বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

নতুন বাইকে চেপে রাশেদ একদিন বিকেলে তার মামার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে নির্জন স্থানে লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একজন লোক হাত তুলে তাকে থামতে বলে। রাশেদ কাছে গিয়ে বাইক থামালে লোকটি তাকে অনুরোধ করে বলে- "ভাই, আমি একজন পঙ্গু মানুষ, দয়া করে আমাকে সামনের মোড়ে নামিয়ে দিবেন?" রাশেদ তাকে বাইকের পিছনে নিয়ে কিছুদূর যেতেই লোকটি কৌশলে তার হাতের লাঠি ফেলে দেয় এবং তাকে লাঠিটা আনতে অনুরোধ করে। রাশেদ বাইক থেকে নেমে লাঠি আনতে গেলে লোকটি নিমিষেই বাইক নিয়ে উধাও হয়ে যায়।

  1. ক)

    ইংরেজরা পরাজিত হয়ে কোন জাহাজে আশ্রয় নেয়?

    (1)
  2. খ)

    ইনি কি নবাব, না ফকির?"- মীরজাফর সম্পর্কে ক্লাইভের এ উক্তির কারণ কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত পঙ্গু লোকটির বিশ্বাসঘাতকতার সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কতটুকু মিল আছে- আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সরল বিশ্বাসের কারণে মানুষ প্রতারণার শিকার হয়- উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি 'সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ক্ষেত্রে কতটুকু সত্য তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নবাব সিরাজউদ্দৌলার কাছে পরাজিত হয়ে ইংরেজরা ফলতা দ্বীপে জাহাজে আশ্রয় নেয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নবাব মীরজাফরের চরম অর্থলোভ, ব্যক্তিত্বহীনতা ও তোষামোদি স্বভাব দেখে ক্লাইভ ব্যঙ্গ করে উক্তিটি করেছিল।

    পলাশীর যুদ্ধের পর মীরজাফর পুতুল নবাব হিসেবে ক্ষমতায় বসলেও তার প্রকৃত কোনো সার্বভৌম ক্ষমতা বা আত্মমর্যাদা ছিল না। ইংরেজদের শর্ত পূরণ ও তাদের খুশি করতে সে রাজ্যের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ক্লাইভের কাছে বারবার দীনহীনভাবে ভিক্ষুকের মতো আচরণ করছিল। একজন নবাবের এমন লাচার ও পরনির্ভরশীল ব্যক্তিত্বহীন রূপ দেখেই ক্ষুব্ধ ও বিদ্রূপকারী ক্লাইভ প্রশ্ন তোলে—তিনি কি নবাব, নাকি কোনো ফকির।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত পঙ্গু লোকটির অসহায়ত্বের ভান করে সুযোগ বুঝে বিশ্বাসঘাতকতা করার সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মীরজাফর ও ঘসেটি বেগমদের কপটতা ও বিশ্বাসঘাতকতার গভীর মিল রয়েছে।

    সিকান্দার আবু জাফরের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, মীরজাফর নবাবের প্রধান সেনাপতি হয়ে এবং পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে নবাবের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করেও তলে তলে ইংরেজদের সাথে চক্রান্তে লিপ্ত হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে সে নিষ্ক্রিয় থেকে নবাবের সবচেয়ে বড় বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে চরম বেইমানি করে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, পঙ্গু লোকটি অসহায়ত্বের নাটক করে রাশেদের সহানুভূতি লাভ করে বাইকে ওঠে এবং সুযোগ পাওয়া মাত্রই কৌশলে রাশেদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাইকটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। লোকটি যেভাবে বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে রাশেদকে সর্বস্বান্ত করল, পলাশীর প্রান্তরে মীরজাফরও একইভাবে নবাবের সরল বিশ্বাস ও নির্ভরতার সুযোগ নিয়ে নবাব তথা সমগ্র বাংলার স্বাধীনতাকে ইংরেজদের হাতে তুলে দিয়েছিল। এদিক থেকে উভয়ের আচরণে বিশ্বাসঘাতকতার স্পষ্ট মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "সরল বিশ্বাসের কারণে মানুষ প্রতারণার শিকার হয়"—মন্তব্যটি উদ্দীপক এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ সত্য ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন একজন তরুণ, দেশপ্রেমিক এবং অত্যন্ত উদার মনের শাসক। তিনি তাঁর দরবারের মীরজাফর, রায়দুর্লভ, জগৎশেঠ প্রমুখের অতীত চক্রান্তের কথা জেনেও দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে তাদের ক্ষমা করে দেন। এমনকি মীরজাফরের কোরআন স্পর্শ করে করা শপথকে সরল বিশ্বাসে বিশ্বাস করে তাকেই পলাশীর যুদ্ধে প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব দেন। কিন্তু নবাবের এই অতিনির্ভরতা ও সরল বিশ্বাসই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়; মীরজাফর বিশ্বাসঘাতকতা করে নবাবকে নিশ্চিত পরাজয়ের দিকে ঠেলে দেয়।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, রাশেদ নির্জন রাস্তায় এক পঙ্গু লোককে সম্পূর্ণ সরল মনে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে বাইকে তুলে নেয়। সে লোকটির উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ করেনি। কিন্তু তার এই সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে লোকটি কৌশলে লাঠি ফেলে রাশেদকে বিভ্রান্ত করে বাইক নিয়ে পালিয়ে যায়।

    উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রতারক চক্র মানুষের মানবিক দুর্বলতা ও সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে তাদের ক্ষতিসাধন করে। নবাব সিরাজউদ্দৌলা যদি মীরজাফরের মতো বিশ্বাসঘাতকদের অন্ধভাবে বিশ্বাস না করতেন, তবে পলাশীর ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব হতো। তাই বলা যায়, অতিরিক্ত সরল বিশ্বাসই নবাবকে চরম প্রতারণা ও পরিণতির মুখে ঠেলে দিয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন