অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. হক ও মি. উইলিয়াম যথাক্রমে বাংলাদেশ ও কানাডার নাগরিক। দু'জনের মধ্যকার কথোপকথন নিম্নরূপ:মি. উইলিয়াম: আমি এখন থেকে পরিবেশবান্ধব পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবসা করতে চাই।মি. হক: তাহলে আমার দেশই তোমার জন্য উপযুক্ত স্থান। এদেশ পাটের দেশ, কাপড়, সুতা, জুতা, কাগজ, ব্যাগ, খেলনা সবই পাট থেকে তৈরি করা সম্ভব। আমাদের রয়েছে বিপুল জনশক্তি, তবে অভাব রয়েছে পর্যাপ্ত মূলধনের। মি. উইলিয়াম: ধন্যবাদ তোমার দেশেই বিনিয়োগ করব। উন্নত বিশ্বের মানুষ এখন আর কৃত্রিম ফাইবার ব্যবহার করতে চায় না। তবে তোমাদেরকে পাট ও পাটশিল্প উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, নীতিমালা প্রণয়ন করে শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে।
- ক)(1)
আমদানি বিকল্প শিল্প কী?
- খ)(2)
স্বনির্ভরতা অর্জনে শিল্পায়ন জরুরি কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপক অনুযায়ী বাংলাদেশে পাট শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে বাধাসমূহ চিহ্নিত করো।
- ঘ)(4)
বিশ্ব পরিবেশ বিবেচনায় পাট শিল্পের সম্ভাবনা উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি না করে সেই পণ্য দেশেই উৎপাদনের উদ্দেশ্যে যে শিল্প গড়ে তোলা হয়, তাকে আমদানি বিকল্প শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বনির্ভরতা অর্জনে শিল্পায়ন জরুরি, কারণ শিল্পায়নের ফলে আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পায় এবং দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়। শিল্প খাতের বিকাশ দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও শক্তিশালী জাতীয় অর্থনীতি গঠনে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক অনুযায়ী বাংলাদেশে পাট শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে প্রধান বাধাসমূহ নিম্নরূপ:
১. পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব: মি. হক উল্লেখ করেছেন যে এ দেশে প্রচুর জনশক্তি ও কাঁচামাল থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত মূলধনের তীব্র সংকট রয়েছে, যা আধুনিকায়ন ও শিল্প সম্প্রসারণের বড় অন্তরায়।
২. সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার অভাব: মি. উইলিয়াম উল্লেখ করেন পাট ও পাটশিল্পের কাঙ্ক্ষিত বিকাশে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং কার্যকর সহায়ক নীতিমালার ঘাটতি রয়েছে।
৩. শ্রমিকের দক্ষতার অভাব: আধুনিক পাটপণ্য ও বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের উপযোগী প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শ্রমিকের অভাব রয়েছে।
৪. প্রযুক্তিগত অনগ্রসরতা ও আধুনিকায়নের ঘাটতি: পুরোনো প্রযুক্তিনির্ভরতা বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশ্ব পরিবেশের সুরক্ষার পটভূমিতে পাট শিল্পের সম্ভাবনা অপরিসীম, যা উদ্দীপকে মি. উইলিয়ামের মন্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
বর্তমানে কৃত্রিম ফাইবার, পলিথিন ও প্লাস্টিকজাত পণ্যের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে বিশ্বজুড়ে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু সংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। উদ্দীপকে যেমন বলা হয়েছে—"উন্নত বিশ্বের মানুষ এখন আর কৃত্রিম ফাইবার ব্যবহার করতে চায় না"। কৃত্রিম প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে বিশ্বব্যাপী এখন পচনশীল ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের বিপুল চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।
পাট একটি শতভাগ প্রাকৃতিক, সহজে পচনশীল এবং পুনঃব্যবহারযোগ্য আঁশ। উদ্দীপকে বর্ণিত কাপড়, সুতা, জুতা, কাগজ, ব্যাগ ও খেলনা ইত্যাদিসহ শত শত বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনের অপার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্যের অন্যতম প্রধান উৎপাদক। তাই পর্যাপ্ত মূলধন বিনিয়োগ, কার্যকর সরকারি নীতিমালা এবং শ্রমিকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক পরিবেশবান্ধব বাজার দখল করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও