যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: রহিম হয় মরণশীলকরিম হয় মরণশীলরাম হয় মরণশীলশ্যাম হয় মরণশীলসুতরাং সকল মানুষ হয় মরণশীল।
দৃশ্যকল্প-২: আমাদের অনেক সময় শুধু ব্যতিক্রমহীন দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

  1. ক)

    আরোহ কী?

    (1)
  2. খ)

    আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত কোন ধরনের যুক্তিবাক্য?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ কোন ধরনের আরোহকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ এবং দৃশ্যকল্প-২ এর আরোহের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত বা অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়াকে আরোহ অনুমান বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্তটি সর্বদা একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য হয়। কারণ আরোহ অনুমানে কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করে ওই শ্রেণির সকল বস্তু সম্পর্কে একটি সাধারণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় (সার্বিক) এবং সিদ্ধান্তে বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদ সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রদান করে, যা কেবল উদ্দেশ্যের সংজ্ঞার্থ বিশ্লেষণ নয় (সংশ্লেষক)।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ বৈজ্ঞানিক আরোহকে নির্দেশ করে।

    যে আরোহ অনুমানে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার সাহায্যে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য স্থাপন করা হয়, তাকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে।

    দৃশ্যকল্প-১ এ রহিম, করিম, রাম ও শ্যামের মরণশীলতার মতো কতিপয় বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে 'সকল মানুষ হয় মরণশীল'—এই সার্বিক সংশ্লেষক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে মানুষের জৈবিক গঠন এবং মৃত্যুর মধ্যে অন্তর্নিহিত কার্যকারণ সম্পর্ক ও প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম কার্যকর রয়েছে। তাই এটি বৈজ্ঞানিক আরোহ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ বৈজ্ঞানিক আরোহকে এবং দৃশ্যকল্প-২ অবৈজ্ঞানিক আরোহকে নির্দেশ করে। নিচে এদের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ভিত্তিগত পার্থক্য: বৈজ্ঞানিক আরোহ (দৃশ্যকল্প-১) প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি এবং কার্যকারণ নিয়ম—এই দুইটির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়। পক্ষান্তরে, অবৈজ্ঞানিক আরোহ (দৃশ্যকল্প-২) কেবল অবাধ বা ব্যতিক্রমহীন অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, এতে কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের চেষ্টা থাকে না।

    ২. কার্যকারণ সম্বন্ধ: দৃশ্যকল্প-১ এ মানুষ ও মরণশীলতার মধ্যকার কার্যকারণ সম্বন্ধের ওপর জোর দেওয়া হয়। কিন্তু দৃশ্যকল্প-২ এ কোনো কার্যকারণ সম্বন্ধ আবিষ্কৃত হয় না; কেবল কোনো প্রতিকূল দৃষ্টান্ত দেখা যায়নি বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    ৩. নিশ্চয়তার মাত্রা: বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সুনিশ্চিত ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। অপরদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য; কারণ যেকোনো সময় একটি বিপরীত বা ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত সিদ্ধান্তটিকে বাতিল করে দিতে পারে।

    অতএব, দৃশ্যকল্প-১ এবং দৃশ্যকল্প-২ আরোহ অনুমানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রূপ হলেও কার্যকারণ সম্পর্ক এবং নিশ্চয়তার দিক থেকে দৃশ্যকল্প-১ (বৈজ্ঞানিক আরোহ) দৃশ্যকল্প-২ (অবৈজ্ঞানিক আরোহ) অপেক্ষা অধিক নির্ভরযোগ্য ও উন্নত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন