গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

আইরিন ও অনি দুই বোন মিলে পৌষ মেলায় স্টল বুকিং দিল। এজন্য বাজার থেকে কিছু কাপড় কিনল। নকশা করা কাঠে রং দিয়ে কাপড়ে ছাপ দিল। অন্যদিকে অনি কাপড়ে নকশা এঁকে মোম দিয়ে ঢেকে রং করল। এছাড়া কিছু কাপড় সুতা দিয়ে বেঁধে রং করল। স্টল সাজানোর পর সবগুলো সামগ্রী আকর্ষণীয় লাগল。

  1. ক)

    প্রাকৃতিক রং কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ‘কৃত্রিম রং এর স্থায়িত্ব বেশি’— বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    আইরিন যে পদ্ধতিতে বস্ত্র ছাপার কাজ করেছে তার নিয়ম ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘অনির বস্ত্র রঞ্জন পদ্ধতিগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকৃতিতে প্রাপ্ত বিভিন্ন উপাদান যেমন—গাছপালার বাকল, শিকড়, পাতা, ফুল, ফল কিংবা খনিজ ও প্রাণিজ উৎস থেকে আহরিত রংকে প্রাকৃতিক রং বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃত্রিম রং রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরীক্ষাগার বা কারখানায় উৎপাদিত হয়। কৃত্রিম রঙের অণুগুলো তন্তুর ভেতরের রাসায়নিক উপাদানের সাথে অত্যন্ত শক্ত ও স্থায়ী বন্ধন (Chemical Bond) তৈরি করে। এর ফলে এসব রঙে রঞ্জিত কাপড় সাবান দিয়ে ধৌত করলে বা সূর্যালোকের সংস্পর্শে আসলেও রং সহজে উঠে যায় না বা ফ্যাকাশে হয় না। তাই প্রাকৃতিক রঙের তুলনায় কৃত্রিম রঙের স্থায়িত্ব বেশি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইরিন নকশা করা কাঠে রং লাগিয়ে কাপড়ে ছাপ দেওয়ার মাধ্যমে 'ব্লক প্রিন্টিং' (Block Printing) পদ্ধতিতে ছাপার কাজ করেছে।

    ব্লক প্রিন্টিংয়ের নিয়ম নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. প্রস্তুতি: প্রথমে কাপড়টি ধুয়ে মাড়মুক্ত করে সমানভাবে শুকিয়ে ইস্ত্রি করে নিতে হয়। এরপর একটি সমতল ও নরম প্যাডিংযুক্ত টেবিলের ওপর কাপড় টানটান করে পিন দিয়ে আটকে দিতে হয়।
    ২. রঙের পেস্ট তৈরি: কাপড়ের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত কৃত্রিম বা প্রাকৃতিক রঙের সাথে বাইন্ডার, ফিক্সার ও প্রয়োজনীয় রাসায়নিক মিশিয়ে সুষম পেস্ট তৈরি করে কালার ট্রে বা প্যাডে নিতে হয়।
    ৩. ছাপ দেওয়া: খোদাই করা কাঠের ব্লকের নকশার অংশে সমানভাবে রং লাগিয়ে কাপড়ের নির্দিষ্ট স্থানে সঠিকভাবে বসাতে হয়। এরপর হাতের তালু বা মুষ্টি দিয়ে কাঠের ওপর সমান চাপ প্রয়োগ করে ছাপ তুলতে হয়। এভাবে পুরো কাপড়ে নির্দিষ্ট ব্যবধানে ছাপ দেওয়া সম্পন্ন করা হয়।
    ৪. শুকানো ও ফিনিশিং: ছাপা সম্পন্ন হওয়ার পর কাপড়টি ছায়ায় শুকাতে হয় এবং পরে পেছনের দিক থেকে ইস্ত্রি করে রং স্থায়ী করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে অনি দুটি ভিন্ন বস্ত্র রঞ্জন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে—একটি হলো 'বাটিক প্রিন্ট' (মোম দিয়ে নকশা ঢেকে রঞ্জন) এবং অপরটি হলো 'টাই-ডাই' বা বাঁধনি পদ্ধতি (সুতা দিয়ে বেঁধে রঞ্জন)। নিচে এই পদ্ধতি দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. পদ্ধতিগত পার্থক্য: বাটিকে কাপড়ে নকশা এঁকে যেসব অংশ অপরিবর্তিত বা বর্ণহীন রাখতে হয়, সেখানে গলিত মোমের প্রলেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় (Wax resist)। এরপর ঠান্ডা রঙের দ্রবণে ডুবিয়ে রঙ করা হয়। অন্যদিকে, টাই-ডাই পদ্ধতিতে কোনো মোম ব্যবহার করা হয় না; বরং সুতা, রাবার ব্যান্ড বা দড়ি দিয়ে কাপড়কে বিভিন্ন আঙ্গিকে শক্ত করে গিঁট বা বাঁধন দিয়ে রঙে ডোবানো হয়।

    ২. নকশার ধরন ও মার্বেলিং প্রভাব: বাটিকের বিশেষত্ব হলো মোম ভেঙে যাওয়ার ফলে কাপড়ে সূক্ষ্ম আঁকাবাঁকা রেখার মতো বিশেষ ফাটল বা মার্বেলিং এফেক্ট (Crackle effect) তৈরি হয়। অপরদিকে, টাই-ডাই পদ্ধতিতে বৃত্তাকার, রেখাচিত্র, ঢেউ খেলানো বা সানবার্স্ট ধাঁচের ছড়িয়ে পড়া রঙের নকশা তৈরি হয়।

    ৩. প্রক্রিয়া ও জটিলতা: বাটিকের কাজে নকশা আঁকা, মোম লাগানো এবং রং করার পর গরম পানিতে সিদ্ধ করে মোম অপসারণের একাধিক জটিল ধাপ থাকে। কিন্তু টাই-ডাই তুলনামূলক সহজ ও দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, কেবল বাঁধন খুলে ধুয়ে শুকালেই চলে।

    ৪. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: বাটিকের জন্য ঠান্ডা পানিতে কার্যকর রং (যেমন প্রসিয়ন বা ভ্যাট ডাই) ব্যবহার করতে হয়, যাতে মোম গলে না যায়। টাই-ডাইয়ের ক্ষেত্রে গরম বা ঠান্ডা উভয় প্রকার রঙেই সহজে কাজ করা যায়।

    সুতরাং, দুটি পদ্ধতিই প্রতিরোধমূলক রঞ্জন পদ্ধতি (Resist Dyeing) হলেও এদের প্রযুক্তিগত কৌশল, নকশার বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োগ প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন