‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

হাসানপুর গ্রামের  'Y' একজন শিক্ষিত, সৎ ও সাহসী ব্যাক্তি। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে সোচ্চার। তিনি লক্ষ্য করলেন গ্রামের গরীব কৃষকরা সুদখোর মহাজনদের কাছ থেকে  চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সর্বশ্রান্ত হচ্ছে। তিনি কৃষকদের সামরিক শিক্ষায় প্রশিক্ষিত করে তোলেন এবং সুদখোর মহাজনদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। তিনি এ আন্দোলনের নিজের জীবন উৎসর্গ করেন।

  1. ক)

    মৌলিক গণতন্ত্র কী?

    (1)
  2. খ)

    কাকে এবং কেন মজলুম জননেতা বলা হয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত  'Y' এর কর্মকাণ্ডের সাথে তোমার পঠিত বইয়ের কোন রাজনৈতিক নেতার আদর্শের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত নেতার কর্মকাণ্ড কী কেবল কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সীমাবদ্ধ ছিল?  তোমার মতামত তুলে ধর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫৯ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান তৃণমূল পর্যায় থেকে পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে যে বিশেষ সীমিত গণতন্ত্র চালু করেছিলেন, তাকে মৌলিক গণতন্ত্র বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে 'মজলুম জননেতা' বলা হয়।
    কারণ তিনি আজীবন অন্যায়, অবিচার, সামাজিক বৈষম্য এবং শোষক শ্রেণির বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি ও নিপীড়িত (মজলুম) মানুষের অধিকার আদায়ে নিঃস্বার্থভাবে আজীবন তাদের পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেই জনগণ ভালোবেসে তাঁকে 'মজলুম জননেতা' উপাধিতে ভূষিত করেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'Y'-এর কর্মকাণ্ডের সাথে আমার পঠিত ঐতিহাসিক প্রতিরোধ সংগ্রামের বীর নায়ক মীর নিসার আলী তিতুমীরের আদর্শের মিল রয়েছে।
    তিতুমীর ছিলেন একজন সাহসী ও ধর্মপরায়ণ দেশপ্রেমিক নেতা। তিনি ব্রিটিশ শাসন এবং হিন্দু জমিদার ও মহাজনদের অন্যায় কর (যেমন দাড়ির ওপর কর) ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলার দরিদ্র কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তিনি কৃষকদের আত্মরক্ষার স্বার্থে লাঠি ও বাঁশের সাহায্যে অস্ত্র চালনা এবং সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান করেন এবং বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। উদ্দীপকে 'Y' যেভাবে কৃষকদের সুদখোর মহাজনদের হাত থেকে রক্ষা করতে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলে আত্মাহুতি দেন, তা তিতুমীরের ব্রিটিশ ও স্থানীয় নীলকর-জমিদারদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ঐতিহাসিক সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    না, উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত নেতা শহীদ তিতুমীরের কর্মকাণ্ড কেবল কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা ছিল ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক সার্বিক স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রাম।
    তিতুমীর প্রথমে জমিদার ও মহাজনদের অন্যায় কর ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কৃষক অধিকারের আন্দোলন শুরু করলেও অতি দ্রুত তা ইংরেজ উপনিবেশবিরোধী বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশার মূল কারণ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকাঠামো ও তাদের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া জমিদার শ্রেণি।
    তিতুমীর বারাসাতের নারিকেলবাড়িয়ায় বিখ্যাত বাঁশের কেল্লা তৈরি করে একটি স্বাধীন ভূখণ্ড ঘোষণা করেছিলেন এবং নিজস্ব সৈন্যবাহিনী ও প্রশাসন গঠনের উদ্যোগ নেন। ১৮৩১ সালে ইংরেজ বাহিনীর আধুনিক কামানের গোলার সামনে তিনি বাঁশের কেল্লায় যুদ্ধ করে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। তাঁর এই সংগ্রাম ছিল বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা, ধর্মীয় সংস্কার এবং ব্রিটিশ আধিপত্যের মূলোৎপাটনের এক অনন্য রাজনৈতিক সংগ্রাম। সুতরাং, তিতুমীরের অবদান কেবল কৃষক স্বার্থেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তা ছিল বাংলার প্রথম সারির স্বাধীনতা সংগ্রাম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন