পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
মকসুদুর রহমান একজন রাজনীতিবিদ। তিনি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন এবং কিছুকাল মাদ্রাসায় শিক্ষকতাও করেন। তিনি কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন করেন। দেশের একটি প্রাচীন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে এ দলের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়।
- ক)(1)
ফরায়েজি আন্দোলন কী?
- খ)(2)
দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত নেতা রাজনৈতিক অবদান বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঊনবিংশ শতাব্দীতে হাজী শরীয়তুল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত ইসলামের অবশ্যকরণীয় বা 'ফরজ' বিধানাবলি পালনের ওপর গুরুত্বারোপকারী ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনকে ফরায়েজি আন্দোলন বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিজাতি তত্ত্ব হলো ১৯৩৯-১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক উত্থাপিত একটি রাজনৈতিক মতবাদ, যেখানে অবিভক্ত ভারতকে হিন্দু ও মুসলিম—এই দুটি স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই তত্ত্বের মূলকথা ছিল হিন্দু ও মুসলমান ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিকভাবে সম্পূর্ণ আলাদা দুটি জাতি; তাই তাদের রাজনৈতিক অধিকার ও নিরাপত্তার জন্য পৃথক রাষ্ট্র গঠিত হওয়া আবশ্যক। এর ভিত্তিতেই ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মকসুদুর রহমানের সাথে আমার পঠিত মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সাদৃশ্য রয়েছে।
মওলানা ভাসানীও মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন এবং কর্মজীবনের শুরুতে কিছুকাল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছিলেন। তিনি সারাজীবন অবহেলিত, নিপীড়িত কৃষক-মজুরদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা করেন। এছাড়া ১৯৪৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান ও প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে ভূমিকা পালন করেন, যে দলের নেতৃত্বে পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। উদ্দীপকের মকসুদুর রহমানের জীবনী ও রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ হুবহু মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর জীবন ও কর্মের প্রতিচ্ছবি। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত নেতা হলেন মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। বাঙালির জাতীয় জীবনে এবং পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তাঁর রাজনৈতিক অবদান অপরিসীম।
তিনি ছিলেন আপসহীন গণমানুষের নেতা। আসামে লাইন প্রথা বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে কাগমারী সম্মেলন (১৯৫৭)-এ পশ্চিম পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক 'আসসালামু আলাইকুম' জানিয়ে স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিলেন। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করে তিনি বিরোধী রাজনীতির একটি শক্তিশালী মঞ্চ তৈরি করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর জ্বালাময়ী নেতৃত্ব ও আইয়ুব খানের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি আইয়ুব শাহীর পতন ত্বরান্বিত করে এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ রাজবন্দীদের মুক্ত করতে বাধ্য করে।
১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের পর তিনি স্বাধিকারের দাবিকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যান এবং পল্টন ময়দানে প্রথম স্বাধীনতার প্রত্যয় ঘোষণা করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি হিসেবে বহির্বিশ্বে জনমত গঠন ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সুতরাং, বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও