে ব্যবহারের জন্য মূল উদ্ভিদদেহ থেকে পৃথক করা যেকোনো টিস্যু বা অঙ্গের অংশকে এক্সপ্লান্ট (Explant) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ডিএনএ বা এমআরএনএ (mRNA)-এর নাইট্রোজেনাস ক্ষারক বা বেসগুলোর যে নির্দিষ্ট ট্রিপলেট বিন্যাস প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিডের নির্দেশ বহন করে, তাকে জেনেটিক কোড বলে।
জেনেটিক কোড তিনটি পর্যায়ক্রমিক নিউক্লিওটাইড নিয়ে গঠিত হয়, যাকে কোডন বলা হয়। যেমন- AUG কোডনটি মিথিওনিন অ্যামিনো অ্যাসিডকে নির্দেশ করে এবং প্রোটিন সংশ্লেষণ শুরুর সংকেত হিসেবে কাজ করে। মোট ৬৪টি জেনেটিক কোডন রয়েছে, যার মধ্যে ৬১টি কোডন অ্যামিনো অ্যাসিড সংকেতায়ন করে এবং ৩টি সমাপ্তি কোডন হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'A' হলো ক্যাকটাস জাতীয় মরুজ উদ্ভিদ (জেরোফাইট)। শুষ্ক ও চরম প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এদের দেহে নানা ধরনের অঙ্গসংস্থানিক ও শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন দেখা যায়:
১. পাতা রূপান্তর: প্রস্বেদনের হার সর্বনিম্ন রাখতে পাতাগুলো কাঁটায় রূপান্তরিত হয়।
২. রসালো কাণ্ড: কাণ্ড সবুজ, মাংসল ও রসালো হয়, যা পানি সঞ্চয় করে রাখে এবং সালোকসংশ্লেষণ সম্পন্ন করে (পর্ণকাণ্ড বা ক্ল্যাডোড)।
৩. পুরু কিউটিকল: উদ্ভিদের বহিঃত্বকে অত্যন্ত পুরু কিউটিকল ও মোমের স্তর থাকে, যা পানি ক্ষয় রোধ করে।
৪. নিমজ্জিত পত্ররন্ধ্র: এদের পত্ররন্ধ্রগুলো (সানকেন স্টোমাটা) গহ্বরের মধ্যে লুক্কায়িত থাকে, ফলে প্রস্বেদনে পানির অপচয় কমে যায়।
৫. সুগঠিত মূলতন্ত্র: পানির সন্ধানে মূল মাটির অনেক গভীরে প্রবেশ করে এবং শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে।
৬. শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন: এদের বেশিরভাগই CAM (Crassulacean Acid Metabolism) শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, যার ফলে দিনের বেলা পত্ররন্ধ্র বন্ধ রেখেও রাতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করতে পারে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'B'-তে শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোরযুক্ত একটি উদ্ভিদ প্রদর্শিত হয়েছে, যা সুন্দরবন তথা ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের উদ্ভিদকে নির্দেশ করে। এই ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে আমাদের দেশকে ঢাল হিসেবে সুরক্ষা দেয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো:
১. ঘূর্ণিঝড় ও বাতাসের তীব্রতা হ্রাস: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় ও সাইক্লোন (যেমন- সিডর, আইলা, আম্পান ইত্যাদি) উপকূলভাগে আঘাত হানার সময় ম্যানগ্রোভ বনের ঘন বৃক্ষরাজি বিশাল প্রাকৃতিক বাধার সৃষ্টি করে। ফলে বাতাসের প্রচণ্ড গতিবেগ বহুলাংশে কমে যায় এবং অভ্যন্তরভাগের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা হ্রাস পায়।
২. জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধ: সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস উপকূলে সরাসরি আছড়ে পড়তে পারে না। ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের শ্বাসমূল, ঠেশমূল ও শক্ত কাণ্ডের ঘন জালিকা জলোচ্ছ্বাসের তীব্র স্রোতের শক্তিকে ভেঙে দেয়, যার ফলে উপকূলীয় জনপদ প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি কমে।
৩. নদী ও উপকূল ভাঙন রোধ: সুন্দরবনের উদ্ভিদগুলোর মাটির নিচে জালের মতো বিস্তৃত মূলতন্ত্র উপকূলের নরম ও পলিমাটিকে শক্তভাবে ধরে রাখে। ফলে নদীভাঙন ও সমুদ্রের ঢেউয়ের আঘাতে মাটি ক্ষয় রোধ পায়।
৪. জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা: এটি প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সুতরাং, সুন্দরবনের মতো ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জানমাল রক্ষায় এক অনন্য প্রাকৃতিক প্রাচীর হিসেবে কাজ করে আমাদের দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও