অর্থনীতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মাইক্রো শিল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    ফার্ম ও শিল্পের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' শিল্পটি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত শিল্পটির সমস্যাসমূহ বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১০ লাখ টাকা থেকে ৭৫ লাখ টাকা কিংবা যেগুলোতে ১৫ থেকে ৩০ জন বা তার চেয়ে কম সংখ্যক শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, তাকে মাইক্রো শিল্প বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফার্ম ও শিল্পের মধ্যে মূল পার্থক্যসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. সংজ্ঞা: সমজাতীয় পণ্য উৎপাদনকারী একটি একক উৎপাদন প্রতিষ্ঠানকে ফার্ম বলা হয়। অপরদিকে, একই ধরনের বা সমজাতীয় পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত সকল ফার্মের সমষ্টিকে একত্রে শিল্প বলা হয়।
    ২. আওতা: ফার্মের পরিধি সীমিত এবং এটি শিল্পের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। অন্যদিকে, শিল্প একটি সামগ্রিক ধারণা এবং এর আওতা বা পরিধি অনেক ব্যাপক।
    যেমন— স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস একটি ফার্ম, কিন্তু স্কয়ারসহ দেশের সব ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে একত্রে ওষুধ শিল্প বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' শিল্পটি হলো আমদানি বিকল্পায়ন শিল্প (Import Substituting Industry)।

    যেসব পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, সেগুলোর আমদানি কমিয়ে বা বন্ধ করে দেশেই সেগুলোর উৎপাদনের উদ্দেশ্যে যেসব শিল্প গড়ে তোলা হয়, তাকে আমদানি বিকল্প শিল্প বলে।

    উদ্দীপকের ছকে দেখা যাচ্ছে, 'শিল্প X' দেশীয় শিল্প সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে, অভ্যন্তরীণ বাজারের সম্প্রসারণ ঘটায়, দেশের বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি বা সাশ্রয় করে। আমদানি বিকল্পায়ন নীতি গ্রহণের ফলে দেশীয় উৎপাদনকারীদের সুরক্ষা (Protection) দেওয়া হয়, যার ফলে অভ্যন্তরীণ পণ্যের চাহিদা ও বাজার বৃদ্ধি পায়। এর মাধ্যমে বিদেশ থেকে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমে, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশেই সাশ্রয় হয় এবং বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। সুতরাং, উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলোর আলোকে 'X' শিল্পটি নিঃসন্দেহে আমদানি বিকল্প শিল্প।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত আমদানি বিকল্প শিল্পের সমস্যাসমূহ বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত প্রকট। নিম্নে এ সম্পর্কিত প্রধান সমস্যাগুলো আলোচনা করা হলো:

    ১. মূলধনের অভাব: আমদানি বিকল্প শিল্প প্রতিষ্ঠায় আধুনিক ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য বিপুল মূলধনের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হার কম হওয়ায় পর্যাপ্ত মূলধনের মারাত্মক সংকট দেখা দেয়।
    ২. কাঁচামালের পরনির্ভরশীলতা: অনেক বিকল্প শিল্প দেশীয়ভাবে স্থাপিত হলেও তাদের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের জন্য এখনো বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা আমদানিব্যয় বাড়িয়ে দেয়।
    ৩. উৎপাদন দক্ষতার অভাব ও নিম্নমান: অতিরিক্ত সংরক্ষণ বা শুল্ক সুরক্ষার ফলে দেশীয় উৎপাদকদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব হ্রাস পায়। এর ফলে পণ্যের গুণগত মান উন্নত হয় না এবং উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
    ৪. উন্নত প্রযুক্তির অভাব ও কারিগরি অদক্ষতা: আধুনিক প্রযুক্তির সংকট এবং পর্যাপ্ত দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন শ্রমিকের অভাবে উৎপাদনশীলতা প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায় না।
    ৫. অবকাঠামোগত দুর্বলতা: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস, যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার ঘাটতি এ শিল্পের মসৃণ বিকাশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
    ৬. বাজারের সীমিত আকার: দেশে জনগণের মাথাপিছু আয় ও ক্রয়ক্ষমতা তুলনামূলক কম হওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজার খুব দ্রুত সংকুচিত হয়ে পড়ে, যা বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে।

    পরিশেষে বলা যায়, দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় রাখা এবং স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে আমদানি বিকল্প শিল্পের ভূমিকা অপরিসীম হলেও উপর্যুক্ত সমস্যাগুলোর কারণে বাংলাদেশে এর পূর্ণ সুফল অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন