পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
A দেশটির B অঞ্চল আয়তনে বিশাল। প্রশাসনের পক্ষে এত বড় অঞ্চলের সবকিছু সমানভাবে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিবেচনায় তখন অঞ্চলটিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। কিন্তু কিছুদিন পরে আবার দুটি অঞ্চলকে এক করে দেওয়া হয়। এতে করে একটি অংশে অসন্তোষ প্রকাশ পায়।
- ক)(1)
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
- খ)(2)
দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে আলোকিত বিষয়টি তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন অংশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়টি প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিজাতি তত্ত্ব হলো এমন একটি রাজনৈতিক মতবাদ, যার মূল কথা হলো ব্রিটিশ ভারতে হিন্দু ও মুসলমান দুটি ভিন্ন জাতি এবং তাদের জন্য পৃথক আবাসভূমি বা রাষ্ট্র গঠন করা আবশ্যক। ১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এ তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন। এ তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক 'বঙ্গভঙ্গ' এবং ১৯১১ সালে 'বঙ্গভঙ্গ রদ'-এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
তৎকালীন অবিভক্ত বাংলা প্রদেশটি আয়তনে ও জনসংখ্যায় বিশাল ছিল, ফলে একজন গভর্নরের পক্ষে গোটা প্রদেশ সুষ্ঠুভাবে শাসন করা দুরূহ হয়ে পড়ে। শাসনকাজের সুবিধার্থে ব্রিটিশ শাসক লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বাংলাকে বিভক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি পৃথক প্রদেশ গঠন করেন। উদ্দীপকেও দেখা যায় A দেশের B অঞ্চলের বিশালতার কারণে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য অঞ্চলটিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের তীব্র আন্দোলন ও বিরোধিতার মুখে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করে পুনরায় দুই বাংলাকে একত্র করে, যার ফলে পূর্ববঙ্গের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর অসন্তোষ ও হতাশার সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকের ঘটনার সাথে বঙ্গভঙ্গ ও বঙ্গভঙ্গ রদের এই প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত ঐতিহাসিক বঙ্গভঙ্গ ও তার রদের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ভারতীয় রাজনীতিতে সুস্পষ্ট পরিবর্তন এনেছিল।
বঙ্গভঙ্গের ফলে নবগঠিত 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশের রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রিক প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি সূচিত হয়। পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়। এর প্রত্যক্ষ ফলাফল হিসেবে ১৯০৬ সালে ঢাকায় 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মুসলমানরা স্বতন্ত্র রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, উচ্চবিত্ত হিন্দু ও জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস বঙ্গভঙ্গকে মেনে নিতে পারেনি। তারা এর বিরুদ্ধে তীব্র স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলন গড়ে তোলে। ব্রিটিশ সরকার একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করে। বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা চরমভাবে ব্যথিত ও হতাশ হয় এবং তারা অনুধাবন করে যে ব্রিটিশ সরকার এবং কংগ্রেস তাদের স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিক নয়। এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় এবং হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের স্থায়ী ফাটল সৃষ্টি হয়। মূলত বঙ্গভঙ্গ ও বঙ্গভঙ্গ রদের এই ধারাই পরবর্তীকালে মুসলমানদের পৃথক আবাসভূমির দাবির পথ সুগম করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও