কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
একাদশ শ্রেণির কৃষিশিক্ষা ক্লাসে জনৈক শিক্ষক 'X' বনের প্রকারভেদ আলোচনা করার সময় নিম্নোক্ত দুই ধরনের প্রাকৃতিক বনের বিশদ বর্ণনা করেন।
বন-১: চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও সিলেটে এ ধরনের বন রয়েছে। এ বনে জুম চাষ ও চা চাষ করা হয়।
বন-২: খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও বরগুনায় এ ধরনের বন রয়েছে। এ বনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী ও গোলপাতা।
- ক)(1)
কৃষিমেলা কী?
- খ)(2)
প্রুনিং করা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে উদ্দীপকের বন-২ কী ধরনের ভূমিকা রাখে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের বন-১ ও বন-২ এর মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষির আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ, সার, যন্ত্রপাতি, উৎপাদিত পণ্য ও কৃষিবিষয়ক তথ্য জনসাধারণের সামনে প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট স্থানে যে সাময়িক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, তাকে কৃষিমেলা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গাছের অবাঞ্ছিত, রোগাক্রান্ত, শুষ্ক বা অতিরিক্ত ডালপালা কেটে ফেলার প্রক্রিয়াকে প্রুনিং বা ছাঁটাইকরণ বলা হয়।
গাছের প্রুনিং করার মূল কারণ হলো:
১. গাছের অভ্যন্তরীণ অংশে আলো-বাতাস প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া, যা রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কমায়।
২. গাছের গুণগত মানসম্পন্ন ও কাঙ্ক্ষিত আকারের ফল ও ফুল উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং গাছকে সুন্দর কাঠামো প্রদান করা। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'বন-২' হলো বাংলাদেশের উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন বা সুন্দরবন (সুন্দরবন ও উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল)। এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে অতন্দ্র প্রহরীর মতো ভূমিকা রাখে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় এর ভূমিকা নিম্নরূপ:
১. ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা হ্রাস: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় (যেমন- সিডর, আইলা, আম্পান) ও জলোচ্ছ্বাসের প্রাথমিক আঘাত সুন্দরবনের ঘন গাছপালা নিজেদের ওপর ধারণ করে বাতাসের গতিবেগ ও ঢেউয়ের উচ্চতা বহুগুণ কমিয়ে দেয়।
২. উপকূলীয় ভাঙন রোধ: সুন্দরী, গেওয়া, গরান ইত্যাদি উদ্ভিদের ঘন শ্বাসমূল (Pneumatophore) ও ঠেসমূল মাটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে রাখে, ফলে জোয়ার-ভাটা ও জলোচ্ছ্বাসের স্রোতে উপকূলের মাটি ক্ষয় বা ভাঙন প্রতিরোধ হয়।
৩. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বায়ো-শিল্ড হিসেবে কাজ: সুন্দরবন একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক ঢাল (Bio-shield) হিসেবে কাজ করে উপকূলীয় জনপদ, কৃষি জমি ও জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি রক্ষা করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'বন-১' হলো পাহাড়ি বন (Hill Forest) এবং 'বন-২' হলো ম্যানগ্রোভ বা উপকূলীয় লবণাক্ত বন (সুন্দরবন)। নিম্নে এদের তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ভৌগোলিক অবস্থান ও বিস্তৃতি:
- বন-১ (পাহাড়ি বন): দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি), সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত।
- বন-২ (ম্যানগ্রোভ বন): দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার উপকূলীয় এলাকায় বিস্তৃত।
২. উদ্ভিদ ও উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:
- পাহাড়ি বন: এটি মূলত ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও আধা-চিরহরিৎ বন। প্রধান উদ্ভিদ গর্জন, চাপালিশ, সেগুন, গামার, তেলসুর, জারুল এবং বাঁশ ও বেত।
- ম্যানগ্রোভ বন: লবণাক্ত ও কাদাময় মাটিতে গঠিত বন। প্রধান উদ্ভিদ সুন্দরী, গেওয়া, গরান, পশুর, কেওড়া ও গোলপাতা। এসব উদ্ভিদে শ্বাসমূল ও ঠেসমূল দেখা যায় এবং জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম ঘটে।
৩. মাটি ও পরিবেশগত অবস্থা:
- পাহাড়ি বনের মাটি উঁচু-নিচু, অম্লীয় ও বালুকাময়-দোআঁশ ধরনের। এখানে জোয়ার-ভাটা হয় না।
- ম্যানগ্রোভ বনের মাটি লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত। দিনে দুবার নিয়মিত জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়।
৪. অর্থনৈতিক ও কৃষি ব্যবহার:
- পাহাড়ি অঞ্চলে জুম চাষ, রাবার চাষ ও চা চাষ ব্যাপকভাবে প্রচলিত এবং ভারী কাঠ আহরণ করা হয়।
- ম্যানগ্রোভ বনে জুম বা সাধারণ কৃষি সম্ভব নয়; এটি গোলপাতা, মধু, মোম ও মাছ আহরণের অন্যতম উৎস।
পরিশেষে, উভয় বনই প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অপরিহার্য ভূমিকা রাখলেও পরিবেশগত গঠন ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও