বাংলা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
8.1.
কোনো একটি ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের দিনলিপি তৈরি করো।
8.2.
সড়ক দুর্ঘটনা ও তার প্রতিকার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-লিখিত কাল্পনিক নমুনা। প্রশ্নে না-দেওয়া নাম, তারিখ, যোগাযোগ, সংখ্যা ও জরিপ/সাক্ষাৎকারের বিবরণ উদাহরণভিত্তিক অনুমান; বাস্তবে তথ্যসংগ্রহ করা হয়েছে এমন দাবি নয়।
৮.১. ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের দিনলিপি:
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
রাত ১০:০০টা
সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ
আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় একটি দিন হয়ে থাকবে। কলেজের বন্ধুদের সাথে আজ গিয়েছিলাম প্রাচ্যের প্রাচীন রাজধানী ঐতিহাসিক সোনারগাঁওয়ে। সকাল আটটায় বাসযোগে আমরা রওনা হয়ে পৌনে দশটার দিকে সোনারগাঁও পৌঁছাই।
প্রথমে আমরা যাই লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরে। সেখানে বড় সর্দার বাড়িতে সংরক্ষিত আবহমান বাংলার লোকশিল্পের নিদর্শনগুলো দেখে মুগ্ধ হয়েছি। কাঠের কারুকাজ, জামদানি শাড়ি, নকশিকাঁথা এবং মাটির তৈরি তৈজসপত্র আমাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে। এর পর আমরা প্রবেশ করি পানাম নগরে—যাকে বলা হয় 'হারানো নগরী'। ঊনবিংশ শতাব্দীর গড়ে ওঠা এই নগরের পরিত্যক্ত সুরম্য অট্টালিকাগুলোর স্থাপত্যকলা ও নির্মাণশৈলী দেখে প্রাচীন সময়ের অভিজাত জীবনের চিত্র ভেসে ওঠে। প্রাচীন ইটের গাঁথুনি ও শৈল্পিক অলঙ্করণ আমাকে দারুণভাবে আলোড়িত করেছে। বিকেলে মেঘনা নদীর শান্ত বাতাসে কিছু সময় কাটিয়ে সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে আসি। ইতিহাসকে বইয়ের পাতার বাইরে জীবন্ত রূপে দেখার এ অভিজ্ঞতা চিরকাল আমার স্মৃতিতে অম্লান থাকবে।
অথবা, ৮.২. সড়ক দুর্ঘটনা ও তার প্রতিকার বিষয়ে প্রতিবেদন:
সড়ক দুর্ঘটনা ও তার প্রতিকার
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
বর্তমান বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি নিত্যদিনের জাতীয় দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন গণমাধ্যমের পাতায় চোখ রাখলেই চোখে পড়ে মর্মান্তিক সব সড়ক দুর্ঘটনার খবর। এতে অসংখ্য তরতাজা প্রাণ অকালে ঝরে পড়ছে এবং হাজারো মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করে পরিবার ও সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
দুর্ঘটনার কারণসমূহ:
১. অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক দ্বারা যানবাহন চালানো।
২. ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ এবং চালক ও পথচারীদের আইন অমান্য করার প্রবণতা।
৩. বেপরোয়া গতি এবং ওভারটেকিংয়ের অসুস্থ প্রতিযোগিতা।
৪. ত্রুটিযুক্ত, ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল।
৫. অপরিকল্পিত ও ভাঙাচোরা সড়ক ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত জেব্রা ক্রসিং বা ফুটওভার ব্রিজের অভাব।
প্রতিকারের উপায়:
১. লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করা এবং চালকদের পেশাদার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
২. সড়ক ও মহাসড়কে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা।
৩. ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ির চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
৪. সড়ক ও মহাসড়কের নিয়মিত সংস্কার এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডিভাইডার ও পর্যাপ্ত রোড সাইন স্থাপন করা।
৫. সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে পথচারী ও যাত্রীসাধারণের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।
উপসংহারে বলা যায়, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়; পরিবহন মালিক, চালক ও সাধারণ যাত্রী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কেবল এ মরণফাঁদ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও