বাংলা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

যে-কোনো একটি বিষয় করো :

10.1.

সারাংশ লেখো :
সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। এ দুয়ের ভিতর যে আকাশ-পাতাল প্রভেদ আছে, সেইটি ভুলে গেলেই লেখকেরা নিজে খেলা না করে পরের জন্যে খেলনা তৈরি করতে বসেন। সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য যে স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে, তার প্রমাণ বাংলাদেশে আজ দুর্লভ নয়। কাব্যের ঝুমঝুমি, বিজ্ঞানের চুষিকাঠি, দর্শনের বেলুন, রাজনীতির রাঙালাঠি, ইতিহাসের ন্যাকড়ার পুতুল, নীতির টিনের ভেঁপু এবং ধর্মের জয়ঢাক—এইসব জিনিসে সাহিত্যের বাজার ছেয়ে গেছে। সাহিত্যরাজ্যে খেলনা পেয়ে পাঠকের মনতুষ্টি হতে পারে না।

10.2.

ভাবসম্প্রসারণ করো :
পথের প্রান্তে আমার তীর্থ নয়
পথের দু'ধারে আছে মোর দেবালয়।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

১০.১ সারাংশ:

সাহিত্যের মূল লক্ষ্য কেবল পাঠকের ক্ষণিক মনোরঞ্জন করা নয়, বরং সবাইকে বিশুদ্ধ ও নিষ্কলুষ আনন্দ দান করা। সাহিত্যিক যখন নিছক মনোরঞ্জনের তাগিদে সস্তা রুচির উপাদান সৃষ্টি করেন, তখন সাহিত্যের মৌলিক আবেদন বিনষ্ট হয়। বাহ্যিক চটকদার বা চটুল বিষয় দিয়ে কখনো প্রকৃত সাহিত্যের মহৎ উদ্দেশ্য পূরণ হতে পারে না।

অথবা,

১০.২ ভাবসম্প্রসারণ:

পথের প্রান্তে আমার তীর্থ নয়
পথের দু'ধারে আছে মোর দেবালয়।

মূলভাব: কোনো নির্দিষ্ট তীর্থস্থান বা মন্দিরের চার দেয়ালে ঈশ্বর বা পরম সত্য সীমাবদ্ধ নন। মানুষের দৈনন্দিন জীবনপ্রবাহ, চারপাশের জগৎ এবং সৃষ্টির সেবার মাঝেই ঈশ্বরের প্রকৃত সান্নিধ্য নিহিত।

সম্প্রসারিত ভাব: আবহমান কাল ধরে মানুষ বিধাতার করুণা ও সান্নিধ্য লাভের জন্য নির্দিষ্ট মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা দূর-দূরান্তের তীর্থক্ষেত্রে ছুটে যায়। মানুষ মনে করে, সেই নির্দিষ্ট গন্তব্যেই বুঝি ঈশ্বরের প্রকৃত অধিষ্ঠান। কিন্তু এই ধারণা অত্যন্ত সংকীর্ণ। সৃষ্টিকর্তা কোনো বিশেষ সীমানা বা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ নন। সমগ্র মহাবিশ্বই তাঁর লীলাক্ষেত্র এবং মানবসমাজই তাঁর শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।

জীবনের পথচলায় আমাদের চারপাশের মানুষ, প্রকৃতি ও সৃষ্টির প্রতিটি উপাদানের মধ্যেই ঈশ্বরের উপস্থিতি বিদ্যমান। অবহেলিত, ক্ষুধার্ত ও পীড়িত মানুষের মুখেই বিধাতার প্রকাশ ঘটে। তাই পথ চলতে চলতে পথের দুধারে ছড়িয়ে থাকা মানবসমাজের কল্যাণ ও সেবায় আত্মনিয়োগ করাই প্রকৃত ঈশ্বরসাধনা। নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্যের তীর্থে পৌঁছানোর চেয়ে চলার পথের প্রতিটি মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সৃষ্টির আনন্দ উপলব্ধি করাই হলো পরম ধর্মের প্রতিফলন।

মন্তব্য: ঈশ্বরকে পাওয়ার জন্য দূর তীর্থে না ছুটে আমাদের চারপাশের প্রতিটি জীবের সেবায় আত্মনিয়োগ করাই জীবনের শ্রেষ্ঠ ব্রত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন