সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সহপাঠ প্রশ্ন
বিদেশ ফেরত রফিক গ্রামের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে। এক পর্যায়ে সে চিন্তা করে গ্রামের মানুষকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা দরকার। এই লক্ষ্যে গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরোধিতার কারণে স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগটি ভেস্তে যায়।
- ক)(1)
'লালসালু' উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম কী?
- খ)(2)
"ধান দিয়া কী হইব, মানুষের জান যদি না থাকে?"-ব্যাখ্যা করো
- গ)(3)
উদ্দীপকের রফিক 'লালসালু' উপন্যাসের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
“প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নেতিবাচক মনোভাব সমাজের অগ্রযাত্র' থামিয়ে দেয়।"-উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'লালসালু' উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম 'Tree Without Roots'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে মানুষের অস্তিত্ব ও জীবন রক্ষার গুরুত্ব ফসলের চেয়েও অনেক বেশি—এই চিরন্তন সত্যটি প্রকাশ করা হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টিতে ক্ষেতের ধান নষ্ট হতে দেখে হাসুনির বাপ আহাজারি শুরু করে এবং একপর্যায়ে ক্ষোভে ও বেদনায় বিধাতার ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে ফেলে। তখন তার বৃদ্ধ পিতা তাকে ধমক দিয়ে শান্ত করতে এই কথাটি বলে। এর মূল কথা হলো, ধান বা সম্পদ পুনরায় অর্জিত হতে পারে, কিন্তু মানুষের প্রাণ একবার চলে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রফিক 'লালসালু' উপন্যাসের প্রগতিশীল ও আধুনিক শিক্ষায় বিশ্বাসী তরুণ চরিত্র 'আক্কাস'-এর প্রতিনিধিত্ব করে।
'লালসালু' উপন্যাসে আক্কাস শহর থেকে গ্রামে ফিরে আসে এবং গ্রামবাসীকে অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের অন্ধকার থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে একটি আধুনিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সে বুঝতে পেরেছিল শিক্ষার আলো ছাড়া সমাজের প্রকৃত উন্নতি অসম্ভব। উদ্দীপকের রফিকও বিদেশে থেকে ফিরে এসে গ্রামের মানুষকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু গ্রাম্য প্রভাবশালী ও স্বার্থান্বেষী মহলের বাধার মুখে তার সেই শুভ উদ্যোগ ভেস্তে যায়, যা অবিকল আক্কাসের পরিণতির সাথে মিলে যায়। সুতরাং, সমাজ সংস্কারের ইচ্ছা এবং শেষ পর্যন্ত বাধার সম্মুখীন হওয়ার দিক থেকে রফিক 'লালসালু'র আক্কাস চরিত্রের সার্থক প্রতিরূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নেতিবাচক মনোভাব সমাজের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়”—মন্তব্যটি উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যথার্থ।
যে কোনো সমাজের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো আধুনিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ। কিন্তু সমাজপতি ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের কর্তৃত্ব ও আধিপত্য বজায় রাখার স্বার্থে সাধারণ মানুষকে অজ্ঞ ও অন্ধকারের মধ্যে রাখতে চায়। তারা নতুন চিন্তা বা শিক্ষার বিস্তারকে তাদের ক্ষমতার জন্য হুমকি মনে করে।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, আক্কাস যখন গ্রামে একটি আধুনিক স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়, তখন মজিদ বুঝতে পারে গ্রামের মানুষ শিক্ষিত হলে তার ধর্মের ব্যবসা ও আধিপত্য খর্ব হবে। তাই সে খালেক ব্যাপারী ও অন্য মোড়লদের সঙ্গে নিয়ে ধর্মীয় অজুহাত তোলে—গ্রামে স্কুল নয়, মক্তব প্রয়োজন। সে আক্কাসের মুখে দাড়ি না থাকা নিয়ে কটাক্ষ করে বিষয়টিকে ধর্মীয় আবেগে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে এবং স্কুল প্রতিষ্ঠার শুভ উদ্যোগটিকে চিরতরে বন্ধ করে দেয়। একইভাবে উদ্দীপকে রফিকের স্কুল প্রতিষ্ঠার জনকল্যাণমুখী প্রয়াসটি গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হীনস্বার্থ ও নেতিবাচক মনোভাবের কারণে নষ্ট হয়ে যায়।
সুতরাং, উভয় ক্ষেত্রেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, প্রভাবশালী মহলের অন্ধ স্বার্থপরতা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই সমাজকে অজ্ঞতার শৃঙ্খলে আটকে রাখে এবং এর স্বাভাবিক অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করে দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও