বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

দিন কাটিয়া যায়। জীবন অতিবাহিত হয়। পদ্মার ভাঙন-ধরা তীরে মাটি ধসিতে থাকে। পদ্মার বুকে জল ভেদ করিয়া জাগিয়া উঠে চর। অর্ধ শতাব্দীর বিস্তীর্ণ চর পদ্মার জলে আবার বিলীন হইয়া যায়। জেলে পাড়ার শিশুর ক্রন্দন কোনোদিন বন্ধ হয় না। ক্ষুধা-তৃষ্ণার দেবতা, হাসি-কান্নার দেবতা, অন্ধকার আত্মার দেবতা ইহাদের পূজা কোনো দিন সাজা হয় না।

  1. ক)

    মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    “আমার হাত হইতে দুষ্ট আত্মা, ভূতপ্রেতও রক্ষা পায় নাই।" উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের শেষ বাক্যের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের সূচনা অংশের যে দিকটির মিল পাওয়া যায়, সে দিকটি তুলে ধর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে 'লালসালু' উপন্যাসের মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেনি।"মন্তব্যটির যৌক্তিকতা আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম জমিলা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি দ্বারা খালেক ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবির ওপর প্রভাব বিস্তার করার জন্য মজিদের নিজের অলৌকিক ও আত্মিক শক্তির মিথ্যা বড়াই প্রকাশ পেয়েছে।

    'লালসালু' উপন্যাসে নিঃসন্তান আমেনা বিবি আওয়ালপুরের পিরের পানি-পড়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলে মজিদের অহংবোধ ও আধিপত্যে আঘাত লাগে। আমেনা বিবিকে মানসিকভাবে ভীত ও বশীভূত করার উদ্দেশ্যে মজিদ আত্মগরিমা প্রকাশ করে বলে যে, তার মতো শক্তিধর ব্যক্তির হাত থেকে দুষ্ট আত্মা বা ভূতপ্রেতও নিস্তার পায়নি; সুতরাং পিরের পানির জন্য ব্যাকুল হওয়া আমেনার ভুল ছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষ বাক্যের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের সূচনা অংশে বর্ণিত মানুষের ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অপ্রাপ্তির চিরন্তন হাহাকারের মিল পাওয়া যায়।

    'লালসালু' উপন্যাসের সূচনায় দেখা যায়, শস্যহীন প্রান্তরের মানুষগুলো প্রতিনিয়ত পেটের জ্বালা ও ক্ষুধার তাড়নায় দিশেহারা। সেখানে জীবনের চেয়ে ক্ষুধার বাস্তবতা অনেক বেশি তীব্র ও নির্মম। খাদ্যের অভাবেই তারা নিজ গ্রাম ছেড়ে দেশ-দেশান্তরে পাড়ি জমায় এবং সেই রিক্ততা পূরণ করতেই ধর্ম ও ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে।

    উদ্দীপকের শেষ বাক্যে বলা হয়েছে—"ক্ষুধা-তৃষ্ণার দেবতা, হাসি-কান্নার দেবতা, অন্ধকার আত্মার দেবতা ইহাদের পূজা কোনো দিন সাজা হয় না।" অর্থাৎ পদ্মাপাড়ের প্রান্তিক জেলে জনগোষ্ঠীর ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের অবসান কখনো ঘটে না; তাদের জীবনে আনন্দ ও বাঁচার আয়োজন চিরকালই অপূর্ণ ও অবহেলিত থেকে যায়। উপন্যাসের প্রারম্ভে গ্রামীণ শস্যহীন মানুষদের যে অনাহার ও তীব্র অস্তিত্বের সংকটের কথা বলা হয়েছে, উদ্দীপকের জেলেদের নিত্যদিনের ক্ষুধা ও অপূর্ণতার মধ্যেও সেই একই বাস্তবতার রূপ ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকে 'লালসালু' উপন্যাসের মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেনি” — মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    'লালসালু' উপন্যাসের মূল বিষয় হলো গ্রামীণ পশ্চাৎপদ সমাজে ধর্মকে ঢাল বানিয়ে স্বার্থান্বেষী মানুষের ভণ্ডামি, কুসংস্কার, শোষণ এবং সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের চিত্র। মজিদ নামের এক চতুর ব্যক্তি মহব্বতনগর গ্রামে এসে একটি অজ্ঞাত কবরকে পবিত্র মাজার রূপ দিয়ে মানুষের ধর্মীয় ভীতি ও বিশ্বাসকে শোষণ করে নিজের ব্যক্তিস্বার্থ ও আধিপত্য কায়েম করে। ধর্মের অপব্যবহার ও শোষণের বিরুদ্ধে মানবিক প্রতিরোধই এ উপন্যাসের মূল সুর।

    পক্ষান্তরে উদ্দীপকটিতে নদীর ভাঙা-গড়া, পদ্মাপাড়ের প্রকৃতির নিষ্ঠুর খেলা এবং প্রান্তিক জেলে জনগোষ্ঠীর আবহমানকালের দারিদ্র্য, দুঃখ-কষ্ট ও ক্ষুধার চিরন্তন হাহাকার চিত্রিত হয়েছে। এখানে প্রকৃতির রুদ্র রূপ এবং মানুষের বেঁচে থাকার স্বাভাবিক সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠলেও ধর্মব্যবসা, কুসংস্কারাচ্ছন্নতা বা ভণ্ড মাজারকেন্দ্রিক শোষণের কোনো দিক অনুপস্থিত।

    সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকটি কেবলমাত্র মানবজীবনের ক্ষুধা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংগ্রামী বাস্তবতাকে ধারণ করেছে, যা 'লালসালু' উপন্যাসের মূল উপজীব্য ধর্মভিত্তিক শোষণ ও অন্ধবিশ্বাসের স্বরূপকে প্রতিফলিত করে না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'লালসালু' উপন্যাসের মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেনি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন