ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
অধ্যাপক কামরুল সাহেব বলেন সমাজে এমন কিছু লোক আছে যারা সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং নিজেদেরকে সমাজ সংস্কারক মনে করে। অথচ গোপনে তারাই সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়। মূলত, তাদের হৃদয়ে গুরুতর রোগ আছে। অপরদিকে, লাল্টু মিয়া চায়ের দোকানের আড়ালে এমন একটি পণ্য বিক্রি করে যার প্রতি যুবকরা আসক্ত হয়ে পড়েছে। যার ফলে অল্প সময়ে অনেক টাকার মালিক হলেও পারিবারিক অশান্তিতে ভুগছেন।
- ক)(1)
আল-হুরুফুল মুকাত্তআত অর্থ কী
- খ)(2)
ذٰلِكَ الْكِتٰبُ لَا رَيْبَ فِيْهِ আয়াতের ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
অধ্যাপক কামরুলের বক্তব্যে কাদের কথা উঠে এসেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত লাল্টু মিয়ার কর্মকাণ্ডের পরিণতি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আল-হুরুফুল মুকাত্তআত' (الحروف المقطعة) অর্থ বিচ্ছিন্ন বা পৃথক বর্ণমালা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ذٰلِكَ الْكِتٰبُ لَا رَيْبَ فِيْهِ' (যালিকা আল-কিতাবু লা রাইবা ফিহি)-এর অর্থ হলো: 'এ সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই।' (সূরা আল-বাকারাহ: ২)
ব্যাখ্যা: এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, পবিত্র কুরআনুল কারিম সম্পূর্ণ সন্দেহের ঊর্ধ্বে এবং এটি কোনো মানব রচিত গ্রন্থ নয়, বরং স্বয়ং মহান রব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সত্য বাণী। এতে বর্ণিত তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত, হালাল-হারাম এবং হেদায়েত সংক্রান্ত কোনো তথ্যে বিন্দুমাত্র সন্দেহ বা সংশয়ের অবকাশ নেই। এটি বিশ্বাসী ও মুত্তাকিদের জন্য নিখুঁত পথপ্রদর্শক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অধ্যাপক কামরুল সাহেবের বক্তব্যে 'মুনাফিকদের' চরিত্র ও আচরণের কথা ফুটে উঠেছে।
কুরআনুল কারিমের সূরা আল-বাকারার ১১-১২ নম্বর আয়াতে মুনাফিকদের চরিত্র সম্পর্কে বলা হয়েছে—"আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো কেবল সংস্কারক। জেনে রাখ, নিশ্চয় তারাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করে না।" এছাড়া ১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে—"তাদের অন্তরে রয়েছে ব্যাধি। অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।"
উদ্দীপকে অধ্যাপক কামরুল সাহেব সমাজে এমন কিছু লোকের কথা উল্লেখ করেছেন যারা সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা ছড়ায় অথচ নিজেদের সংস্কারক দাবি করে এবং তাদের অন্তরে গুরুতর রোগ রয়েছে। এটি সরাসরি কুরআনে বর্ণিত মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্যের সাথে হুবহু মিলে যায়। তারা বাইরে নিজেদের শান্তি ও সংশোধনকামী হিসেবে জাহির করলেও গোপনে সমাজে ফিতনা-ফাসাদ ও সন্ত্রাসে মদদ জোগায়। অতএব, অধ্যাপক কামরুলের বক্তব্যে মুনাফিকদের চিত্রই প্রতিভাত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত লাল্টু মিয়ার কর্মকাণ্ড মাদকদ্রব্য বা নেশাজাতীয় পণ্যের ব্যবসার ইঙ্গিত বহন করে, যার পরিণতি ইহকাল ও পরকালে অত্যন্ত ভয়াবহ।
ইসলামে সকল প্রকার নেশাজাতীয় দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়, উৎপাদন ও সেবনকে সম্পূর্ণরূপে হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—"প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তুই মদ এবং প্রত্যেক মদই হারাম" (সহিহ মুসলিম)। অন্য একটি হাদিসে রাসুল (সা.) মদের সাথে জড়িত ১০ শ্রেণির ব্যক্তির ওপর অভিশাপ (লানত) দিয়েছেন, যার মধ্যে বিক্রেতা এবং পরিবেশনকারীও অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে লাল্টু মিয়া চায়ের দোকানের আড়ালে যুবসমাজকে ধ্বংসকারী নেশাজাতীয় দ্রব্য বিক্রি করে হারাম উপায়ে দ্রুত সম্পদ অর্জন করলেও তার পরিবারে নেমে এসেছে অশান্তি। হারাম উপার্জনের কোনো বরকত থাকে না। দুনিয়াতে তা পারিবারিক অশান্তি, অপমান ও মানসিক অস্থিরতার কারণ হয়। আর পরকালে হারাম উপার্জনের মাধ্যমে গঠিত দেহের ঠিকানা হবে জাহান্নামের অগ্নি। হাদিসে এসেছে, "যে দেহ হারাম খাদ্য দ্বারা গঠিত হয়েছে, তা জাহান্নামের জন্য বেশি উপযোগী" (তিরমিযী)। উপরন্তু, যুবসমাজকে বিপথগামী ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার পাপের দায়ভারও লাল্টু মিয়ার ওপর বর্তাবে। সুতরাং, লাল্টু মিয়ার এই কর্মকাণ্ডের পার্থিব পরিণতি লাঞ্ছনা ও অশান্তি এবং পরলৌকিক পরিণতি জাহান্নামের কঠিন শাস্তি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও