ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

দেশটি বহু বর্ণে, ধর্মে ও জাতিতে বিভক্ত ছিল। ফলে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পক্ষে ঐ দেশে শাসন-শোষণ খুবই সহজ ছিল। এক পর্যায়ে দেশের মানুষ ক্রমেই স্বাধীনতার জন্য উন্মুখ হয়ে পড়ে। একটি রাজনৈতিক দলের নেতা ধর্মের ওপর ভিত্তি করে এক ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটি পরবর্তী সময়ে কিছুটা সংশোধিত হয়ে প্রকাশিত হওয়ার পর দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। শেষ পর্যন্ত উত্ত প্রস্তাবের ভিত্তিতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি বিদায় নেয়। দেশটি বিভক্ত হয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রে আত্মপ্রকাশ করে।

  1. ক)

    দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবর্তক কে?

    (1)
  2. খ)

    খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন ব্যর্থ হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভারতবর্ষের ঐতিহাসিক প্রস্তাব কোনটি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে উক্ত প্রস্তাবের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবর্তক হলেন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন মূলত লক্ষ্য ও নেতৃত্বের মতপার্থক্য এবং সহিংসতার কারণে ব্যর্থ হয়। ১৯২২ সালে উত্তর প্রদেশের চৌরিচৌরায় আন্দোলনকারীদের দ্বারা পুলিশ ফাঁড়িতে অগ্নিকাণ্ড ও পুলিশ হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মহাত্মা গান্ধী একক সিদ্ধান্তে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। অপরদিকে তুরস্কে কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে খেলাফত ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি ঘটলে খেলাফত আন্দোলনের মূল ভিত্তি নষ্ট হয়ে যায় এবং এ সম্মিলিত আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভারতবর্ষের ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি হলো ১৯৪০ সালের 'লাহোর প্রস্তাব'।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বর্ণ ও ধর্মে বিভক্ত একটি দেশে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা থেকে এক রাজনৈতিক নেতা ধর্মের ভিত্তিতে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে সংশোধিত হয়ে দেশ বিভাগের ভিত্তি তৈরি করে।

    ভারতবর্ষের ইতিহাসে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নেতা এ কে ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোর অধিবেশনে ঐতিহাসিক এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটিতে ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' গঠনের কথা বলা হয়, যা মূলত ধর্মভিত্তিক দ্বিজাতি তত্ত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালের দিল্লি কনভেনশনে এটি সামান্য সংশোধিত হয়ে একক পাকিস্তানের রূপ নেয়। সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনাটি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লাহোর প্রস্তাব ছিল অবিভক্ত ভারতবর্ষের রাজনীতি এবং পাকিস্তান ও পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত যুগান্তকারী ঘটনা। উদ্দীপকে উল্লেখিত স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর আত্মপ্রকাশের মূল ভিত্তি ছিল এ প্রস্তাব।

    ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মধ্য দিয়ে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ভারতীয় মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র আবাসভূমির সুস্পষ্ট দাবি উপস্থাপন করে। এর ফলে মুসলিম লীগের রাজনীতি সুনির্দিষ্ট রূপ পায় এবং মুসলিম জনমানসে স্বতন্ত্র জাতীয়তাবোধ জাগ্রত হয়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও কংগ্রেসের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও লাহোর প্রস্তাবকে কেন্দ্র করেই ভারত ছাড়ো আন্দোলনের পর রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তি রচিত হয়।

    চূড়ান্ত বিচারে ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতেই ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া লাহোর প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত 'States' বা বহুবচন ধারণার মধ্যেই পরবর্তীকালে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের বীজ নিহিত ছিল। অতএব, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিদায় ও উপমহাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র পুনর্গঠনে লাহোর প্রস্তাবের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন