জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত একটি মাছ আছে, যার দেহে এমন একটি অঙ্গ আছে যা পানিতে দেহের ভারসাম্য ও শ্বসনে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়াও এর রক্তসংবহন পদ্ধতি তোমার রক্তসংবহন পদ্ধতি অপেক্ষা ভিন্নতর।
- ক)(1)
হিমোলিম্ফ কী?
- খ)(2)
হাইড্রাকে অমর প্রাণী বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটির গঠন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষের লাইনটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আর্থ্রোপোডা ও মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের দেহগহ্বরে (হিমোসিলে) প্রবাহিত রক্ত ও লসিকার মিশ্রিত বর্ণহীন বা সামান্য রঞ্জকযুক্ত তরলকে হিমোলিম্ফ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাইড্রার স্বাভাবিক বার্ধক্যজনিত বা প্রাকৃতিক মৃত্যু নেই বললেই চলে। এদের দেহপ্রাচীরের এপিডার্মিসে প্রচুর পরিমাণে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ থাকে। এই কোষগুলো টোটিপোটেন্ট ক্ষমতাসম্পন্ন, অর্থাৎ এরা বিভাজিত হয়ে হাইড্রা দেহের যেকোনো ধরনের কোষে রূপান্তরিত হতে পারে। ফলে কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা ক্ষয়প্রাপ্ত হলে তা দ্রুত পুনরুৎপত্তি লাভ করে এবং হাইড্রা কুঁড়ি সৃষ্টির মাধ্যমে অবিরত অযৌন জনন সম্পন্ন করে। এ অসীম পুনরুৎপত্তি ক্ষমতার কারণে বাহ্যিক আঘাত বা রোগ ছাড়া হাইড্রার স্বাভাবিক মৃত্যু হয় না, তাই একে অমর প্রাণী বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মাছটি হলো রুই মাছ এবং পানিতে ভারসাম্য ও শ্বসনে ভূমিকা রাখা অঙ্গটি হলো এর 'বায়ুথলি' বা 'পটকা' (Air bladder/Swim bladder)।
বায়ুথলির গঠন নিম্নরূপ:
১. অবস্থান ও প্রকোষ্ঠ: এটি মেরুদণ্ডের নিচে এবং পৌষ্টিকনালির ওপরের দিকে সিলভার রঙের একটি পাতলা থলিবিশেষ। এটি একটি সংকোচনশীল খাঁজ দ্বারা দুটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত—অগ্র প্রকোষ্ঠ ও পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠ।
২. স্তরসমূহ: বায়ুথলির প্রাচীর প্রধানত দুটি স্তরে গঠিত—বাইরের টিউনিকা এক্সটার্না (তন্তুময় ও পুরু) এবং ভেতরের টিউনিকা ইন্টার্না (মসৃণ ও পাতলা)।
৩. গ্যাস গ্রন্থি ও রেতি মিরাবিলিয়া: অগ্র ও পশ্চাৎ উভয় প্রকোষ্ঠের অঙ্কীয় প্রাচীরের অন্তঃত্বকে রক্তজালকসমৃদ্ধ 'গ্যাস গ্রন্থি' থাকে। এই গ্যাস গ্রন্থির সাথে ক্যাপিলারির ঘন জালকযুক্ত একটি বিশেষ রক্তজালক জাল বিদ্যমান, যাকে 'রেতি মিরাবিলিয়া' (Rete mirabile) বলা হয়। এর মাধ্যমে রক্ত থেকে গ্যাস থলিতে প্রবেশ করে ও শোষিত হয়।
৪. নিউম্যাটিক নালী: অগ্র প্রকোষ্ঠের অঙ্কীয় দেশ থেকে একটি সরু নালী পৌষ্টিকনালির অন্ননালির সাথে যুক্ত থাকে, যাকে নিউম্যাটিক নালী (Pneumatic duct) বলে। রুই মাছের ক্ষেত্রে এটি মুক্ত থাকে, যা ফাইসোস্টোমাস প্রকৃতির।
৫. ওয়েবেরিয়ান অসিকল: বায়ুথলির অগ্রপ্রান্ত ক্ষুদ্র অস্থিমালার সাহায্যে অন্তঃকর্ণের সাথে সংযুক্ত থাকে, যা শ্রবণ ও চাপ সংবেদী অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষের লাইনটি হলো—"এর রক্তসংবহন পদ্ধতি তোমার রক্তসংবহন পদ্ধতি অপেক্ষা ভিন্নতর।" এখানে মাছের রক্তসংবহন পদ্ধতিকে মানুষের (পাঠকের) রক্তসংবহন পদ্ধতির সাথে তুলনা করা হয়েছে। বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
পার্থক্য ও যথার্থতার মূল্যায়ন:
১. সংবহনের প্রকৃতি: রুই মাছের রক্তসংবহন হলো 'একচক্রী' (Single circuit circulation), অর্থাৎ প্রতি পূর্ণ আবর্তনে রক্ত হৃদপিণ্ডের মধ্য দিয়ে মাত্র একবার প্রবাহিত হয়। অপরদিকে মানুষের রক্তসংবহন 'দ্বিচক্রী' (Double circuit circulation), যেখানে রক্ত হৃদপিণ্ডের মধ্য দিয়ে একই চক্রে দুইবার (সিস্টেমিক ও পালমোনারি) প্রবাহিত হয়।
২. হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠ: মাছের হৃদপিণ্ড দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট (একটি অলিন্দ ও একটি নিলয়) এবং একটি উপপ্রকোষ্ঠ (সাইনাস ভেনোসাস) যুক্ত। কিন্তু মানুষের হৃদপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট (দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়)।
৩. রক্তের ধরণ: মাছের হৃদপিণ্ডকে 'শিরা হৃদপিণ্ড' (Venous heart) বলা হয়, কারণ এর মধ্য দিয়ে সর্বদা শুধুমাত্র কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত (ডিঅক্সিজেনেটেড) রক্ত প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে মানুষের হৃদপিণ্ডের ডান অংশে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত এবং বাম অংশে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পৃথকভাবে সংবহিত হয়।
৪. গ্যাস বিনিময়ের স্থান: মাছে হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত সরাসরি ফুলকায় যায় অক্সিজেনেটেড হতে এবং সেখান থেকে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের ক্ষেত্রে রক্ত ফুসফুসে গিয়ে পরিশোধিত হয়ে পুনরায় হৃদপিণ্ডে ফিরে আসে এবং পরে সারা দেহে পাম্প হয়।সুতরাং, গঠন ও সংবহন গতিপথের এই মৌলিক পার্থক্যের কারণে উদ্দীপকের উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও