পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
প্রবল বর্ষণে ইব্রাহিমের রাড়ি-ঘর পানিতে ডুবে গেল। পানি নিষ্কাশনের জন্য সে বাড়ির সামনের রাস্তাটি কাটতে শুরু করলো। তার প্রতিবেশী-স্কুলের প্রধান শিক্ষক রহমত স্যার যাবার পথে বিষয়টি লক্ষ করলেন। তিনি ইব্রাহিমকে রাস্তা কাটতে নিষেধ করলেন। ইব্রাহিম বললো, স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে যা খুশি তাই করার ক্ষমতা তার আছে। স্যার তাকে বুঝালেন যে, নিজের ইচ্ছামতো কাজ করার অধিকার তার থাকলেও লক্ষ রাখতে হবে উক্ত কাজে যেন অপরের ক্ষতি না হয়। ইব্রাহিম তার কথা না শুনলে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে স্যার তাকে জানান।
- ক)(1)
'Natus' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে তোমার পঠিত কোন বিষয়টির কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"আইনের সাথে উক্ত বিষয়টির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর" বক্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লাতিন শব্দ 'Natus' (বা Natio)-এর অর্থ হলো 'জন্ম' বা 'উদ্ভূত' (Born বা Birth)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে রাজতন্ত্রে রাজা বা রানি রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে নামমাত্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকেন এবং প্রকৃতপক্ষে দেশ সংবিধান ও পার্লামেন্টের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তাকে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র (Constitutional Monarchy) বলে।
এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতা সংবিধান দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে এবং শাসন পরিচালনার প্রকৃত ক্ষমতা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ন্যস্ত থাকে। যেমন- গ্রেট ব্রিটেনের শাসনব্যবস্থা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের 'স্বাধীনতা' (Liberty) প্রত্যয়টির কথা বলা হয়েছে।
সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো কাজ করার ক্ষমতাকে বোঝায়। কিন্তু পৌরনীতিতে অবাধ স্বাধীনতাকে স্বাধীনতা বলা যায় না, কারণ এতে সমাজে অরাজকতা দেখা দেয়। পৌরনীতির দৃষ্টিতে স্বাধীনতা হলো এমন পরিবেশ উপভোগ করা যেখানে অন্যের ক্ষতি না করে নিজের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটানো যায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টি এইচ গ্রিনের মতে, যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য, তা উপভোগ ও সম্পাদন করার ক্ষমতাই স্বাধীনতা।
উদ্দীপকে ইব্রাহিম বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য রাস্তা কাটতে গেলে শিক্ষক রহমত স্যার বাধা দেন। ইব্রাহিম দাবি করে যে স্বাধীন নাগরিক হিসেবে তার যা খুশি তাই করার ক্ষমতা আছে। তবে স্যার তাকে স্পষ্ট করে দেন যে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করার অধিকার থাকলেও তা যেন অন্যের ক্ষতি না করে। পৌরনীতির স্বাধীনতার ধারণাও ঠিক এটাই শেখায়—অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে অধিকার ভোগ করাই স্বাধীনতা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আলোচিত বিষয়টির নাম হলো 'স্বাধীনতা'। "আইনের সাথে স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর"—উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও অবিচ্ছেদ্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জন লক যথার্থই বলেছেন, "যেখানে আইন থাকে না, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না" (Where there is no law, there is no freedom)। আইন এবং স্বাধীনতার এই গভীর সম্পর্ক নিচের দিকগুলো থেকে স্পষ্ট:
১. আইন স্বাধীনতার অভিভাবক ও রক্ষক: আইন সমাজের দুর্বলকে সবলের হাত থেকে রক্ষা করে। আইন ভঙ্গকারীদের শাস্তি দিয়ে আইন নাগরিকের স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত করে। উদ্দীপকে শিক্ষক রহমত স্যার ইব্রাহিমকে সতর্ক করেন যে তিনি অপরের ক্ষতি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যা আইনের সুরক্ষাকারী ভূমিকাকে তুলে ধরে।
২. আইন স্বাধীনতার ক্ষেত্র প্রসারিত করে: আইন নাগরিকদের অধিকার নির্দিষ্ট করে দেয় এবং প্রত্যেকে যাতে নির্বিঘ্নে স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে সেই অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
৩. আইন স্বাধীনতার পরিপূরক: আইন স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করে না, বরং শৃঙ্খলিত করে একে অর্থবহ করে তোলে। আইন না থাকলে সমাজে 'জোর যার মুলুক তার' অবস্থা বা অরাজকতা সৃষ্টি হতো, ফলে কারো স্বাধীনতাই বজায় থাকত না।পরিশেষে বলা যায়, উপযুক্ত আইন ছাড়া প্রকৃত স্বাধীনতা অসম্ভব। আইন আছে বলেই ব্যক্তি স্বাধীনভাবে তার অধিকার চর্চা করতে পারে। সুতরাং আইনের সাথে স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও নিবিড়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও