বাংলা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
সারাংশ/ভাব-সম্প্রসারণ
10.1.
সারাংশ লেখ :বিদ্যা মানুষের মূল্যবান সম্পদ, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নাই। কিন্তু চরিত্র তদপেক্ষা ও মূল্যবান। অতএব, কেবল বিদ্বান বলিয়াই কোনো লোক সমাদর লাভের যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইতে পারে না। চরিত্রহীন ব্যক্তি যদি নানা বিদ্যায় আপনার জ্ঞানভাণ্ডার পূর্ণ করিয়াও থাকে, তথাপি তাহার সঙ্গ পরিত্যাগ করাই শ্রেয়। প্রবাদ আছে যে, কোনো কোনো বিষধর সর্পের মস্তকে মণি থাকে। মণি মহামূল্যবান পদার্থ বটে, কিন্তু তাই বলিয়া যেমন মণি লাভের নিমিত্ত বিষধর সর্পের সাহচর্য লাভ করা বুদ্ধিমানের কার্য নহে, সেইরূপ বিদ্যা আদরণীয় হইলেও বিদ্যা লাভের নিমিত্ত বিদ্বান দুর্জনের নিকট গমন বিধেয় নহে।
10.2.
ভাব-সম্প্রসারণ কর :ভোগে নয়, ত্যাগেই মনুষ্যত্বের বিকাশ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১০.১ এর উত্তর (সারাংশ):
সারাংশ:
বিদ্যার চেয়ে মানুষের চরিত্র অধিক মূল্যবান। চরিত্রহীন বিদ্বান ব্যক্তি বিষধর সাপের মাথার মণির মতো বিপজ্জনক, যা উপকারের চেয়ে অনিষ্টের আশঙ্কাই বেশি তৈরি করে। তাই চরিত্রহীন ব্যক্তি যতই জ্ঞানী হোক না কেন, তাকে বর্জন করাই শ্রেয়।
১০.২ এর উত্তর (ভাব-সম্প্রসারণ):
ভাব-সম্প্রসারণ:
ভোগে নয়, ত্যাগেই মনুষ্যত্বের বিকাশ।
মূলভাব: ভোগবাদী মানসিকতায় মানুষের পশু প্রবৃত্তির প্রকাশ ঘটে, কিন্তু স্বার্থহীন ত্যাগের মাধ্যমেই মানবজীবনের প্রকৃত সার্থকতা ও মনুষ্যত্বের পূর্ণ বিকাশ সাধিত হয়।
সম্প্রসারিত ভাব: মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষের এই শ্রেষ্ঠত্বের মূল ভিত্তি তার বিবেক, নৈতিকতা ও পরার্থপরতা। পার্থিব জগতে কেবল নিজের সুখ ও ইন্দ্রিয়সুখের তৃপ্তি খোঁজার নাম ভোগ। ভোগ লিপ্সা মানুষকে স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক ও লোভী করে তোলে। ভোগী মানুষ সমাজের বৃহত্তর কল্যাণের কথা ভাবতে পারে না; সে কেবল নিজের ভোগের উপকরণ সংগ্রহ করতেই ব্যস্ত থাকে। বস্তুত, কেবল পানাহার ও বেঁচে থাকার তাগিদ অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও বিদ্যমান। কিন্তু মানুষ কেবল ভোগের জন্য জন্মায়নি।
মানুষের আসল পরিচয় তার মনুষ্যত্বে। আর এই মনুষ্যত্ব অর্জিত হয় নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সেবার মাধ্যমে। ত্যাগের মধ্যেই মানবজীবনের প্রকৃত মাহাত্ম্য ও পরমানন্দ নিহিত। যিনি অপরের দুঃখ-কষ্টে ব্যথিত হন এবং নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে সমাজের মঙ্গলে আত্মনিয়োগ করেন, তিনিই সমাজে প্রকৃত শ্রদ্ধার পাত্র হন। নিজের সুখ বিলিয়ে দিয়ে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই জীবনের চরম সার্থকতা। জগতের মহামানব, ঋষি, বিজ্ঞানী ও সমাজসেবকগণ কেউই ভোগের পেছনে ছোটেননি; বরং তাঁরা মানবকল্যাণে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে অমরত্ব লাভ করেছেন।
মন্তব্য: ভোগ মানুষকে সংকীর্ণ করে, আর ত্যাগ তাকে মহীয়ান ও উন্নত করে। তাই স্বার্থপর ভোগের পথ পরিহার করে ত্যাগের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়াই মনুষ্যত্ব বিকাশের একমাত্র উপায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও