‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে 'P' নামক রাষ্ট্র স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতা অর্জনের পর গঠিত গণপরিষদ অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংবিধান তৈরি করে। লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় প্রকৃতির এ সংবিধান রাষ্ট্রীয় মূলনীতির উল্লেখের পাশাপাশি রাষ্ট্রের জনগণের মৌলিক অধিকার ভোগে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।

  1. ক)

    জলবায়ু পরিবর্তন কী?

    (1)
  2. খ)

    আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের  'P' রাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে তোমার পঠিত কোন রাষ্ট্রের সংবিধানের প্রণয়নের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সংবিধানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সংবিধান একটি উত্তম সংবিধান -মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা সমগ্র পৃথিবীর আবহাওয়ার উপাদানসমূহের (যেমন: তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা ইত্যাদি) দীর্ঘমেয়াদি (সাধারণত ৩০-৪০ বছর বা তার বেশি) গড় পরিবর্তনের অবস্থাকে জলবায়ু পরিবর্তন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হলো ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জন বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মিথ্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা। এর আনুষ্ঠানিক নাম ছিল 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য'। পাকিস্তান সরকার অভিযোগ করেছিল যে, আসামের আগরতলায় বসে ভারতের সহায়তায় সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্র করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। কিন্তু তীব্র গণআন্দোলনের (১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান) মুখে পাকিস্তান সরকার এ মামলা প্রত্যাহার করে রাজবন্দিদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'P' রাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ' জারি করেন। গঠিত গণপরিষদ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির মাধ্যমে মাত্র ১০ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করে। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর এ সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এই সংবিধান ছিল লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয়, যাতে ৪টি মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার সন্নিবেশিত ছিল।

    উদ্দীপকের 'P' রাষ্ট্রটিও রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয় এবং স্বাধীনতা অর্জনের পর গঠিত গণপরিষদ অতি দ্রুততম সময়ে একটি লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান রচনা করে, যাতে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ও মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়। সুতরাং, এই প্রেক্ষাপট ও বৈশিষ্ট্যসমূহ বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাসের সাথে পূর্ণাঙ্গভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সংবিধানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সংবিধান, অর্থাৎ বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান, একটি উত্তম সংবিধান—উক্তিটি যথার্থ।

    একটি উত্তম সংবিধানের যেসব বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন, তার প্রায় সবগুলোই বাংলাদেশের সংবিধানে বিদ্যমান:
    ১. লিখিত রূপ: বাংলাদেশের সংবিধান একটি পূর্ণাঙ্গ লিখিত দলিল। এতে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার প্রতিটি স্তম্ভ সুনির্দিষ্টভাবে বিধিবদ্ধ আছে, যা ব্যাখ্যা করা সহজ।
    ২. দুষ্পরিবর্তনীয়তা: এটি সহজে যেকোনো সাধারণ আইনের মতো পরিবর্তনযোগ্য নয়; সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হয়। এর ফলে শাসকদলের খেয়ালখুশিমতো সংবিধান বিকৃত করা সম্ভব হয় না।
    ৩. মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা: সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুস্পষ্টভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে এবং আদালত কর্তৃক তা বলবৎযোগ্য করা হয়েছে।
    ৪. রাষ্ট্রীয় মূলনীতি: রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য চারটি মূলনীতি (জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা) নির্ধারণ করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে।
    ৫. ক্ষমতা বণ্টন ও সার্বজনীন ভোটাধিকার: সংবিধানে আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য রাখা হয়েছে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের সার্বজনীন ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

    সংক্ষেপে বলা যায়, জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা, স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থা এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার স্পষ্ট প্রতিফলনের কারণে উদ্দীপকের সংবিধানের অনুরূপ বাংলাদেশের সংবিধানকে নিঃসন্দেহে একটি উত্তম সংবিধান হিসেবে অভিহিত করা যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন