অর্থনীতি ২য় পত্র • বাংলাদেশ কৃষি • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

লালমনিরহাট জেলার মোমিন মিয়া একজন উদ্যমী কৃষক। এ বছর তিনি তার জমিতে প্রচুর পরিমাণ ফুলকপি উৎপাদন করেছেন। কিন্তু বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় এবং পরিবহণ খরচ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অপরদিকে খাগড়াছড়ি জেলার দুর্গম এলাকার কৃষক আমান মিয়া তার উৎপাদিত কলা স্থানীয় বাজারে কম দামে বিক্রি করে দেন।

  1. ক)

    শস্য বহুমুখীকরণ কী?

    (1)
  2. খ)

    কৃষিতে অভিযোজন প্রয়োজন কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত কৃষিপণ্যের বিপণন সমস্যাগুলো চিহ্নিত করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য উল্লিখিত সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি নির্দিষ্ট জমিতে কেবল একটি ফসলের ওপর নির্ভর না করে পর্যায়ক্রমে বা একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের লাভজনক ফসল উৎপাদন করাকে শস্য বহুমুখীকরণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ (যেমন- খরা, বন্যা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি) মোকাবিলা করে ফসলের উৎপাদনশীলতা বজায় রাখার জন্য কৃষিতে অভিযোজন প্রয়োজন। অভিযোজনমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবর্তিত বৈরী পরিবেশেও টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মোমিন মিয়া ও আমান মিয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য বিপণনের বেশ কিছু সমস্যা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যথা:
    ১. মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য: মোমিন মিয়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার পেছনে ফড়িয়া, দালাল ও আড়তদারদের মতো মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফাখোরি একটি বড় কারণ।
    ২. উন্নত পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব এবং উচ্চ পরিবহণ ব্যয়: খাগড়াছড়ির দুর্গম এলাকায় যোগাযোগের সংকট থাকায় আমান মিয়া বাইরে পণ্য পাঠাতে পারেন না। আবার মোমিন মিয়ার ক্ষেত্রে উচ্চ পরিবহণ খরচ মুনাফা কমিয়ে দেয়।
    ৩. পণ্যের প্রাচুর্য বা বাজারে চাহিদার চেয়ে জোগান বৃদ্ধি: মৌসুমে ফুলকপির অতিরিক্ত জোগানের কারণে বাজারে দাম পড়ে যায়।
    ৪. সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব: পচনশীল শাকসবজি বা ফলমূল ধরে রাখার হিমাগার না থাকায় কৃষকেরা কম দামে তখনই পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণ ও কৃষিপণ্যের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার নিম্নলিখিত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে:
    ১. সরাসরি বিপণন ব্যবস্থা ও কৃষকের বাজার চালু: মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ কমাতে সরকারি উদ্যোগে সরাসরি 'কৃষক বাজার' গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে কৃষক সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারবে।
    ২. সরকারি ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ ও ক্রয়: মৌসুমে ফসলের ন্যূনতম সমর্থন মূল্য নির্ধারণ করে সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কিনে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারে।
    ৩. আধুনিক হিমাগার ও সংরক্ষণাগার স্থাপন: প্রত্যন্ত ও কৃষিপ্রধান অঞ্চলে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করা, যাতে পচনশীল সবজি ও ফল সংরক্ষণ করে অসময়ে ভালো দামে বিক্রি করা যায়।
    ৪. পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ভর্তুকি: দুর্গম অঞ্চল থেকে কৃষিপণ্য দ্রুত পরিবহণের জন্য বিশেষ 'কৃষি স্পেশাল ট্রেন' বা কম ভাড়ায় পণ্যবাহী যান চালু করা।
    ৫. প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশ: অতিরিক্ত কৃষিপণ্য যেন নষ্ট না হয় সেজন্য খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনে প্রণোদনা দেওয়া।
    এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করলে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব হ্রাস পাবে এবং প্রান্তিক কৃষকেরা উপযুক্ত মূল্য পেয়ে উৎসাহিত হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন