সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
তাহমিদ সাহেব একজন সমাজসেবক। তিনি সমাজের পিতৃ-মাতৃহীন শিশুদের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেখানে তাদের আবাসন ব্যবস্থাসহ খাবার এবং লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া তাহমিদ সাহেব এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন যেখানে কৃষকদের উদ্বৃত্ত ফসল জমা করে তা দিয়ে দুঃসময়ে অভাবগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করা যাবে।
- ক)(1)
সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইন কত সালে প্রণীত হয়?
- খ)(2)
জাকাত বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
তাহমিদ সাহেব কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রথম প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব তৎকালীন সময়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইন ১৮২৯ সালে (১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর) প্রণীত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাকাত হলো ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম একটি স্তম্ভ। ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক নেসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন স্বাধীন মুসলিমের জন্য তার উদ্বৃত্ত সম্পদের শতকরা আড়াই ভাগ (২.৫০%) নির্ধারিত আটটি খাতের অভাবী ও দুস্থ ব্যক্তিদের মাঝে বণ্টন করাকে জাকাত বলে। এটি দরিদ্রের অধিকার এবং সামাজিক অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তাহমিদ সাহেব কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রথম প্রতিষ্ঠানটি হলো 'এতিমখানা' (Orphanage)। পিতৃ-মাতৃহীন ও পরিবারহীন অনাথ শিশুদের আশ্রয়, খাদ্য ও শিক্ষার ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
সমাজকল্যাণে এতিমখানার গুরুত্ব নিম্নরূপ:
১. মৌলিক চাহিদা পূরণ: পিতৃ-মাতৃহীন শিশুদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করে এতিমখানা তাদের বেঁচে থাকার পথ সুগম করে।
২. শিক্ষা ও পুনর্বাসন: এখানে শিশুদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রদান করা হয়, যা তাদের ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করে।
৩. সামাজিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা: পরিবারহীন শিশুরা সহজে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও শোষণের শিকার হতে পারে। এতিমখানা তাদের স্নেহময় ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে রেখে নিরাপত্তা প্রদান করে।
৪. নৈতিক ও সামাজিক বিকাশ: এতিমখানায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করে শিশুদের সুস্থ ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে তাহমিদ সাহেবের ইঙ্গিতকৃত দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানটি হলো ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান 'ধর্মগোলা'।
তৎকালীন কৃষিভিত্তিক ও দুর্ভিক্ষপীড়িত গ্রামীণ সমাজের প্রেক্ষাপটে ধর্মগোলার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম:
১. খরা ও দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা: তৎকালীন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা বা খরার কারণে ফসলের ক্ষতি হলে চরম খাদ্যসংকট দেখা দিত। ধর্মগোলায় জমাকৃত উদ্বৃত্ত শস্য আপৎকালীন সময়ে মানুষের ক্ষুধা নিবারণে প্রধান অবলম্বন ছিল।
২. মহাজনদের শোষণ থেকে মুক্তি: সে যুগে অভাবের সময়ে কৃষকেরা উচ্চ সুদে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হতো এবং শোষণ-নিপীড়নের শিকার হতো। ধর্মগোলা স্বল্প শর্তে বা বিনা সুদে কৃষকদের খাদ্য ও বীজ শস্য দিয়ে এ শোষণ থেকে রক্ষা করত।
৩. সামাজিক নিরাপত্তা বিধান: দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ধর্মগোলা একটি ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করত, যা তাদের চরম দারিদ্র্য ও অনাহার থেকে রক্ষা করত।
৪. পারস্পরিক সহযোগিতা ও একতা বৃদ্ধি: কৃষকরা তাদের উদ্বৃত্ত ফসল স্বেচ্ছায় একটি সাধারণ শস্যভাণ্ডারে জমা রাখার ফলে গ্রামীণ সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সংহতি ও সমবায়মূলক মনোভাব সুদৃঢ় হতো।পরিশেষে বলা যায়, তৎকালীন গ্রামীণ আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে দুর্ভিক্ষ ও চরম দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়তে ধর্মগোলা একটি অত্যন্ত কার্যকর ও সময়োপযোগী সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে ভূমিকা রেখেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও