পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
নাফিসা রহমান একটি দেশের সরকারি চাকরিজীবী। তিনি সেই দেশের সাংবিধানিক পদে আছেন। যে পদে থেকে তিনি দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি তাঁর সরকারি চাকরির শেষ বয়স পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকেন।
- ক)(1)
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার পদ কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন কীভাবে গঠিত হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত নাফিসা রহমান কোন ধরনের সাংবিধানিক পদে আছেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে মিল রয়েছে এমন পদের সঠিক দায়িত্ব পালনের ফলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে- তুমি কি একমত? যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার পদ হলো অ্যাটর্নি জেনারেল (Attorney General)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি একজন সভাপতি এবং আইনের দ্বারা যেরূপ নির্ধারিত হবে সেরূপ অন্যান্য সদস্য নিয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) গঠন করেন। সংবিধান অনুযায়ী সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন এবং সদস্যদের অন্তত অর্ধেক সদস্য এমন ব্যক্তি হবেন যাঁরা কমপক্ষে ২০ বছর সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত নাফিসা রহমান বাংলাদেশের 'মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক' (Comptroller and Auditor General বা CAG) পদে অধিষ্ঠিত আছেন।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশে একজন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক থাকবেন, যিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন। সংবিধানের ১২৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে তিনি প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাব এবং সকল আদালত, কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তার হিসাব নিরীক্ষা করেন ও অনুরূপ হিসাব সম্পর্কে রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। সংবিধানের ১২৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁর অবসরের বয়স ৬৫ বছর (বা আইনের দ্বারা নির্ধারিত বয়স) পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকেন।
উদ্দীপকের নাফিসা রহমান সাংবিধানিক পদে থেকে দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করেন, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ পান এবং সরকারি চাকরির নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত বহাল থাকেন। এই বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকৃত মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক পদের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে মিল রয়েছে এমন পদ অর্থাৎ মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (CAG) সঠিক দায়িত্ব পালনের ফলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে— এই বক্তব্যের সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক হলেন রাষ্ট্রের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মূল সাংবিধানিক অভিভাবক। প্রজাতন্ত্রের হিসাব সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ে তাঁর নিরীক্ষা করার এবং প্রতিবেদন দাখিল করার একক সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। সরকারের আয়-ব্যয় জাতীয় সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত বাজেট ও আর্থিক বিধিবিধান অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা যাচাই করা তাঁর প্রধান কাজ।
তিনি যদি স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তবে সরকারি তহবিল তছরুপ, অপচয়, দুর্নীতি এবং নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেন চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। তাঁর প্রস্তুতকৃত অডিট রিপোর্ট রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে জাতীয় সংসদে পেশ করা হয় এবং সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি (Public Accounts Committee) সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আর্থিক বিষয়ে অধিক সতর্ক ও দায়িত্বশীল হন।
সুতরাং, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের পদটি যথাযথ ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় রোধ হয়, আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও