বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
হয়তোবা ইতিহাসে তোমাদের নাম লেখা রবে না বড় বড় লোকেদের ভিড়ে জ্ঞানী আর গুণীদের আসরেতোমাদের কথা কেউ কবে না, তবু এই বিজয়ী বীর মুক্তিসেনা তোমাদের এই ঋণ কোনোদিন শোধ হবে না।
- ক)(1)
'রেইনকোট' গল্পে পিয়নের নাম কী?
- খ)(2)
'ক্র্যাক ডাউনের রাত' বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
‘‘উদ্দীপকের মুক্তিসেনা যেন 'রেইনকোট' গল্পের মিন্টুকে মনে করিয়ে দেয়’’- বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
“ ‘রেইনকোট' গল্পের মূলভাব উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।”- মন্তব্যটি যাচাই করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'রেইনকোট' গল্পে পিয়নের নাম ইসহাক (ইসহাক মিয়া)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ক্র্যাক ডাউনের রাত' বলতে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাতকে বোঝায়, যেদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ ও সামরিক আক্রমণ 'অপারেশন সার্চলাইট' শুরু করেছিল।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকা শহরসহ সারা দেশে নির্মম গণহত্যা চালায়। তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বাঙালি জাতিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে যে নৃশংস আক্রমণ চালায়, তা-ই ইতিহাসে ক্র্যাক ডাউন নামে পরিচিত। 'রেইনকোট' গল্পে নুরুল হুদার স্মৃতিচারণায় এই বিভীষিকাময় রাতের কথা উঠে এসেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মুক্তিসেনাদের আত্মত্যাগ ও অবদান 'রেইনকোট' গল্পের মুক্তিযোদ্ধা চরিত্র মিন্টুর কর্মকাণ্ড ও চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'রেইনকোট' গল্পে মিন্টু হলো নুরুল হুদার শ্যালক, যে ১৯৭১ সালে দেশকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। মিন্টু তার তরুণ প্রাণকে বাজি রেখে দেশের জন্য যুদ্ধ করতে বাড়ি ছেড়ে চলে যায় এবং মুক্তিবাহিনীর গেরিলা আক্রমণের মাধ্যমে হানাদারদের ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলে। তার মতো সাধারণ তরুণদের আত্মত্যাগের কারণেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পথে এগিয়ে যায়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ইতিহাসে হয়তো এই বীর মুক্তিসেনাদের নাম বড় বড় মানুষের ভিড়ে স্পষ্টভাবে লেখা থাকবে না, জ্ঞানী-গুণীদের আসরে হয়তো তারা আলাদাভাবে আলোচিত হবে না; কিন্তু দেশের জন্য তাদের যে অসীম অবদান ও ঋণ, তা কখনো শোধ হওয়ার নয়। 'রেইনকোট' গল্পের মিন্টুও এমনই এক নাম না-জানা সাধারণ মুক্তিসেনাদের প্রতীক, যারা নিজের জীবনের কথা না ভেবে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য লড়াই করেছে। তাই উদ্দীপকের মুক্তিসেনা যেন 'রেইনকোট' গল্পের মিন্টুকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“‘রেইনকোট’ গল্পের মূলভাব উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।”— মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ নয়; উদ্দীপকে কেবল গল্পের একটি বিশেষ দিক প্রতিফলিত হয়েছে, সামগ্রিক মূলভাব নয়।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'রেইনকোট' গল্পের মূল বিষয় হলো মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নির্যাতন এবং একজন সাধারণ, ভীতু প্রকৃতির কলেজ শিক্ষক নুরুল হুদার মধ্যে দেশপ্রেম ও বীরত্ববোধের জাগরণ। শ্যালক মিন্টুর ফেলে যাওয়া রেইনকোটটি গায়ে জড়িয়ে নুরুল হুদার মধ্যে যে মানসিক রূপান্তর ঘটে, তা তাকে মৃত্যুভয় ও শারীরিক নির্যাতনের ঊর্ধ্বে তুলে এক সাহসী ও দেশপ্রেমিক মানুষে পরিণত করে। রেইনকোটটি এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস, উষ্ণতা ও দেশপ্রেমের প্রতীকে রূপ নেয়।
অন্যদিকে, উদ্দীপকে কেবল আত্মত্যাগী ও নামহীন মুক্তিসেনাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং জাতির পক্ষ থেকে তাঁদের চিরন্তন ঋণের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এটি গল্পের মুক্তিযোদ্ধা মিন্টুর চরিত্রের সঙ্গে মিল রাখলেও গল্পের মূল বিষয়বস্তু—সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর, রেইনকোটের রূপক তাৎপর্য এবং নির্যাতন সহ্য করেও মাথা নত না করার যে চেতনা নুরুল হুদার মধ্যে ফুটে উঠেছে, তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
অতএব, উদ্দীপকটি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধার দিকটি তুলে ধরলেও 'রেইনকোট' গল্পের মূল বক্তব্য ও তাৎপর্যকে পুরোপুরি ধারণ করতে পারেনি। তাই মন্তব্যটি আংশিক সত্য হলেও সামগ্রিকভাবে যথার্থ বলা চলে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও