যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

যুক্তি-১: সক্রেটিস হয় বুদ্ধিজীবী। প্লেটো হয় বুদ্ধিজীবী। এরিস্টটল হয় বুদ্ধিজীবী। সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল হয় দার্শনিক অতএব, সকল দার্শনিক হয় বুদ্ধিজীবী।যুক্তি-২: আমি এ পর্যন্ত যত পাখি দেখেছি তারা সবাই উড়তে পারে অতএব, সকল পাখি উড়তে পারে।

  1. ক)

    আরোহ অনুমান কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সাদৃশ্যানুমানকে প্রকৃত আরোহ বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    যুক্তি-১ এ নিদেশিত আরোহ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    যুক্তি-২ এর যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত বা ঘটনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করার পদ্ধতিকে আরোহ অনুমান বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকৃত আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য হলো আরোহমূলক লম্ফ (Inductive leap), অর্থাৎ জানা থেকে অজানায় বা বিশেষ থেকে সার্বিকে পদার্পণ করা। সাদৃশ্যানুমানে দুটি বস্তুর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য লক্ষ্য করে তাদের মধ্যে অন্য কোনো বিষয়েও সাদৃশ্য থাকবে বলে অনুমান করা হয়। এখানে জানা সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে অজানা বৈশিষ্ট্যের দিকে গমন অর্থাৎ আরোহমূলক লম্ফ উপস্থিত থাকে। তাই সাদৃশ্যানুমানকে প্রকৃত আরোহ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের যুক্তি-১ এ নির্দেশিত আরোহটি হলো 'পূর্ণাঙ্গ আরোহ' বা 'তাত্ত্বিক আরোহ' (Perfect Induction)।

    যে আরোহ অনুমানে একটি সার্বিক বাক্যের অন্তর্গত প্রতিটি বিশেষ দৃষ্টান্ত পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে। যুক্তি-১ এ দার্শনিক হিসেবে কেবল সক্রেটিস, প্লেটো ও এরিস্টটলের কথা বলা হয়েছে এবং প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে 'বুদ্ধিজীবী' গুণটি পর্যবেক্ষণ করে 'সকল দার্শনিক হয় বুদ্ধিজীবী' এই সার্বিক সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে।

    যেহেতু এখানে আলোচ্য শ্রেণির প্রতিটি দৃষ্টান্তকেই একে একে গণনা করা হয়েছে এবং জানা থেকে অজানায় কোনো উত্তরণ বা আরোহমূলক লম্ফ নেই, তাই যুক্তি-১ পূর্ণাঙ্গ আরোহকে নির্দেশ করে। যুক্তিবিদ মিলের মতে, এতে আরোহমূলক লম্ফ না থাকায় এটি কোনো প্রকৃত আরোহ নয়, বরং একটি অপ্রকৃত আরোহ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের যুক্তি-২ এ প্রতিফলিত হয়েছে অবৈজ্ঞানিক আরোহ (Unscientific Induction)। যুক্তিটি হলো: "আমি এ পর্যন্ত যত পাখি দেখেছি তারা সবাই উড়তে পারে, অতএব সকল পাখি উড়তে পারে।"

    যুক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ নিম্নরূপ:
    ১. অবাধ অভিজ্ঞতা ও প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা: এ যুক্তিতে কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়নি। কেবল এযাবৎকালের অবাধ ও নিরবচ্ছিন্ন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে যে সকল পাখি উড়তে পারে।
    ২. আরোহমূলক লম্ফের উপস্থিতি: এখানে কিছুসংখ্যক পাখি পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় এতে আরোহমূলক লম্ফ উপস্থিত রয়েছে।
    ৩. সিদ্ধান্তের সম্ভাব্যতা: অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত নয়, বরং সম্ভাব্য। বাস্তবে কিউই, পেঙ্গুইন, উটপাখি প্রভৃতি এমন বহু পাখি রয়েছে যারা উড়তে পারে না। ফলে 'সকল পাখি উড়তে পারে' সিদ্ধান্তটি বাস্তব ক্ষেত্রে অসত্য প্রমাণিত হয়।

    অতএব, যুক্তি-২ একটি অবৈজ্ঞানিক আরোহ হিসেবে নিয়মগতভাবে গঠিত হলেও একটিমাত্র বিপরীত বা ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্তের দ্বারা এর সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়। সুতরাং, এর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত নয়, কেবল সম্ভাব্য এবং বাস্তবিক ক্ষেত্রে এটি ভ্রান্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন