কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
বোরাক মিয়া একজন আখ চাষি। প্রতিবছর তিনি আখ চাষ। করে লাভ করেন। এবছর তিনি আখ চাষে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। কারণ অধিকাংশ আখের গায়ে লালচে দাগ পড়েছে। আবার কিছু আখ ভেঙ্গে মাটিতে নুয়ে পড়েছে। বোরাক মিয়া একজন উদ্ভিদ। রোগতত্ত্ববিদের কাছ থেকে আখের জাত ও ভূমি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী বছর আখ চাষে সফলতা অর্জন করলেন।
- ক)(1)
ভূমিক্ষয় কী?
- খ)(2)
ফল পচে কেন?
- গ)(3)
বোরাক মিয়ার আখ চাষে ক্ষতির কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্ভিদ রোগতত্ত্ববিদের পরামর্শের আলোকে বোরাক মিয়ার কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণ (যেমন- বৃষ্টিপাত, বাতাস, নদীর স্রোত) বা মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে ভূপৃষ্ঠের মাটির উপরিভাগ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অপসারিত হওয়াকে ভূমিক্ষয় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিভিন্ন রোগজীবাণু (যেমন- ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া) আক্রমণ, আঘাতজনিত ক্ষত এবং অতিরিক্ত তাপ ও আর্দ্রতাজনিত কারণে ফল পচে যায়। ফলের গায়ে কোনো দাগ বা ক্ষত সৃষ্টি হলে বা সংগ্রহের পর সঠিক বায়ুচলাচলহীন আর্দ্র পরিবেশে রাখলে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে ফল পচিয়ে ফেলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বোরাক মিয়ার আখ চাষে ক্ষতির কারণ হলো আখের মারাত্মক রোগ সংক্রমণ এবং উপযুক্ত ব্যবস্থাপনার অভাব।
১. রেড রট বা লাল পচা রোগ: উদ্দীপকে উল্লেখ আছে বোরাক মিয়ার অধিকাংশ আখের গায়ে লালচে দাগ পড়েছে। এটি মূলত আখের মারাত্মক ছত্রাকজনিত রোগ 'রেড রট' বা আখের লাল পচা রোগের স্পষ্ট লক্ষণ। এ রোগের কারণে আখের ভেতরের টিস্যু লাল হয়ে শুকিয়ে যায় এবং চিনি উৎপাদন ও ফলন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।
২. বাতাস বা ভারজনিত ঢলে পড়া (লজিং) ও দুর্বল ভিত্তি: কিছু আখ ভেঙে মাটিতে নুয়ে পড়ার কারণ হলো জমিতে যথাযথ মাটি না তোলা, আখের গোড়ায় শক্ত মাটির অভাব অথবা পরিপক্ব আখের ঝাড় বেঁধে (বাণ্ডলিং) না দেওয়া। এর ফলে ঝড় বা বাতাসের কারণে আখ ভেঙে মাটিতে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।এসব রোগ ও সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় বোরাক মিয়া ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ভিদ রোগতত্ত্ববিদের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক জাত নির্বাচন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বোরাক মিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মকাণ্ডটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো:
১. রোগ প্রতিরোধী জাতের ব্যবহার: রোগতত্ত্ববিদের পরামর্শ নিয়ে বোরাক মিয়া আখের লাল পচা (রেড রট) রোগ প্রতিরোধী উন্নত জাত নির্বাচন করেছিলেন। এর ফলে আখের ফসলে পুনরায় ছত্রাকজনিত লাল দাগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
২. সঠিক ভূমি ও চারা ব্যবস্থাপনা: রোগমুক্ত বীজখণ্ড (আইকাট) নির্বাচন এবং ছত্রাকনাশক দিয়ে শোধন করে রোপণ করার পরামর্শ তিনি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেছেন।
৩. আখ নুয়ে পড়া রোধে ব্যবস্থা: আখ বড় হওয়ার সাথে সাথে গোড়ায় উঁচু করে মাটি দেওয়া এবং কয়েকটি আখগাছ একসাথে পাতা দিয়ে পেঁচিয়ে বেঁধে দেওয়ার (ট্র্যাশিং ও বাণ্ডলিং) মাধ্যমে আখ ভেঙে পড়া বা নুয়ে পড়া পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।
৪. বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অনুসরণ: নিজের চিরাচরিত ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে বিশেষজ্ঞদের মতামতকে বাস্তবে প্রয়োগ করার ফলেই তিনি ক্ষতির মুখ থেকে বেরিয়ে সফলতায় পৌঁছাতে পেরেছেন।সুতরাং, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পরামর্শ যথাযথভাবে অনুসরণের মাধ্যমে বোরাক মিয়ার গৃহীত পদক্ষেপ ছিল কৃষিতে টেকসই উৎপাদনশীলতা অর্জনের একটি উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও