পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি উপনিবেশিক সরকার প্রশাসনিক যুক্তি দেখিয়ে রাষ্ট্রের একটি অঞ্চলকে দুভাগে ভাগ করে। একাংশের জনগণ এতে তাদের ভাগ্যন্নোয়নের সম্ভাবনা দেখতে পেয়ে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানায় কিন্তু অপর অংশের বিভিন্ন গোষ্ঠী তাদের স্বার্থ ক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কায় এর বিরোধিতা শুরু করে। পরবর্তীতে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে উপনিবেশিক সরকার এই বিভক্তি বাতিল করে।
- ক)(1)
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কখন প্রতিষ্ঠিত হয়?
- খ)(2)
দ্বৈত শাসন বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনাটি ব্রিটিশ ভারতের কোন ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনাটি কীভাবে পরবর্তী রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছে? বিশ্লেষণ করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বৈত শাসন বলতে একটি নির্দিষ্ট শাসনব্যবস্থায় দুই ধরনের বা দ্বৈত কর্তৃপক্ষের শাসনকে বোঝায়। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতের প্রাদেশিক প্রশাসনে এই শাসনব্যবস্থা চালু করা হয়, যেখানে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে 'হস্তান্তরিত' (Transferred) এবং 'সংরক্ষিত' (Reserved)—এই দুই ভাগে ভাগ করে হস্তান্তরিত বিষয় মন্ত্রীদের হাতে এবং সংরক্ষিত বিষয়সমূহ গভর্নরের নির্বাহী পরিষদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনাটি ব্রিটিশ ভারতের ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক 'বঙ্গভঙ্গ' এবং ১৯১১ সালে 'বঙ্গভঙ্গ রদ'-এর ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার যুক্তি দেখিয়ে বিশাল বাংলা প্রেসিডেন্সিকে বিভক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি প্রদেশ গঠন করেন। এই পদক্ষেপে পূর্ববঙ্গের পিছিয়ে পড়া মুসলমান সম্প্রদায় নিজেদের আর্থ-সামাজিক ও শিক্ষাগত উন্নয়নের আশা দেখে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু জনগোষ্ঠী এবং জাতীয়তাবাদী বুদ্ধিজীবীরা এটিকে ব্রিটিশদের 'ভাগ কর ও শাসন কর' (Divide and Rule) নীতি হিসেবে আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে তীব্র স্বদেশি আন্দোলন ও বয়কট শুরু করে।
পরবর্তীতে হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের প্রচণ্ড আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ বা বাতিল করতে বাধ্য হয়। উদ্দীপকের ঘটনাতেও একই প্রেক্ষাপট ও বিভক্তি বাতিলের চিত্র ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বঙ্গভঙ্গ ও বঙ্গভঙ্গ রদের ঘটনাটি ব্রিটিশ ভারতের পরবর্তী রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী ও গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল।
প্রথমত, বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হওয়ার ফলে পূর্ব বাংলার মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং নিজেদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য ১৯০৬ সালে ঢাকায় 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' গঠিত হয়। এর ফলে ভারতীয় রাজনীতিতে দ্বিদলীয় মেরুকরণ ও স্বতন্ত্র মুসলিম রাজনীতির সূচনা ঘটে।
দ্বিতীয়ত, ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করার সিদ্ধান্তের ফলে মুসলমান সম্প্রদায় ব্রিটিশদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে এবং বুঝতে পারে যে সাংবিধানিক অধিকার আদায়ে তাদের নিজেদের সুসংগঠিত হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সাফল্য জাতীয় কংগ্রেস ও হিন্দু নেতাদের রাজনৈতিক আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
তৃতীয়ত, বঙ্গভঙ্গ ও এর রদ হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দূরত্ব ও অবিশ্বাস তৈরি করে। এর ফলেই পরবর্তীকালে স্বতন্ত্র নির্বাচন ব্যবস্থার দাবি জোরালো হয়, যা কালক্রমে ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব এবং ১৯৪৭ সালে দেশভাগের প্রেক্ষাপট তৈরি করে।
অতএব, বঙ্গভঙ্গ রদের ঘটনাটি উপমহাদেশের অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদের স্বপ্নকে দুর্বল করে সম্প্রদায়ভিত্তিক রাজনীতির ভিত্তি শক্ত করে এবং পরিণামে ভারত বিভক্তির পথ উন্মুক্ত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও