সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
প্রতিষ্ঠিত প্রকৌশলী ইসতিয়াক আহমেদ গ্রামের ছেলে হলেও ঢাকায় বসবাস করেছেন। নিজ গ্রামের ছাত্রদের মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে উন্নততর শিক্ষাদানের জন্য তিনি নিজের নকশায় নিজ খরচে একটি স্কুল নির্মাণ করেন এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহ করেন। কিন্তু শিক্ষকবৃন্দ এসব সরঞ্জামাদি ব্যবহারে প্রশিক্ষিত না হওয়ার কারণে শিক্ষার মান নিম্নমুখীই রয়ে গেল।
- ক)(1)
সংস্কৃতি কত প্রকার?
- খ)(2)
"বাংলাদেশে একটি মিশ্র সংস্কৃতি বিদ্যমান।"- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
ইসতিয়াক সাহেবের স্কুলের নকশা কোন সংস্কৃতিকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত স্কুলটির নিম্নমুখী শিক্ষা সংস্কৃতির কোন তত্ত্বের সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজবিজ্ঞানী ডব্লিউ. এফ. অগবার্নের (W. F. Ogburn) মতে সংস্কৃতি প্রধানত দুই প্রকার: বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে শত শত বছর ধরে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও নৃগোষ্ঠীর মানুষের আগমন এবং তাদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফলে এ দেশের সংস্কৃতিতে বহুমাত্রিক বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়েছে। একেই মিশ্র সংস্কৃতি বলা হয়।
বাঙালি সংস্কৃতির মূল ধারার সাথে দ্রাবিড়, আর্য, অস্ট্রিক, মোঙ্গলীয় ইত্যাদি বিভিন্ন প্রাচীন জাতির সংস্কৃতির মিলন ঘটেছে। পরবর্তীতে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মীয় রীতিনীতি এবং ব্রিটিশ উপনিবেশের প্রভাবে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান এখানে সংমিশ্রিত হয়েছে। ফলে এ দেশের ভাষা, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক, সংগীত ও জীবনযাত্রায় নানা উৎসের সংমিশ্রণ স্পষ্ট, যা প্রমাণ করে বাংলাদেশে একটি মিশ্র সংস্কৃতি বিদ্যমান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসতিয়াক সাহেবের স্কুলের নকশা 'অবস্তুগত সংস্কৃতি'কে নির্দেশ করে।
সংস্কৃতির যে উপাদানগুলো মানুষের চিন্তা, মেধা, জ্ঞান, পরিকল্পনা, মূল্যবোধ ও দক্ষতার সাথে সম্পর্কিত এবং যা ধরা বা ছোঁয়া যায় না, তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। পক্ষান্তরে, মানুষের তৈরি দৃশ্যমান ও স্পর্শযোগ্য উপাদানকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
উদ্দীপকে প্রকৌশলী ইসতিয়াক আহমেদ স্কুল ভবনের যে নকশা (Design) করেছেন, তা মূলত তাঁর মেধা, কারিগরি জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার ফসল। স্কুলের ভবনটি বাহ্যিক ও দৃশ্যমান হওয়ায় বস্তুগত হলেও ভবনের মূল নকশা বা আইডিয়াটি প্রকৌশলীর মেধার বহিঃপ্রকাশ, যা অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ। নকশাকে রূপ দিয়ে যখন স্কুলভবন তৈরি করা হয়, তখন সেটি বস্তুগত রূপ নেয়। সুতরাং, নকশা বা পরিকল্পনাটি সংস্কৃতির অবস্তুগত রূপকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত স্কুলটির নিম্নমুখী শিক্ষা সমাজবিজ্ঞানী ডব্লিউ. এফ. অগবার্নের (William F. Ogburn) দেওয়া 'সাংস্কৃতিক পশ্চাদপদতা তত্ত্ব' বা 'কালচারাল ল্যাগ' (Cultural Lag) তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অগবার্ন তাঁর 'Social Change' (1922) গ্রন্থে সাংস্কৃতিক পশ্চাদপদতা তত্ত্বটি উপস্থাপন করেন। এ তত্ত্ব অনুযায়ী, সংস্কৃতি দুই প্রকার—বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতি। অগবার্নের মতে, সমাজে বস্তুগত সংস্কৃতি যে দ্রুতগতিতে পরিবর্তিত ও উন্নত হয়, অবস্তুগত সংস্কৃতি সে গতিতে এগোতে পারে না। অবস্তুগত সংস্কৃতির এই পিছিয়ে পড়াকেই 'সাংস্কৃতিক পশ্চাদপদতা' বলা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রকৌশলী ইসতিয়াক আহমেদ নিজ খরচে গ্রামে একটি আধুনিক স্কুল নির্মাণ করেন এবং মাল্টিমিডিয়াসহ আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সরবরাহ করেন। এসব উপাদান বস্তুগত সংস্কৃতির দ্রুত উন্নয়নের উদাহরণ। কিন্তু শিক্ষকবৃন্দ সেসব আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহারের মতো পর্যাপ্ত মানসিকতা, জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ লাভ করেননি, যা অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।
ফলস্বরূপ, আধুনিক বস্তুগত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষাদানের দক্ষতা (অবস্তুগত সংস্কৃতি) পিছিয়ে থাকার কারণে শিক্ষার মান নিম্নমুখীই রয়ে যায়। অর্থাৎ বস্তুগত সংস্কৃতির অগ্রগতির সাথে অবস্তুগত সংস্কৃতি খাপ খাইয়ে নিতে না পারার ফলেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনাটি অগবার্নের 'সাংস্কৃতিক পশ্চাদপদতা তত্ত্ব'-এর যথার্থ বাস্তব প্রতিফলন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও