বাংলা ২য় পত্র • ভুল বাক্য ও অপপ্রয়োগ শুধ্ধকরণ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
"কেউ মালা, কেউ তসবি গলায় তাইতে কি জাত ভিন্ন বলায় যাওয়া কিংবা আসার বেলায় জাতের চিহ্ন রয় কার রে।।"
- ক)(1)
'বিলাসী' গল্পে কোন মোগল সম্রাটের নাম উল্লেখ আছে?
- খ)(2)
"গ্রামের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনি সুনাম।" কথাটি কোন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'বিলাসী' গল্পের কোন দিকটিকে নির্দেশ করা হয়েছে? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকটি 'বিলাসী' গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পেরেছে কি? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বিলাসী' গল্পে মোগল সম্রাট বাবরের নাম উল্লেখ আছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৃত্যুঞ্জয়ের অপবাদ ও দুর্নাম বোঝাতে ব্যঙ্গ করে আলোচ্য কথাটি বলা হয়েছে।
মৃত্যুঞ্জয় অনাথ ছেলে হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই তার কোনো অভিভাবক ছিল না। সে নিজের ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াত এবং তার বিরুদ্ধে কোনো বিষয়ে নালিশ করার মতো কোনো আত্মীয় ছিল না। উপরন্তু, গ্রামের কারও বাগান বা গাছের ভালো আম-পাকা ফল সে বাগে পেলেই পেড়ে খেত। এসব কারণে গ্রামের লোকেরা তার প্রতি বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ ছিল। মূলত তার এই অসদাচরণ ও দুর্নামকেই লেখক ব্যঙ্গ করে 'সুনাম' বলে উল্লেখ করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'বিলাসী' গল্পের জাত-পাত ও ধর্মীয় সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে মানবতাবোধের দিকটি নির্দেশ করা হয়েছে।
উদ্দীপকের চরণে লালন শাহ মানুষের বাহ্যিক ধর্মীয় প্রতীক (যেমন মালা বা তসবি) দেখে জাতভেদের অসারতা তুলে ধরেছেন। মানুষের জন্ম ও মৃত্যুর সময় কোনো জাতের চিহ্ন থাকে না, মানব পরিচয়ই আসল।
'বিলাসী' গল্পেও দেখা যায়, সমাজের তথাকথিত উচ্চবর্ণের হিন্দুরা জাত-পাত নিয়ে কঠোর ও নির্মম মনোভাব পোষণ করে। মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হলে তাকে একাকী মৃত্যুর মুখে ফেলে রাখা হলেও এক নীচু জাতের সাপুড়ে কন্যা বিলাসী নিজের জীবন বাজি রেখে সেবা দিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলে। এরপর মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে আপন করে নিলে সমাজপতিরা জাত যাওয়ার অজুহাতে মৃত্যুঞ্জয়ের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায় এবং বিলাসীকে লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দেয়। উদ্দীপকের জাতপাতের ভেদাভেদহীন দৃষ্টিভঙ্গি 'বিলাসী' গল্পের এই নির্মম জাত্যাভিমান ও সমাজের ভণ্ডামির দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি 'বিলাসী' গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি, বরং এটি গল্পের একটি বিশেষ দিককে ধারণ করেছে মাত্র—এ মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে কেবল জাত-পাত ও ধর্মীয় কৃত্রিম বিভেদকে অস্বীকার করে মানুষের সার্বজনীন সত্য রূপটি তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পে জাত-ধর্মের অসারতার পাশাপাশি আরও বহু মানবিক ও সামাজিক সংকট চিত্রিত হয়েছে। গল্পে একদিকে বিলাসীর আত্মত্যাগী ও নিখাদ ভালোবাসা এবং মৃত্যুঞ্জয়ের অকপট কৃতজ্ঞতাবোধ ফুটে উঠেছে, অন্যদিকে গ্রামের তথাকথিত সমাজপতিদের নীচতা, ভণ্ডামি ও পরশ্রীকাতরতার চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। এছাড়া অন্নপাপের নামে সমাজে নারীর প্রতি অবমাননা, কুসংস্কার, নির্মম নির্যাতন এবং পরিশেষে বিলাসীর বিষপানে আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিও গল্পে গুরুত্ব পেয়েছে।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে কেবল জাতভেদের অসারতার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে, কিন্তু 'বিলাসী' গল্পের গভীর প্রেম, আত্মত্যাগ, গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কার, লোভ ও শোষণমূলক সামাজিক বাস্তবতার সামগ্রিক রূপ উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই উদ্দীপকটি গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও