অর্থনীতি ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
'X' ও 'Y' দুইজন বন্ধু। তারা দুজন আলাদা দুটি ব্যাংকে কর্মরত। 'X' যে ব্যাংকে চাকরি করেন সে ব্যাংকটি নোট প্রচলন করে। অন্যদিকে 'Y' বন্ধু যে ব্যাংকে চাকরি করেন ঐ ব্যাংকটি জনগণের নিকট থেকে আমানত সংগ্রহ করে এবং বিভিন্ন মেয়াদে ঋণ বিতরণ করে।
- ক)(1)
মুদ্রা কী?
- খ)(2)
দামস্তর ও অর্থের মূল্যের মধ্যে সম্পর্ক কীরূপ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের উল্লিখিত 'X' যে ব্যাংকে চাকরি করে তার ধরণ উল্লেখপূর্বক তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের উল্লিখিত ব্যাংক দুটিয় কার্যাবলির তুলনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যা বিনিময়ের মাধ্যম, মূল্যের পরিমাপক, সঞ্চয়ের বাহন এবং দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির উপায় হিসেবে সর্বজনগ্রাহ্য, তাকে মুদ্রা বা অর্থ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দামস্তর ও অর্থের মূল্যের মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান। দামস্তর বৃদ্ধি পেলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বা অর্থের মূল্য হ্রাস পায়, কারণ একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে পূর্বের তুলনায় কম দ্রব্য ও সেবা ক্রয় করা যায়। পক্ষান্তরে, দামস্তর হ্রাস পেলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় বিধায় অর্থের মূল্য বাড়ে। গাণিতিকভাবে একে Vm = f(1/P) হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' যে ব্যাংকে চাকরি করেন তা হলো 'কেন্দ্রীয় ব্যাংক'। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যা দেশে এককভাবে কাগজী মুদ্রা বা নোট প্রচলন করে থাকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো:
১. একক নোট ও মুদ্রা প্রচলন: কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দেশের একক কর্তৃত্ব নিয়ে ব্যাংক নোট প্রচলন করে থাকে।
২. সরকারের ব্যাংক: এটি সরকারের পক্ষে রাজস্ব সংগ্রহ, ব্যয় নির্বাহ এবং আর্থিক নীতি পরিচালনায় পরামর্শক ও আর্থিক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে।
৩. মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যহীনতা: কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতো মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় না, বরং জনকল্যাণ এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাই এর মূল উদ্দেশ্য। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'X' কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এবং 'Y' বাণিজ্যিক ব্যাংকে কর্মরত। এ দুটি ব্যাংকের কার্যাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য তুলনামূলক আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নোট প্রচলন: কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশে প্রচলিত নোট ও মুদ্রার একক যোগানদাতা। অপরদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংক কোনো নতুন নোট প্রচলন করতে পারে না, কেবল ঋণ সৃষ্টির মাধ্যমে চেক বা ব্যাংক অর্থ তৈরি করে।
২. আমানত গ্রহণ ও ঋণদান: বাণিজ্যিক ব্যাংক সরাসরি সাধারণ জনগণের নিকট থেকে আমানত গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন মেয়াদে ঋণ বিতরণ করে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণ জনগণের সাথে সরাসরি আমানত বা ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে না; এটি অন্যান্য তালিকাভুক্ত ব্যাংকের ব্যাংকার হিসেবে কাজ করে।
৩. উদ্দেশ্যগত পার্থক্য: বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা। পক্ষান্তরে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ও জনকল্যাণ সাধন।
৪. মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ: কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রাবাজারের অভিভাবক হিসেবে ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ ও নীতির অধীনে পরিচালিত হয়ে ঋণ সৃষ্টি করে।অতএব, উদ্দীপকের ব্যাংক দুটির কার্যাবলি ও লক্ষ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির হলেও উভয়েই দেশের ব্যাংকিং কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও